|
||||||||||||||||||||||||||||
স্ত্রী লি হুই চিয়ার সঙ্গে বিয়ের পর এ্যাং লী'র ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত তার কোন চাকরি ছিলোনা। গোটা পরিবারের ব্যয়-ভার স্ত্রীর স্বল্প বেতনের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এ্যাং লী চলচ্চিত্র ছেড়ে কম্পিউটার শিখতে চেয়েছিলেন যাতে কিছু আয় রোজগার করে সংসার চালানো যায় এই আশায়। কিন্তু স্ত্রী সবসময় তাঁকে সমর্থন দিয়েছেন, তাকে এক মূহুর্তের জন্যও তাঁর স্বপ্ন থেকে দূরে সরে যেতে দেয়নি। একদিন সকালে স্ত্রীর অফিসে যাওয়ার আগে এ্যাং লীকে বলেন- 'আন, তোমার মনের স্বপ্নটি ধরে রাখো, এটাকে হত্যা করোনা'।
এ্যাং লী নিজের সাফল্য দিয়ে স্ত্রীর কথাটিকে সত্য করে তুললেন, আর প্রমাণ করলেন যে, প্রত্যেক সফল পুরুষের পিছনে একজন মহান স্ত্রী রয়েছে। লি হুই চিয়া দৃশ্যের অন্তরালে থেকেই পরিচালক স্বামীকে পরিচালনার মহত দায়িত্বটি পালন করে গেছেন, কোন কিছুর প্রতিদানে নয়, কেবল ভালবাসার শক্তি দিয়েই তিনি এই দায়িত্বটি পালন করেন। তাই প্রতিবার পুরস্কার গ্রহন করার সময়ে এ্যাং লীও তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কখনোই স্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে ভুল করেন না।
অনেক চলচ্চিত্র পরিচালকের তুলনায় এ্যাং লী'র চলচিত্রের সংখ্যা বেশি নয়। কিন্তু গুণগত-মান আর শৈল্পিক উত্কর্ষে তাঁর প্রতিটি চলচ্চিত্রই ব্যাপক সাড়া জাগাতে পেরেছে।
চীনের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা লাভ করা, পশ্চাত্ব্যের সংস্কৃতির সম্যক ধারণা অর্জন করা আর সবোর্পরি একজন ভালো মনের মেয়ের সাথে বিয়ে হওয়া আর তার সাথে স্বপ্ন পূরণে দৃঢ় প্রত্যয় অর্জন করা এবং দীর্ঘ বছর করে একটি চলচ্চিত্র শুটিং করার শান্ত ও স্থির মেজাজ ধরে রাখা এ সবকিছুই হলো এ্যাং লী সাফল্য গাঁথার মূল শক্তি। এ্যাং লী'র সাফল্য থেকেই আমরা বুঝতে পারি যে, চলচ্চিত্র কোন সংস্কৃতি-সীমানায় আবদ্ধ থাকে না। যে ছবি দর্শকদেরকে মুগ্ধ করে সেটাই মহত্ শিল্পকর্ম আর সেটা সবার।


| © China Radio International.CRI. All Rights Reserved. 16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040 |