Web bengali.cri.cn   
প্রাচীন চা-অশ্ব পথের অনুসন্ধান
  2011-12-27 13:32:46  cri

সিছুয়ান প্রদেশের উত্তরপশ্চিম মালভূমিতে অবস্থিত সোংপান পুরনো শহর চা ও ঘোড়া বিনিময় ব্যবসার কেন্দ্র ছিল। প্রাচীনকালের ঘোড়াদলের গল্প হয়তো মানুষের স্মৃতিতে ঝাপসা হয়ে গেছে। কিন্তু সোংপান শহরে এখনও ঘোড়ার দল দেখা যায়। এ দলগুলো মূলত প্রাচীন চা-অশ্ব পথ ভ্রমণকারী পর্যটকদের সেবায় নিয়োজিত।

কুওছাং হলেন সোংপান জেলার শুনচিয়াং গ্রামের একজন অধিবাসী। গত আশির দশকে তিনি প্রথম সুইজারল্যান্ডের একজন পর্যটককে সেবা দেন। এরপর অন্য গ্রামবাসীদের সঙ্গে মিলে তিনি বিদেশি পর্যটকদেরকে ঘোড়া চড়ার সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি শতাধিক পথ নির্দেশকদের সমন্বয়ে গঠিত ঘোড়াদলের ব্যবস্থাপক। তার ঘোড়ারদল অনেক বিদেশি পর্যটকের ঘোড়ায় চড়ে তুষার-পাহাড়ে প্রবেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছে।

"আমাদের নিজেদের কোনও ওয়েবসাইট নেই। কিন্তু বিদেশি পর্যটকরা মুখে মুখে আমাদের ঘোড়াদলের গল্প বলে। তারা মনে করে আমাদের ঘোড়াদলের সেবা খুবই ভালো। 'লোনলি প্লানেট' গ্রন্থে সোংপান জেলায় শুধু আমাদের শুনচিয়াং ঘোড়াদলের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। সব বিদেশি পর্যটকের হাতে এ বইটি থাকে।"

শুনচিয়াং ঘোড়াদল বিশ্ববিখ্যাত হয়েছে। কুও ছাং ৫ লক্ষাধিক ইউয়ানের বেশি বিনিয়োগ করে 'সুখী পথ' নামক ঘোড়াদলের ব্যবস্থাপকের সঙ্গে যৌথভাবে একটি যুবক হোস্টেল গড়ে তুলেছেন।

"আমরা জানি বিদেশি পর্যটকরা স্বনির্ভর ভ্রমণ পছন্দ করে। তারা নিজে নিজে কাপড় ধুয়ে নেয়। এর আগে আমরা শুনচিয়াং স্বনির্ভর হোস্টেল স্থাপন করি। 'লোনলি প্লানেট' বইয়েও আমাদের কথা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। সবাই আমাদের পরিসেবা সম্পর্কে জানে। তারা বড় ব্যাগ নিয়ে হোস্টেলে আসে। ইতিপূর্বে গ্রিস, ব্রাজিল ও আইসল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটক এখানে এসেছে।"

পুরনো প্রাচীন চা-অশ্ব পথে এখনও ঘোড়াদল দেখা যায়। ঘোড়ার ঘন্টা ও মানুষের গান মিশে যেন একাকার হয়ে যায়। হাজার বছরের ইতিহাস ধরে রাখা ঘোড়াদল প্রাচীন চা-অশ্ব পথের গল্প এগিয়ে নিয়ে যায়।

বিশ বছরে কুওছাং ও তাঁর শুনচিয়াং ঘোড়াদলের পথ নির্দেশকরা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বন্ধুদের নিয়ে আনন্দিতভাবে জন্মস্থানের দৃশ্য উপভোগ করে। তারা বিদেশি পর্যটকদের জন্য ঘোড়াদলের বিবাহ অনুষ্ঠান আয়োজন করে।

বর্তমানে সিছুয়ান তিব্বত সড়কে চা পরিবহন গাড়ি ছাড়াও হেঁটে হেঁটে প্রার্থনাকারীদের দেখা যায়। তারা উপুড় হয়ে পড়ে প্রার্থনা করে। প্রার্থনাকারীদের জন্য এটি একটি আন্তরিক শুভকামনা প্রার্থনার পথ এবং চিত্ত পরীক্ষা করে তপস্যার পথ।

বর্তমানে বাহকদের ছায়া আর দেখা যায় না; সুকণ্ঠ ইটের ঘন্টাও বিলুপ্ত হচ্ছে। তবে পুরনো পথে বজায় রাখা পূর্বপুরুষদের পায়ের ও ঘোড়ার ছায়া সত্যিকারে ছিল। এসব দৃশ্য রেশমপথের মতো এশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে চমত্কার ও মহান ব্যবসার গল্প মানুষের কাছে বর্ণনা করে। (সুবর্ণা/এসআর)


1 2 3 4
সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন
মন্তব্যের পাতা
ভিডিও চিত্র
সাক্ষাত্কার
চিঠিপত্র
Play Stop
© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040