|
প্রাচীনকালের কিংবদন্তি অনুসারে, অনেক অনেক দিন আগে তোংশেং মহাদেশে আওলাই নামে এক রাজ্য ছিল। ওই রাজ্যের পশ্চিম দিকের সাগরের মাঝখানে ছিল ফূলে-ফুলে ছাওয়া এক পাহাড়। আর সেই পাহাড়ের চূড়ায় ছিল প্রকাণ্ড একটি অলৌকিক পথরের চাঁই। সেই পাথরের চাঁই থেকে উজ্জ্বল আলো বিচ্ছুরিত হতো।
সৃষ্টির আদিকাল থেকে সেই পথরের চাঁই সূর্যের আলো ও চাঁদের কিরণ থেকে উত্তাপ নিয়ে নিজেকে গরম রাখতো; ভোরের শিশির আর বর্ষার পানিতে স্নান করতো। এমনি করে কেটে গিয়েছিল বহু যুগ। তারপর সেই পাথরের চাঁইয়ের মধ্যে অঙ্কুরিত হলো জীবের প্রাণ। অবশেষে, একদিন হঠাত্ পথরের চাঁইটি প্রচণ্ড শব্দে ফেটে দু'ভাগ হয়ে গেল। তার ভেতর থেকে গড়িয়ে বেরিয়ে এলো একটি পাথরের ডিম। বাতাসের স্পর্শে তা একটি বানরে পরিণত হল। বানরটি পাথরের, কিন্তু জীবন্ত।
পৃথিবীতে পা দিয়েই পাথরের সেই বানর চোখ পিটপিট করে চারদিক দেখতে লাগল আর হামাগুড়ি দিয়ে চলতে লাগল। একটু পরে সে হাঁটতেও শিখলো। এবার আর তাকে পায় কে? লতা ধরে ঝুলে ঝুলে সে এ গাছ থেকে ও গাছে লাফিয়ে বেড়ায়। তেষ্টা পেলে সে ঝরনার পানি খায়, আর খিদে পেলে গাছের ফল খায়।
একদল বানরসঙ্গীও জুটে গেল তার। একদিন, বানরের দল পাহাড়ের শেষ প্রান্তে এসে দেখল সামনের পাহাড় থেকে বিরাট জলপ্রপাত ঝাপিয়ে পড়ছে। দেখে মনে হয় যেন একটা বিরাট পানির পর্দা। এক বৃদ্ধ বানর চিত্কার করে সবাইকে বললো, "দেখি তোমাদের মধ্যে কার এমন বুকের পাটা যে ঐ পানির ভেতরে ঢুকে আবার বেরিয়ে আসতে পারো। যে পারবে, আমরা তাকে আমাদের রাজা বানাব!"
বৃদ্ধ বানর পরপর তিনবার একই কথা ঘোষণা করলো। কিন্তু কেউই এগিয়ে আসতে সাহস করলো না। শুধু এ-ওর মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে লাগলো। এমন সময় বানরদের মাঝখান থেকে লাফিয়ে বেরিয়ে এলো পাথরের সেই বানর। " আমি যাচ্ছি!" বলেই সে এক লাফে ঐ জলপ্রাপাত ভেদ করে ভেতরে চলে গেলো।
আচ্ছা! বন্ধুরা, আগামী আসরে আমরা সুন উখোং'র জন্মকথার পরবর্তী অংশ আপনাদেরকে শোনাবো। আমি আকাশ, পেইচিং থেকে আপনাদের সুখ ও সমৃদ্ধি কমনা করছি। চাই চিয়ান!
![]() |
© China Radio International.CRI. All Rights Reserved. 16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040 |