|
||||||||||||||||||||||||||||
বিভিন্ন ঋতুতে ছিংহাই হ্রদের ভিন্ন ভিন্ন দৃশ্য দেখা যায়। গ্রীষ্মকালে যখন কাছাকাছি উঁচু পাহাড় এবং পশ্চিম তীরের বিশাল মালভূমি সবুজ হয়, তখন ছিংহাই হ্রদের দৃশ্য হয় অত্যন্ত মনোরম। হাজার মাইলের মালভূমি একটি স্হূল সবুজ ঘোড়ার গাত্রাবরণ সুগম করার মতো। বহুবর্ণের বন্য ফুল সবুজ ঘোড়ার গাত্রাবরণটি যেন সুসজ্জিত করে রেখেছে। অসংখ্য গরু, ছাগল ও ঘোড়া নানা রঙের মুক্তার মতো মালভূমিতে পড়েছে। হ্রদের তীরে ছবির মতো কৃষিভূমিতে গম ফেনার মতো এবং ফুলকপি সোনালী রঙ। সুগন্ধ চার দিকে ছড়িয়ে যায়। শীত্কালে যখন শীত পড়ে তখন চার দিকের পাহাড়গুলো ও তৃণভূমি শুকনো ও হলুদ হয়ে যায়। মাঝেমাঝে একটি স্হূল রুপালী কাপড় পরে। প্রতি বছরের নভেম্বর মাসে ছিংহাই হ্রদ ফ্রীজ হবে। সে সময় ছিংহাই হ্রদ দেখতে মনে হবে একটি বিশাল আয়নার মতো। সুর্যের নিচে খুবই উজ্জ্বল। সারা দিন উজ্জ্বল আলো পড়ে।

প্রতি বছরের গ্রীষ্মকাল ও শরত্কাল হচ্ছে ছিংহাই হ্রদ ভ্রমণের শ্রেষ্ঠ ঋতু। শানসি প্রদেশের পর্যটক ওয়াং ফেং বলেছেন, ছিংহাই হ্রদে আসা তার দীর্ঘকালের স্বপ্ন। তিনি বলেন,
আমি শুনেছি, ছিংহাই হ্রদ দেখতে খুবই সুন্দর। সুন্দর ছিংহাই হ্রদ ছাড়া আরো রয়েছে থা আর মন্দির। এখানে আসার পর মনটা খুবই ভালো হয়েছে। নীল আকাশ, নীল হ্রদ ও সবুজ পাহাড় দেখার পর মনটা আরো ভরে গেছে। ছিংহাই'র বন্ধুরা খুবই অতিথিবত্সল। এছাড়া মনে হয় এখানকার পরিবেশ খুবই পরিষ্কার ও সুন্দর। দৃশ্য মনোরম, আবহাওয়াও ভালো। পর্যটন ও থাকার জন্য যথাযথ।
ছিংহাই হ্রদে ৫টি ছোট দ্বীপ আছে। তা হলোঃ তান দ্বীপ, হাইসিপি, হাইসিনশান, শা দ্বীপ, সানখুয়াইশি অর্থাত তিনটি পাথর দ্বীপ। তা দেখতে হ্রদে ভাসমান ৫টি নৌকার মতো। বিভিন্ন আকারের কারণে এ দ্বীপে নিজেদের বৈশিষ্ট্যময় দৃশ্য গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত দ্বীপটি হলো পাখির দ্বীপ। এর আয়তন শুধু ০.৫ বর্গকিলোমিটার। বসন্তকাল ও গ্রীষ্মকালে ১ লাখেরও বেশি পাখি এখানে বসবাস করে। হাজার হাজার পাখি এক সাথে উড়ে যাওয়ার দৃশ্য অত্যন্ত সমারোহময়।

ছিংহাই হ্রদ যে শুধু একটি অদ্ভূত পর্যটন স্থান তা নয়, বরং সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তোলার বিরাট মূল্যবান হ্রদ। চীন সরকার ছিংহাই হ্রদের ওপর বেশ কয়েক বার বহুমুখী পর্যবেক্ষণ চালিয়েছে এবং আবিষ্কার করেছে যে, ছিংহাই হ্রদে সমৃদ্ধ খনিজ সম্পদ রয়েছে। এছাড়া তা উত্তর-পশ্চিম চীনের বৃহত্তম প্রাকৃতিক মাছের ভান্ডার।
এখানে বসবাস করা হান, তিব্বত ও মঙ্গোলিয়াসহ বিভিন্ন জাতির জনগণ সম্প্রীতির মাধ্যমে এক সঙ্গে বিশাল এই মূল্যবান হ্রদ সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও নির্মাণ করেন। ছিংহাই হ্রদের সৌন্দর্য্য হাজার হাজার পর্যটককে আকর্ষণ করছে এবং দেশী-বিদেশী পর্যটকের মিলিত হওয়ার দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। পার্বত্য পর্যটন ব্রত উন্নয়ন করার জন্য ছিংহাই-এর পর্যটন বিভাগ ছিংহাই হ্রদে পর্যটন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে। সুতরাং পর্যটকরা এখানকার পার্বত্য পশুচারণের দৃশ্য উপভোগ করার পাশাপাশি ঘোড়া ও চমরী গাই-এ চড়া, তৃণভূমি ভ্রমণ, বালিয়াড়ি আরোহণ এবং পশুপালকদের বাসা পরিদর্শন আর তিব্বত জাতির পশুপালকদের সামাজিক রীতিনীতি উপভোগ করতে পারেন। চারণভূমিতে বিশেষ করে পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের তাঁবু তৈরী করা হয়েছে। এছাড়া পর্যটকদের জন্য দুধ চা, ফ্রাইড নুডলস এবং ছিংখে মদ সরবরাহ করা হয়।


| © China Radio International.CRI. All Rights Reserved. 16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040 |