Web bengali.cri.cn   
আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব প্রদান বোয়াও এশিয়া ফোরামে
  2013-04-28 14:51:46  cri

বোয়াও এশিয়া ফোরামের ২০১৩ সালের তিন দিনব্যাপী বার্ষিক সম্মেলন ৮ এপ্রিল রাতে শেষ হয়েছে। এবারের সম্মেলন এশিয়ার অর্থনৈতিক ঐক্যকে এগিয়ে নেওয়ার ভিত্তিতে অঞ্চলের বাইরে আরো বেশি দৃষ্টি দিয়েছে। বিশ্বের পাঁচটি মহাদেশের রাজনীতিবিদ ফোরাম চলাকালে নবোদিত অর্থনৈতিক সত্তার গতিবেগ হারানো, লাতিন আমেরিকার আবার রূপান্তর, আফ্রিকা মহাদেশের নতুন উত্থান এবং শিল্পোন্নত অর্থনৈতিক সত্তাগুলোর পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াসহ বিশ্ব ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

এবারের বার্ষিক সম্মেলনে অনেক বিশেষজ্ঞ উল্লেখ করেন, নবোদিত অর্থনৈতিক সত্তাগুলোর উচিত অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পদ্ধতি রূপান্তর করা, কল্পিত অর্থনীতি ও বাস্তব অর্থনীতির সম্পর্ককে ভারসাম্য করা এবং নবোদিত অর্থনৈতিক সত্তাগুলোর সহযোগিতা নিরন্তরভাবে জোরদার করা।

অবকাঠামো নির্মাণের অর্থ ঘাটতি নিরসনে একটি বহুপক্ষীয় আর্থিক সংস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশগুলোকে প্রস্তাব দেন ফোরামে চীনের প্রধান প্রতিনিধি জেন পেই ইয়ান।

চীনের সমাজ বিজ্ঞান একাডেমির অর্থনীতি গবেষণালয়ের সহকারী গবেষক লিন ইউয়ে ছিন বলেন, "এখন নবোদিত অর্থনৈতিক সত্তাগুলো অনিবার্য রূপান্তরের ভারের সম্মুখীন হচ্ছে। চীন ও ভারতের প্রতিনিধিত্বশীল নিম্ন পর্যায়ের উত্পাদন শিল্পের রপ্তানি বৃদ্ধি আর রাশিয়া ও ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্বশীল কাঁচামাল রপ্তানির বৃদ্ধি থেকে উচ্চ মূল্য সংযোজন পণ্য উত্পাদন করা এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা সম্প্রসারণ করার পদ্ধতিতে রূপান্তর করতে হবে।"

এবারের বোয়াও ফোরামে নতুন আয়োজিত লাতিন আমেরিকা ফোরামে পেরুর প্রেসিডেন্ট ওল্লানতা হুমালা তাসো এবং মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট এনরিখ পেনা নিয়েতো উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা বোয়াও ফোরামের সুযোগে এশিয়ার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে চান। তাঁরা আরো ব্যাপক সহযোগিতার ক্ষেত্র-অন্তর্ভুক্ত 'একবিংশ শতাব্দির কার্যতালিকা' প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট পেনা নিয়েতো বলেন, এশিয়া নিজের সংস্কার ও সহযোগিতা খাতের প্রয়াসের মাধ্যমে বিশ্বের ভারসাম্য প্রক্রিয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদানে পরিণত হয়েছে। লাতিন আমেরিকার অর্থনীতির ভালো নৈপুণ্যের অনেক মাত্রায় এশীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে।

পেরুর প্রেসিডেন্ট হুমালা প্রস্তাব করেন, এশিয়া ও লাটিন আমেরিকার মধ্যে একটি 'একবিংশ শতাব্দির কার্যতালিকা' প্রতিষ্ঠা করা উচিত। এর বিষয়বস্তুর মধ্যে নানা ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যেমন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির হস্তান্তর, গণপ্রশিক্ষণ, শিক্ষা খাতের বৃত্তি প্রদান, উত্পাদন বিভাগ আর অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অর্থনীতির পারস্পরিক পরিপূরকতা অন্বেষণ করা, জোরালোভাবে মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিকাশ এগিয়ে নেওয়া ইত্যাদি।

কিছু দিন আগে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের আফ্রিকা সফরের ফলে চীনের হাইনান প্রদেশের ছোট নগর বোয়াওতেও আফ্রিকার বাতাস লেগেছে। অনেক অতিথি মনে করেন, চীন ও আফ্রিকার দিন দিন ঘনিষ্ঠ হওয়া সহযোগিতা আফ্রিকার উত্থানের পথ উজ্জ্বল করছে।

আলজেরিয়ার জাতীয় সভার স্পিকার বেন সালাহ বলেন, আফ্রিকায় সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক ও মানবসম্পদ আছে। আফ্রিকা বিশ্ব অর্থনীতি সম্প্রসারণ আর পারস্পরিক উপকারিতামূলক ও সকলের কল্যাণমূলক সহযোগিতার জন্য বিরল সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এ রকম সহযোগিতা এশিয়া থেকে শুরু হয়েছে।

চীনের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিনিময় কেন্দ্রের মহাসচিব ওয়েন চিয়ান কুও বলেন, "আফ্রিকান জনগণ কয়েক দশক ধরে বাস্তব অনুশীলনের পর উপলব্ধি করেছেন যে, চীনের বিনা রাজনৈতিক শর্তের সাহায্যদান আফ্রিকার উন্নয়নে আসল ফল সৃষ্টি করেছে। চীনের নিঃস্বার্থ সহায়তা আন্তরিক ও নির্ভরযোগ্য।"

ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট সৌলি নিনিস্তো ফোরামে বলেন, মাত্র বিশ বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে চীন ও ইউরোপের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্কের অন্যতমে পরিণত হয়েছে। বিশ্বায়নের পটভুমিতে ইউরোপ ও এশিয়া আর কেবল দুটি সুদূর ও অপরিচিত মহাদেশ নয়, বরং যৌথভাবে অনেক বৈশ্বিক সমস্যা মোকাবিলার মূল্যবান অংশীদার হয়েছে। (ইয়ু/এসআর)

মন্তব্য
লিঙ্ক