|
দু হাজার নয় সালের শেষ দিকে গ্রিসে যে ঋণ সংকটের সূচনা হয়েছিল পরবর্তীকালে তা ছড়িয়ে পড়তে থাকে অঞ্চলের অভিন্ন মুদ্রা ব্যবহারকারী ইউরো অঞ্চলের অন্যান্য দেশেও; ঝুঁকির মধ্যে ফেলে গোটা ইউরোপ তথা গোটা বিশ্বের অর্থনীতিকে।
কিভাবে এ সংকট থেকে বেরিয়ে আসা যায় তা খুঁজে বের করতে ইউরোপীয় নেতারা চালিয়ে যাচ্ছেন সর্বাত্মক চেষ্টা। এর ধারাবাহিকতায় ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জার্মানি ও ফ্রান্সের সরকারপ্রধানরা প্যারিসে সপ্তাহব্যাপী এক বৈঠকে বসেছেন। বৈঠকে তারা ঋণ বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে ইউরো অঞ্চলের বাজেট নিয়ন্ত্রণ এবং এ জোটের ভাঙন ঠেকানোর উপায় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করছেন।
জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি গত সপ্তাহে এ অঞ্চলের আর্থিক খাতে সমন্বিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের পৃথক রূপরেখা নির্ধারণ করেছেন। তবে তাদের প্রস্তাবিত উদ্যোগের বিষয়ে মতপার্থক্য দূর করতে আরও কাজ করা প্রয়োজন। এজন্য আগামী ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতাদের বৈঠকের আগে তারা নিজেরা আলোচনা শুরু করেন।
বিশ্লেষকরা আশা করছেন, মার্কেল-সারকোজি বৈঠকে ইউরো অঞ্চলের বাজেটে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে অবদান তো রাখবেই,পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন চুক্তির পরিবর্তনে তাদের মতপার্থক্য কমাতে ভূমিকা রাখবে।
তারা বলছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্মেলন অঞ্চলের ভাগ্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে; ইইউ নেতাদের এ সপ্তাহের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করবে ইউরো অঞ্চলের ভবিষ্যত্। অঞ্চলের নেতারা সঙ্কট থেকে উত্তরণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে এমন সংবাদে ইতোমধ্যে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পুঁজিবাজার।
এর আগে প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ঋণ সংকটের কারণে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ইউরো অঞ্চলের প্রবৃদ্ধির হার স্থবির হয়ে পড়ে; সেখানকার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জার্মানি ও ফ্রান্সে আশানুরূপ প্রবৃদ্ধি হওয়া সত্ত্বেও। পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, ঋণ সঙ্কটের দ্বারপ্রান্তে থাকা অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর চরম খারাপ অবস্থার কারণে এ অঞ্চলের ভবিষ্যত্ আরও অন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে আগামী দিনগুলোতে।
ওই পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে, অর্থাত্ জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে, জার্মান অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হয়েছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। বাজার বিশ্লেষণ করে এর আগে এমনটিই পূর্বাভাস দিয়েছিলেন বিশ্লেষকরা। এ ছাড়া দ্বিতীয় প্রান্তিকের সংশোধিত প্রবৃদ্ধির হারও দাঁড়ায় শূন্য দশমিক ১ থেকে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশে। অন্যদিকে এ সময় ফ্রান্সের প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ।
ইউরো অঞ্চলের ঋণ সংকট মোকাবিলায় ধারাবাহিক উদ্যোগ নিয়ে চলেছেন অঞ্চলের নেতারা, যদিও এখনও পর্যন্ত সমস্যা সমাধানের বাস্তব কোনও উপায় খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি। তবে বিশ্লেষকদের আশা, এবারের সম্মেলনে ইউরোপীয় নেতারা একটা উপায় খুঁজে পাবেনই। কারণ একক মুদ্রা ইউরোকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আপাতত তা অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। (এসআর)
![]() |
© China Radio International.CRI. All Rights Reserved. 16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040 |