Web bengali.cri.cn   
'সুইপার সংকর ধানের প্রতি মু'তে ৯ শো কিলোগ্রাম হওয়ায় বিস্ময়ের জন্ম
  2011-11-24 17:00:54  cri
চীন-মার্কিন যৌথ বাণিজ্য কমিশনের ২২তম সম্মেলন ২১ নভেম্বর চীনের ছেনডুতে শুরু হয়েছে। চীনের উপ প্রধানমন্ত্রী হুয়াং জি সেন ও মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী জন ব্রিসন এ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন।

সম্প্রতি চীনের রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিটি জানায়, চীনে শীঘ্রই কার্বন নি:সরণ বিনিময় পরীক্ষামূলকভাবে চালু হবে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, চীনের কার্বন বিনিময় বাজারের গঠনকাজ দ্রুত গতিতে উন্নয়নের পর্যায়ে প্রবেশ করবে।

চীন ও ফ্রান্সের যৌথ পুঁজি বিনিয়োজিত পিগোট সিট্রিয়েন গাড়ী কোম্পানি লিমিটেড ২০ নভেম্বর সেনজেন শহরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জানা গেছে, এই লিমিটেড কোম্পানির প্রথম পর্যায়ের পুঁজি বিনিয়োগের পরিমাণ হবে ৮৪০ কোটি রেন মিন পি।

সংশ্লিষ্ট একটি উপাত্তে জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম ন'মাসে চীনের বাজারে অলংকারের চাহিদা ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জানা গেছে, চীনের মাঝারি ও ক্ষুদ্র শহরে অলংকারের চাহিদা সবচেয়ে বেশী।

চীনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উন্নয়ন কমিশনের চেয়ারম্যান ওয়েন চি ফি ২১ নভেম্বর ছেনডু শহরে চীনের বাণিজ্য উন্নয়ন কমিশনের পক্ষ থেকে মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী জন ব্রিসনের কাছ থেকে ২০১১ সালের 'বাণিজ্য শান্তি ত্বরান্বিত করার 'পুরস্কার গ্রহণ করেছেন।

এতক্ষণ কয়েকটি অর্থনীতির খবর শুনলেন। এখন শুনুন একটি প্রতিবেদন। আজকের প্রতিবেদনের নাম: 'সুইপার সংকর ধানের প্রতি মু'তে ৯ শো কিলোগ্রাম হওয়ায় বিস্ময়ের জন্ম'

চীনের প্রাচীনকালের একটি প্রবাদে বলা হয় ' ডংঠিং হৃদের নাম সকলের কাছে পরিচিত'। ডংঠিং হৃদ চীনের হুনান প্রদেশে অবস্থিত। এ হৃদের চারপাশের পরিবেশ অত্যন্ত সুন্দর। প্রাচীনকাল থেকে এই অঞ্চল মাছ ও ধানে সমৃদ্ধ অঞ্চল বলে পরিচিত। পনেরো বছর আগে, চীনের সংকর ধানের জনক ইয়েন লং পিংয়ের নেতৃত্বে বিজ্ঞান ও গবেষণা দল সুইপার সংকর ধান তৈরীর চেষ্টা শুরু করে। তাদের নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই গবেষণা ফলপ্রসূ হয়েছে। ২০১১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়, সুইপার সংকর ধানের প্রতি মু'তে ৯২৬ দশমিক ৬ কিলোগ্রাম ছাড়িয়ে গেছে। এই উপাত্ত বিশ্ব সংকর ধানের ইতিহাসে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। আজকের এই অনুষ্ঠানে বিশ্বের এই বিস্ময় নিয়ে কিছু আলোচনা হবে।

২০১১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বিকালে চীনের কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ছেন সি হুওয়া আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, হুনান প্রদেশের শতাধিক মু'র পরীক্ষামূলক খাতির সুইপার সংকর ধানের প্রতি মু'তে ৯২৬ দশমিক ৬ কিলোগ্রাম অর্জিত হয়েছে। চীনে জাতিসংঘ বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি কার্যক্রমের প্রতিনিধি জেন জং জুন বলেন, বিশ্বজুড়ে লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার পটভূমিতে খাদ্যের মোট পরিমাণের চাহিদা আরও বেড়েছে। সুইপার সংকর ধানের সাফল্য নি:সন্দেহে সারা বিশ্বের জন্য একটি সুখবর।

বতর্মানে সারা বিশ্বে প্রায় একশো কোটি মানুষ ক্ষুধার্ত ও পুষ্টিহীন অবস্থায় রয়েছে। ২০৫০ সালে এ ধরনের লোকসংখ্যা ৯০০ কোটিতে পৌছবে। তখন আমাদের খাদ্যের উত্পাদন ৭০ শতকরা না বাড়লে যথেষ্ট হবে না। এবার প্রতি মু'তে ৯০০ কিলোগ্রাম চাল উত্পাদন একটি লক্ষ্যণীয় সাফল্য। যদি সারা বিশ্বে ব্যাপকভাবে একে জনপ্রিয় করে তোলা হয় তাহলে আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান করা যাবে।

এ সুখবর ঘোষিত হওয়ার দু'দিন পর, এই পরীক্ষামূলক খেতের দায়িত্ব পালনকারী কৃষক ওয়াং হুয়া ইয়ং হাসপাতলে ভর্তি হন। হাসপাতালের পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে তার পেটের সমস্যা হয়েছে। চিকিত্সকদের প্রস্তাব হল তাকে ভালভাবে বিশ্রাম নিতে হবে এবং খাওয়া-দাওয়ার রীতি মেনে চলতে হবে।

হাসপাতালে এই পরিশ্রমি কৃষকের সঙ্গে আমাদের সংবাদদাতার দেখা হয়েছে। তাকে কুচকুচে কালো এবং রোগা দেখায়। টানা টানা বেতের নিচে পাঠ সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। তিনি তামাসা করে বলেন, মাঝে মাঝে ক্ষুধার্ত অবস্থায় থাকায় এমন রোগী হয়ে গেছেন। তার সঙ্গে যারা পরিচিত তারা জানেন, এই পরীক্ষামূলক খেতের দায়িত্ব পালন করার জন্য তিনি খুব পরিশ্রম করেছেন। তিনি সময়মতো ভাত খাওয়ার সময় পেতন না। কৃষি প্রযুক্তি কেন্দ্রের পরিচালক শিও লি মিন বলেন,

তার স্ত্রী এখনও জেলা শহরে থাকেন। এ বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এ পযর্ন্ত তিনি মাত্র ছয় সাতবার বাড়ী ফিরে গিয়েছেন। প্রতিবার তিনি বাসায় অল্প সময় থাকেন। গত ছ'মাস ধরে তিনি মন দিয়ে এই পরীক্ষামূলক খাতে ঝাপিয়ে পড়েছেন।

২০০৯ সালে এই পরীক্ষামূলক খাতে ধান ব্যাপস্থাপনার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিভিন্ন চাপ সব সময় ওয়াং হুয়া ইয়ংয়ের সঙ্গে লেগে থাকতো। গত তিন বছরে তিনি এ বিষয়েই সময় কাটিয়েছেন।তিনি ১৫৬ মু'র পরীক্ষামূলক ধানের খেত ব্যাপস্থাপনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এদের মধ্যে ১০৮ মু ধানের খাতে প্রতি মুতে ৯০০ কিলোগ্রাম সংকর ধানের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, সংকর ধানের জনক ইয়েন লং পিংয়ের আশা-আকাংক্ষা বাস্তবায়নের জন্য তিনি এই পরীক্ষামূলক ধান খাতের ব্যাপস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেছেন। ইয়েন লং পিংয়ের দুটো আশা-আকাংক্ষা আছে। প্রথমত: ২০১০ সালে প্রতি মুতে ৯০০ কিলোগ্রাম ধানের উত্পাদন বাস্তবায়ন করা। দ্বিতীয়ত: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংকর ধানকে জনপ্রিয় করে তোলা। তিনি বলেন,

এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য গত তিন বছরে আমি সব সময় নীরবে কাজ করে এসেছি। কারণ আমি সব সময় সমাজের চাপের সম্মুখীন। অনেকেই মনে করেন, আমি একজন বোকা মানুষ। প্রতি মুতে ৯০০ কিলোগ্রামের ধান উত্পাদন করা অসম্ভব। সত্যি কথা বলতে কি, এ সব কথা আমার ওপর বেশী আঘাত হেনেছে। কিন্তু অবশেষে আমি সমাজের চাপকে আমার চালিকা শক্তিতে রূপান্তর করেছি।

তিনি আরও বলেন, পরীক্ষামূলক ধানের খাত ব্যাপস্থাপনা কাজ অত্যন্ত জটিল। ১৫ মিনিটের মধ্যে ধানের চারা রোপন করতে হবে। মাঝে মাঝে সহায়ক জিনিস দরকার। তিনি বলেন,

কারণ আমরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আদর্শ ধানের খেতে চাষ করি। সুতরাং ধানের খেতে কাজের সময় সব কিছু মানুষের হাতে সম্পাদিত হতে হবে। অনেক সময় অন্যাদের সাহায্য অত্যন্ত প্রয়োজন। ধানের চারা রোপনের সেই পাঁচ দিনে প্রতি দিন শতাধিক লোক আমাকে সাহায্য করেছেন। তাই, আমাদের এই সাফল্যে অনেকের অবদান আছে।

উদযাপনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সাক্ষাত্কারে সংকর ধানের জনক ইয়েন লং পিং নিজেকে আশির দশক পরে জন্মগ্রহণকারী প্রজন্ম বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন,

প্রতি মু'তে ৯০০ কিলোগ্রাম ধানের উত্পাদন অর্জিত হওয়ার পর, পরবর্তীকালের পরিকল্পনা কী? অনেকেই আমাকে এই প্রশ্ন করেছেন। আমার উত্তর হল: প্রতি মু'তে ১০০০ কিলোগ্রাম ধানের উত্পাদন বাস্তবায়নের চেষ্টা করবো। যদি বিশ্বের অর্ধেক জায়গায় সংকর ধানের চাষ করা হয় তাহলে প্রতি বছর ১৫০ কোটি কিলোগ্রাম খাদ্য বৃদ্ধি পাবে। এ সব খাদ্য ৪৫ কোটি মানুষেকে বাঁচিয়ে দিতে পারে।

সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন
মন্তব্যের পাতা
ভিডিও চিত্র
সাক্ষাত্কার
চিঠিপত্র
Play Stop
© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040