|
বাংলাদশের পুঁজিবাজারে প্রায় এক বছর ধরে যে অস্থিতিশীলতা চলছে তার অবসানে একটি বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) ২৩ নভেম্বর এ প্যাকেজে ঘোষণা দেয়। এতে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলা হয়, তারল্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সম্পৃক্ত করতে তাদের অর্থ সংগ্রহ সহজ করা হয়েছে। আগের বিধান অনুযায়ী, মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে যেখানে তহবিলের ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ তাদের মূল প্রতিষ্ঠান থেকে নিতে হতো, এখন ৫১ শতাংশ নিতে পারবে মূল প্রতিষ্ঠান থেকে আর বাকি ৪৯ শতাংশ তারা যে কোনও উত্স থেকে সংগ্রহ করতে পারবে।
শেয়ার মূল্যসূচকের ব্যাপক পতনে যেসব ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের সহায়তায় একটি বিশেষ কর্মসূচির পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে প্যাকেজে। এজন্য ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালককে প্রধান করে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে। সংশ্লিষ্ট আইনগুলো যুগোপযুগী করার কথাও বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনাগুলো তিন মাসের মধ্যে আর দীর্ঘ মেয়াদিগুলো চার থেকে ৬ মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।
স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে: শেয়ার ব্যবসায় নিয়োজিত ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানির অনুকূলে ব্যাংক প্রদত্ত মূলধনকে ওই ব্যাংকের এক্সপোজার টু ক্যাপিটাল মার্কেট হিসেবে গণ্য না করা; কোনও কোম্পানির শেয়ারে ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি ইকুইটি ইনভেস্টমেন্টকে ওই ব্যাংকের ক্যাপিটাল মার্কেট এক্সপোজার হিসেবে গণ্য না করা; বিদেশি পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপকদেরকে আরও বেশি বেশি তহবিল বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে উত্সাহ দেওয়া; এবং পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ থেকে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক ও অনিবাসী বাংলাদেশিদের অর্জিত লাভের ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ কর প্রত্যাহার করা।
তিন মাসের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য মধ্যমেয়াদি পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে: গুজবনির্ভর শেয়ারবাজারের পরিবর্তে একটি পূর্ণ সচেতন মূলধন বাজার তৈরি করা; প্রাতিষ্ঠানিক বা অপ্রাতিষ্ঠানিক নির্বিশেষে ব্রোকারেজ হাউজগুলো পেশাদার দক্ষ ও অভিজ্ঞ বিনিয়োগ ব্যবস্থাপক নিয়োগ দেওয়া। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কর্পোরেট গর্ভনেন্স গাইডলাইন তৈরি করা; মার্চেন্ট ব্যাংক ও সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলোর নিজস্ব মূলধন বাড়ানোর জন্য দ্রুত উপায় খুঁজে বের করা।
দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর হিসাব ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশের গুণগত মানোন্নত করার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক প্রতিবেদন আইন প্রণয়ন করা; সিকিউরিটিজ এন্ড একচেঞ্জ কমিশনের অভ্যন্তরীণ লেনদেন আইন আরও কঠোর করা; ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী রক্ষায় উন্নত দেশগুলোর মতো এ আইন যুগোপযোগী করা, স্টক এক্সচেঞ্জ সমূহের কর্পোরেট গভরনেন্স নিশ্চিত করতে স্টক এক্সচেঞ্জগুলোকে দ্রুত ডিমিউচুয়ালাইজ করা; মিউচ্যুয়াল ফান্ড সেক্টরকে আরও শক্তিশালী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় করা; উন্নত সার্ভিইল্যান্স সিস্টেম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পুঁজিবাজারের তদারকি কার্যক্রম জোরদার করা।
প্যাকেজে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে বিশেষ স্কিম গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। স্বল্প পুঁজি ও মার্জিন ঋণ নিয়ে যে সব ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের কারণে প্রকৃতপক্ষেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য একটি বিশেষ স্কিম প্রণয়ন করা হয়েছে।
আপাতত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার সব উপাদান আছে সরকার ঘোষিত প্যাকেজে। তবে প্রকৃতপক্ষে স্থিতিশীলতা আসবে কি না তা বহুলাংশে নির্ভর করবে এ প্যাকেজের যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর। (এসআর)
![]() |
© China Radio International.CRI. All Rights Reserved. 16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040 |