Web bengali.cri.cn   
ইউরো অঞ্চলের প্রবৃদ্ধিতে স্থবিরতা
  2011-11-17 16:42:44  cri

দু হাজার নয় সালের শেষ দিকে ঋণ সংকটের সূচনা হয়েছিল গ্রিসে। অভিন্ন মুদ্রা ব্যবহারকারী ইউরো অঞ্চলের মধ্যে অপেক্ষাকৃত ছোট অর্থনীতির দেশ হলেও সে সংকট পরবর্তীকালে ছড়িয়ে পড়তে থাকে অঞ্চলের অন্যান্য দেশে; ব্যহত করতে শুরু করে গোটা ইউরো অঞ্চলের প্রবৃদ্ধিকে। সম্প্রতি প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ঋণ সংকটের কারণে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ইউরো অঞ্চলের প্রবৃদ্ধির হার স্থবির হয়ে পড়েছে; সেখানকার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জার্মানি ও ফ্রান্সে আশানুরূপ প্রবৃদ্ধি হওয়া সত্ত্বেও। পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ঋণ সঙ্কটের দ্বারপ্রান্তে থাকা অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর চরম খারাপ অবস্থার কারণে এ অঞ্চলের ভবিষ্যত্ আরও অন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে আগামী দিনগুলোতে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে, অর্থাত্ জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে, জার্মান অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হয়েছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। বাজার বিশ্লেষণ করে এমনটিই পূর্বাভাস দিয়েছিলেন বিশ্লেষকরা। এ ছাড়া দ্বিতীয় প্রান্তিকের সংশোধিত প্রবৃদ্ধির হারও দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ১ থেকে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে এ সময় ফ্রান্সের প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ।

এ দুদেশের প্রবৃদ্ধির হার আশানুরূপ হওয়ায় ইউরো অঞ্চলের গড় প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে এবং আগের প্রান্তিকের মতো শূন্য দশমিক ২ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে পেরেছে অঞ্চলের অর্থনীতি।

এদিকে চলমান সঙ্কটের কারণে ইউরোপ নিয়ে বিশ্ব নেতাদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল বলেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এ মুহূর্তে ইউরোপ সম্ভবত সবচেয়ে খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় শহর লেইপজিগে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, ইউরোপ এখন সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে। ইউরো ব্যর্থ হলে ইউরোপ ব্যর্থ হতে পারে - এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, "আমরা এমন ব্যর্থতা প্রতিরোধ করতে চাই এবং করবও।"

তবে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদ্য-অভিষিক্ত প্রেসিডেন্ট মারিও দ্রাঘি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ইউরো অঞ্চলে এ বছরের শেষ নাগাদ মৃদু মন্দা দেখা দিতে পারে। জার্মানিতে ভোক্তাদের ব্যয় বাড়ার কারণে প্রবৃদ্ধি আশানুরূপ হয়েছে। তবে ইউরোপের অন্য দেশগুলোর ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির চিত্র হতাশাজনক।

ঋণ সঙ্কটে বর্তমানে দেউলিয়ার সীমায় অবস্থান করা গ্রিস, পর্তুগাল, স্পেন ও ইতালির প্রবৃদ্ধি কমে গেছে। এ সঙ্কটের কারণে ইতালি ও গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগেও বাধ্য হয়েছেন। আরও বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে দেশ দুটিতে নতুন সরকার গঠন করা হচ্ছে। সঙ্কটে নিপতিত অন্য দেশগুলোও পরিস্থিতি সামাল দিতে কঠোর ব্যয় হ্রাসের উদ্যোগ নিয়েছে। কারণ একক মুদ্রা ইউরোকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আপাতত তা অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। (এসআর)

সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন
মন্তব্যের পাতা
ভিডিও চিত্র
সাক্ষাত্কার
চিঠিপত্র
Play Stop
© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040