Web bengali.cri.cn   
চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে চীনের আমদানি-রফতানি
  2011-11-17 14:17:52  cri
সম্প্রতি চীনের শুল্ক অধিদফতর প্রকাশিত এক উপাত্তে জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম দশ মাসে চীনের আমদানি-রফতানির পরিমাণ ২৯,৭৫৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় শতকরা ২৪ দশমিক ৩ বেশি। আমদানি-রফতানির এ পরিমাণ নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। এদিকে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ২০১২ সালে চীনের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি চীনের পরিষদ হোবেই প্রদেশের সাগর বরাবর এলাকার উন্নয়ন কর্মসূচি অনুমোদন করেছে। এ কর্মসূচি অনুযায়ী, চীনের দ্বাদশ পাঁচশালা পরিকল্পনা চলাকালে হোবেই প্রদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বেশ কয়েকটি অর্থনীতি অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। হোবেই প্রদেশে কয়েকটি বড় বড় বন্দর আছে। আগামী পাঁচ বছরে এ সব বন্দরের সম্প্রসারণ কাজ করা হবে।

সম্প্রতি চীনের রাষ্ট্রীয় বিদেশি মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ব্যুরো জানিয়েছে, চীনের আয় ও ব্যয় সূচকে দেখা গেছে, এ বছরের প্রথম ন'মাসে আয় ও ব্যয়ের ভারসাম্য সুষ্ঠু ছিল। আন্তর্জাতিক মুদ্রার মজুদ বা রিজার্ভের পরিমাণ বরাবরই বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক সম্প্রতি জানিয়েছে, বতর্মানে চীনে ব্যাংকিং ও ব্যাংক ব্যবস্থার সংস্কার কাজ সুষ্ঠুভাবে চলছে। চীনের ব্যাংকিং বিষয়ক প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে সংস্থা দুটি জানায়, ব্যাংকিং ব্যবস্থার কাঠামো পরিবর্তন কাজে খানিকটা সাফল্য অর্জিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ক্ষেত্রের সংস্কার কাজ আরও জোরদার করা হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছে।

সম্প্রতি এ বছরের যে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে তা থেকে জানা গেছে, এতে অংশগ্রহণকারী বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ মনে করেন, আগামী দশ বছরে বিশ্বের বাণিজ্য ক্ষেত্রে চীনের প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রেন মিন পি বিশ্বের প্রচলিত মুদ্রা হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

বতর্মানে মার্কিন ডলার বিশ্বের একমাত্র প্রচলিত মুদ্রা। রেন মিন পি বিশ্বের প্রচলিত মুদ্রা হতে চাইলে তাকে অবশ্যই অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে। তারা মনে করেন, আন্তর্জাতিকীকরণের জন্য রেন মিন পিকে বিশ্ব ব্যাংকিং ব্যবস্থার সংস্কারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে মিশে যেতে হবে।

এতক্ষণ কয়েকটি সংক্ষিপ্ত অর্থনীতির খবর শুনলেন। এখন শুনুন একটি প্রতিবেদন। এটির শিরোনাম: 'তৃণমূলে জন্ম, সারা পৃথিবীতে অস্তিত্ব, বিশ্বজুড়ে সম্পদ সঞ্চয়'।

গত ৩০ বছরেরও বেশি সময়ে অর্থাত চীনের সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ নীতি চালু হওয়ার পর থেকে চীনের জেচিয়াং প্রদেশের ব্যবসায়ীরা চীনের সর্ববৃহত্ ব্যবসায়ী গোষ্ঠিতে পরিণত হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বতর্মানে বিদেশে পুঁজিবিনিয়োগকারী জেচিয়াং প্রদেশের ব্যবসায়ীর সংখ্যা ১৫ লাখ। সারা চীনে জেচিয়াং প্রদেশের ব্যবসায়ীর সংখ্যা ৬০ লাখ। তাহলে জেচিয়াং প্রদেশের ব্যবসায়ীদের কী কী বৈশিষ্ট রয়েছে? তারা কীভাবে যেখানে সেখানে সাফল্য অর্জন করতে পারছেন? এই প্রশ্ন নিয়ে সম্প্রতি সি আর আইয়ের নিজস্ব সংবাদদাতা মুখোমুখি হন জেচিয়াং প্রদেশের ব্যবসা গবেষণালয়ের কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান ইয়াং ই ছিংয়ের। এখন শুনুন তার লেখা একটি প্রতিবেদন।

সাক্ষাত্কারে ইয়াং ই ছিং বলেন, 'জিচিয়াং ব্যবসায়ী' শব্দগুচ্ছটি বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে প্রচলিত হয়। এখন পর্যন্ত জেচিয়াং ব্যবসায়ীরা কেবল অর্থনীতির একটি চিহ্ন নয়; সমাজ ও সংস্কৃতির একটি চিহ্নও হয়ে গেছে।

ইয়াং ই ছিং বলেন, ১৯৯৮ সাল ও ১৯৯৯ সালে 'জেচিয়াং ব্যবসায়ী' কথাটি বেশ শোনা যায়। স্পষ্টভাবে বলতে গেলে, এখন আমরা যাদেরকে 'জেচিয়াং ব্যবসায়ী' বলি তারা আসলে আশির দশকের পর জেচিয়াং প্রদেশের ব্যবসায়ীর গোষ্ঠি। জেচিয়াং প্রদেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনেক পাথর্ক্য রয়েছে। অনেক ধরনের ব্যবসা নিয়ে গঠিত জেচিয়াং ব্যবসায়ী গোষ্ঠি গড়ে উঠেছে। সাধারণতভাবে বলতে গেলে অধিকাংশ জেচিয়াং ব্যবসায়ীর পারিবারিক পটভূমি নিম্ন। এই গোষ্ঠির মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষক। তাদের মধ্যে আবার ৭০ শতাংশেরও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নবম শ্রেণীর নিচে। তারা ঘাসের শিকড়ের মতো অবহেলিত ছিলেন এবং সমাজের সবচেয়ে নিম্নস্থল থেকে তাদের ব্যবসা শুরু করেন। তারা ব্যবসার পথে অনেক কষ্ট স্বীকার করেছেন।

জেচিয়াং ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত পরিশ্রমী। ঘাসের শিকড়ের মতো তাদের অদম্য প্রাণশক্তি আছে। তারা পুরোপুরি নিজেদের ওপর নির্ভর করে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। শুরুতে তাদের অর্থ ছিল না; ছিল না কারিগরি সামর্থ্য। এমন কি প্রথম প্রথম তাদের জন্য কোনো বাজারও ছিল না। তবে বাজার অর্থনীতির প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেচিয়াং ব্যবসায়ীরা হেরে যাননি; বরং ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়ে উঠেছেন। আস্তে আস্তে তারা ঘাস থেকে বড় গাছে পরিণত হয়ে গেছেন।

জেচিয়াং ব্যবসায়ীদের সাফল্যের বিশেষ কারণ এই যে, অন্য সব ব্যবসায়ী যে সব ব্যবসা করতে চাননা, তারা সেই ব্যবসা করে থাকেন। যে সব ব্যবসা অন্য ব্যবসায়ীরা করতে ভয় পান চেচিয়াংয়ের ব্যবসায়ীরা তা সহজেই করে ফেলেন। যে সব ব্যবসা করার যোগ্যতা অন্য ব্যবসায়ীদের নেই, সে সবও চেচিয়াংয়ের ব্যবসায়ীরা সহজেই করতে পারেন। তারা দিনবেলায় মালিক হলেও রাতবেলায় মেঝেতে শুয়ে থাকতে পারেন। তারা অনেক কষ্ট অতিক্রম করে অবশেষে আজকের সমৃদ্ধশালী হয়েছেন। বতর্মানে চেচিয়াং ব্যবসায়ীরা চীনের শীর্ষ ব্যবসা গোষ্ঠির স্থান দখন করে নিয়েছেন ।

ইয়াং ই ছিং বলেন, "আমরা যখন চেচিয়াং ব্যবসায়ীদের কথা উল্লেখ করি, তখন সাধারণত সাফল্য ও রহস্য এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করতে শুরু করি। কিন্তু তাদের সাফল্যের পিছনে অনেক করুণ গল্প আছে। তারা যে কষ্ট সহ্য করেছেন অনেকেই তা করতে পারতেন না।"

এ কথাও বলা যায় যে, যেখানেই বাজার আছে সেখানেই চেচিয়াং ব্যবসায়ীদেরকে দেখা যায়। চীনের বিভিন্ন জায়গায় চেচিয়াং ব্যবসায়ীরা নানা ধরনের ব্যবসা করছেন। তা ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় চেচিয়াং ব্যবসায়ীরা তাদের বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন। অনেকেই চেচিয়াং ব্যবসায়ীদেরকে উট বলে বর্ণনা করেন। বলাবাহুল্য, চেচিয়াং ব্যবসায়ীদের অদম্য মনোভাব অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

বিশ্ব মন্দার কারণে চেচিয়াং ব্যবসায়ীরা নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছেন। তাদের ব্যবসা আগের মতো মসৃণ নয়। এখন তাদের ব্যবসার কাঠামো পরিবর্তনের সময় এসেছে। তা ছাড়া, তাদের ব্যবসার ধারণাও কিছুটা পরিবর্তন করা উচিত। বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী তাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন
মন্তব্যের পাতা
ভিডিও চিত্র
সাক্ষাত্কার
চিঠিপত্র
Play Stop
© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040