|
সম্প্রতি ফ্রান্সের কানে অনুষ্ঠিত জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের আগে ব্যাপকভাবে আশা করা হয়েছিল যে, ইউরোপ, বিশেষ করে অভিন্ন মুদ্রা ব্যবহারকারী ইউরো অঞ্চলের সঙ্কট নিরসনে একটা পুনরুদ্ধার তহবিল গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে সম্মেলনে। কিন্তু দেখা গেল, সে রকম কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হলো শীর্ষ সম্মেলন, যদিও দুদিনের সম্মেলনের পুরোটা জুড়েই আলোচনা হয় ইউরো অঞ্চলের কারণে হুমকির মুখে থাকা বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে।
সঙ্কট মোকাবেলায় সম্মেলনের কয়েক দিন আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি সমন্বিত আর্থিক কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিল। ওই কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইউরো অঞ্চলের দেশগুলো সরাসরি পদক্ষেপ নিলে হয়তো পরিস্থিতি এমন জটিল হতো না। কিন্তু সম্মেলনের ঠিক আগে গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী জর্জ পাপান্দ্র এ কর্মসূচি গ্রহণ প্রসঙ্গে হঠাত্ করে গণভোটের ঘোষণা দিলে ইউরোপ জুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে চাপের মুখে গ্রিস সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করলেও জটিলতা কাটেনি। এমন কি জি-২০ সম্মেলনে ইউরো অঞ্চল থেকে গ্রিসকে বাদ দেওয়া নিয়েও আলোচনা হয়, যদি শেষ পর্যন্ত সে রকম কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
সম্মেলনে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি ও জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেলসহ অন্য নেতারাও গ্রিসকে কোনো ছাড় দিতে প্রস্তুত নন বলে জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন, নিয়ম না মানলে ইউরো অঞ্চল থেকে তথা ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বহিষ্কার করা যেতে পারে দেশটিকে।
সম্মেলনে গ্রিসকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি যেদিকেই মোড় নিক না কেন - স্পষ্টভাবে সব শর্ত পূরণ করে আর্থিক সাহায্য গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সম্মেলনে গ্রিস ছাড়া ইউরো অঞ্চলের অন্যান্য সঙ্কট নিয়েও আলোচনা হয়। ইতালির অবস্থা গ্রিসের থেকে আরও যাতে খারাপ হতে না পারে সেজন্য বিশ্ব নেতারা ইউরোপকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলেন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের একটি প্রতিনিধি দল ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ইতালির সামগ্রিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবে বলে সম্মেলনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে জি-২০ দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা সম্মেলনে আইএমএফকে জোরদার করতে নতুন তহবিল যোগানোর ব্যাপারেও কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। এছাড়া তারা ইউরোপীয় আর্থিক স্থিতিশীলতা তহবিলের আকার বাড়াতে নীতিগতভাবে সম্মত হলেও অর্থের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ ও সময়সীমা নির্ধারণে ব্যর্থ হন।
সম্মেলনের আগে ধারণা করা হয়েছিল, বৃহত্ আকারের বহুজাতিক ব্যাংক ও বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বেপরোয়া আচরণ বন্ধ করতে শীর্ষ নেতারা কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা করবেন, যাতে ব্যাংকগুলো নিজেরা সঙ্কট তৈরি করে সরকারের কাছ থেকে আর সহায়তা নিতে না পারে। এজন্য ব্যাংকগুলোকে যথেষ্ট বড় অঙ্কের মূলধন সরিয়ে রাখতে বাধ্য করা, বিশ্বজুড়ে আর্থিক লেনদেনের ওপর কর আরোপ, ইত্যাদি পদক্ষেপের কথা ভাবা হয়েছিল। তবে নীতিগতভাবে এসব উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা মেনে নিলেও এবারের সম্মেলনে কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তবে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় নীতি, পুঁজির নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধির জন্য যৌথ কর্মপরিকল্পনা, আর্থিক বিধি ও ব্যাংকগুলোর জন্য দিকনির্দেশনার বিষয়ে অনেকগুলো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় শীর্ষ সম্মেলনে। (সূত্র: রয়টার্স ও ইকোনমিক টাইমস)
![]() |
© China Radio International.CRI. All Rights Reserved. 16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040 |