Web bengali.cri.cn   
মাছ চাষ করার ব্যবসা
  2011-11-03 15:23:44  cri
বিশ্বের চারটি বড় হিসাবরক্ষণ প্রতিষ্ঠানের অন্যতম আরনেস্ট এ্যান্ড ইয়াং এর ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত একটি জরীপে দেখা গেছে, চীন বরাবরই বিশ্বের ' সবচেয়ে আকর্ষনীয় পুঁজিবিনিয়োগ বাজারের' প্রথম স্থানে রয়েছে। চীনের পর , ভারত , ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র ও অষ্ট্রেলিয়া যথাক্রমে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে।

সম্প্রতি গুওয়াংযৌ পৌর সরকারের স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে জানা গেছে, ২২০টি শিল্প প্রতিষ্ঠান গুয়াংযৌ পৌর সরকারের কাছ থেকে স্মারক পদক পেয়েছে। উল্লেখ্য ২০১০ সালে নির্ধারণ-করা ২২০টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪২টি চীনের অভ্যন্তরীণ অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত শিল্প প্রতিষ্ঠান। ৫৩টি বিদেশের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত শিল্প প্রতিষ্ঠান। জানা গেছে, যে সব শিল্প প্রতিষ্ঠান পৌর সরকারের কাছ থেকে স্মারক পদক পেয়েছে সে সব শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য সংশ্লিষ্ট সুবিধাজনক নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে।

চীনের দশম আন্তর্জাতিক রেশম ও বস্ত্রবয়ন মেলা সম্প্রতি গুওয়াংডং প্রদেশের ডংওয়েন শহরের ডালাং রেশম ও বস্ত্রবয়ন বাণিজ্য কেন্দ্রে শুরু হয়েছে। দেশ বিদেশের প্রায় ২ হাজার ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি এবং সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতিনিধি এই মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।

বালাগুয়ার রাজধানী ইয়াসংসেনে অনুষ্ঠিত ২১তম 'দি ইবেরো-আমেরিকান শীর্ষ সম্মেলনে' বক্তৃতা করার সময় জাতিসংঘ অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার মহা সচিব জোসে আনগেল গুরিয়া ট্রেভিনো ২৮ অক্টোবর বলেছেন, চীনের অর্থনীতির উন্নয়নের গতি কিছুটা কমালে চীনের অর্থনীতি ও বিশ্ব অর্থনীতির স্থায়ী প্রবৃদ্ধির জন্য তা কল্যাণকর হবে।

চীনের রাষ্ট্রীয় পরিষদের তাইওয়ান বিষয়ক কার্যালয়ের মহা পরিচালক ওয়াং ই সম্প্রতি পেইচিংয়ে বলেছেন, নবোদিত উত্পাদন শিল্প ও ব্যাংকিং ক্ষেত্রে তাইওয়ান প্রণালীর দু'পাড়ের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা হবে। তাইওয়ান প্রণালীর দু'পাড় ও হংকংয়ের' ইকনমিক ডেইলি' আর্থ-বাণিজ্যিক শীর্ষ ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ওয়াং ই এ কথা বলেন।

পেরুর বৈদেশিক বাণিজ্য সমিতির সম্প্রতি প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, এ বছরের জানুয়ারী থেকে সেপ্টেম্বর পযর্ন্ত চীনে পেরুর রফতানির পরিমাণ ৫২৭ দশমিক ৫ কোটি মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় শতকরা ২৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ বেশী। একই সময় পেরুতে চীনের কাছ থেকে আমদানির পরিমাণ ৪৬৫ দশমিক ৭ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ পযর্ন্ত দ্বিপাক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় এক হাজার কোটি মার্কিন ডলারে পৌছেছে। এখন চীন পেরুর সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার ও বাণিজ্য অংশীদার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এতক্ষণ কয়েকটি সংক্ষিপ্ত অর্থনীতির খবর শুনলেন। এখন শুনুন একটি প্রতিবেদন।

চীনের ছুংছিয়েন শহরের বেইপেই জেলায় একটি ছোট গ্রাম আছে। তার নাম ' ডাডি গ্রাম'। গ্রামটি পানি-সম্পদে সমৃদ্ধ। মাছ চাষ -করা পুকুরের আয়তন প্রায় এক হাজার পাঁচ শো মু অর্থাত প্রায় এক শো হেক্টর । মাছের বার্ষিক উত্পাদন প্রায় ২ হাজার টন। কৃষকদের বার্ষিক মাথাপিছু আয় ১৩ হাজার ইউয়ানেরও বেশী। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই গ্রাম স্থানীয় সরকারের কাছ থেকে অনেক প্রশংসা পেয়েছে। এই গ্রামকে 'ছুংছিয়েন শহরের নতুন গ্রাম গঠনের আদর্শ গ্রাম' হিসেবে গণ্য করা হয়।

কিন্তু অতীতে অর্থাত ২০ বছর আগে এই গ্রাম এমন একটি গ্রাম ছিল যা কেবল ভাগ্যের ওপর নির্ভর করত। গ্রামের পরিচালক লি শিয়াং সি একটি সাক্ষাত্কারে বলেন,

আমি সেনাবাহিনীতে কয়েক বছর ছিলাম। অবসর নেওয়ার পর আমি গ্রামে ফিরে আসি। তখন গ্রামের অবস্থা ছিল খুব খারাপ। কৃষকদের জীবনযাত্রার মানও ছিল অত্যন্ত নিচু ।

তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে , ছুংছিয়েন শহরের আদর্শ শ্রমিক ছিও গুও বিং মাছ চাষ করে ধনী হয়ে ওঠের। তিনি তার মাছের পুকুর পরিদর্শন করতে যান । ওখান থেকে ফিরে আসার পর তার মনেও মাছ চাষের ধারণা জেগে ওঠে। তখন থেকে তিনি মাছ চাষ করতে শুরু করেন ।

তুলনামূলকভাবে বলতে গেছে, তখন আমাদের গ্রামের অবস্থা অপেক্ষাকৃত ভাল ছিল । কারণ গ্রামে একটি মাছ চাষ করার পুকুর ছিল। আমি গ্রামের কাছে এই পুকুরের দায়িত্ব গ্রহণের অনুরোধ জানাই । আমার অনুরোধ গৃহীত হয়।

এভাবে তিনি এই গ্রামের প্রথম লোক যিনি ব্যক্তিগতভাবে মাছের চাষ শুরু করেন।

(রেকর্ডিং ৩)

মাছ চাষ করার সম্ভাবনা অনেক । দু'বছর পর আমার কাজে সাফল্য দেখা দিয়েছে। আর আয় আপনাআপনি বেড়েছে। আমার গ্রামের ও অন্যান্য গ্রামের কৃষক আমার কাছে এসেছেন পরামর্শ নেয়ার জন্য। তারা আমাকে বার্ষিক আয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছেন। আমিও তাদেরকে সত্যি কথা বলেছি। আস্তে আস্তে আমার প্রতিবেশীরাও মাছ চাষ করতে শুরু করেন।

এর আগে এই গ্রামের কৃষকদের মধ্যে কেউই মাছ চাষ করতে পছন্দ করতেন না। এই শিল্প গ্রামের প্রধান উত্পাদন শিল্প হওয়ার পর , এই গ্রামের কৃষকরা উপলব্ধি করেন যে, মাছ চাষ করা তাদের আয় বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। এখন গ্রামে মাছ চাষের সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অনেক স্থানীয় কৃষক এই সমিতিতে স্বেচ্ছায় যোগ দিয়েছেন। সুইঠু থানার পরিচালক চিয়াং ওয়ে মিন একটি সাক্ষাত্কারে বলেন,

এই সমিতি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর , সকল মাছ-চাষী পরিবার একই চ্যানালে মাছের পোনা কিনতে পারে। বিক্রি করার সময় একই দাম নির্ধারণ করা হয়। এই মাছ চাষের সমিতি দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং শহরের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমিশনের ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে।

ঠাং হং ইউয়ু হলেন চীনের দক্ষিণ-পশ্চিম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের একজন অধ্যাপক। ২০০৩ সাল থেকে তিনি ও অন্য কয়েকজন বিশেষজ্ঞ দাডি গ্রামে স্থানীয় কৃষকদের জন্য মাছ চাষের প্রযুক্তি সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছেন। তারা স্থানীয় কৃষকদের বন্ধু হয়ে গেছেন। কৃষকরা তাদের 'মাছের চিকিত্সক' বলে ডাকেন। অধ্যাপক ঠাং হং ইউয়ু এক সাক্ষাত্কারে বলেন,

প্রতি মাসের ৩ ও ৯ তারিখে আমরা স্থানীয় কৃষকদের জন্য মাছ চাষ সম্পর্কে ব্যাখ্যা করে থাকি। আমরা তাদের বিভন্ন ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেই। অবশ্যই মাছ চাষ করার বিষয়ে আমরা তাদের জন্য অনেক প্রস্তাব দিয়েছি। তা ছাড়া , সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্থানীয় কৃষকদের জন্য নানা ধরনের প্রশিক্ষণেরও আয়োজন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন
মন্তব্যের পাতা
ভিডিও চিত্র
সাক্ষাত্কার
চিঠিপত্র
Play Stop
© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040