Web bengali.cri.cn   
এশিয়ার প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন কমিয়েছে আইএমএফ
  2011-10-20 14:04:10  cri

ইউরোপ জুড়ে যে আর্থিক অস্থিরতা চলছে এবং মার্কিন অর্থনীতিতে যে মন্দার ঘনঘটা দেখা দিয়েছে তা বিশ্ব অর্থনীতিকে আরেক দফা সংকটের মুখে ফেলতে পারে বলে অনেকের আশংকা। এমন সংকট যদি সত্যিই দেখা দেয়, তাহলে এশিয়ার অর্থনীতির ওপর তা সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে বলেও মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ-এর আশংকাও এমনই। আর সে আশংকা থেকে আন্তর্জাতিক এ অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠান এশিয়ায় তার আগের প্রবৃদ্ধি-প্রাক্কলন থেকে সরে এসেছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত ষাণ্মাসিক প্রতিবেদনে আইএমএফ উল্লেখ করেছে, ইউরো অঞ্চলের ঋণসংকট ও যুক্তরাষ্ট্রের শ্লথ প্রবৃদ্ধির কারণে এশিয়ার অর্থনীতি সন্দেহাতীতভাবে নিম্নমুখী হবে। সংস্থা বলছে, ২০১১ সালে এশিয়ার গড় প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৩ শতাংশ এবং ২০১২ সালে ৬.৭ শতাংশ, যেখানে এপ্রিলে প্রকাশিত আগের প্রতিবেদনে পূর্বাভাস করা হয়েছিল যে, ২০১১ সালে এশিয়ার প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৮ শতাংশ এবং ২০১২ সালে ৬.৯ শতাংশ।

মুদ্রা তহবিল জানায়, ইউরো জোনের ঋণসংকট বেড়ে গেলে এশিয়ার সামষ্টিক অর্থনীতি ও পুঁজিবাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব আরো গভীর হবে। এ জন্য এশিয়াকে তাদের অভ্যন্তরীণ বাজার তৈরি করতে হবে।

সংস্থার এশিয়া এবং প্রশান্ত-মহাসাগরীয় অঞ্চলের পরিচালক অনুপ সিং বলেন, "যদিও এশিয়ার অভ্যন্তরীণ চাহিদা এখনও শক্তিশালী, তবুও আমরা মনে করতে পারছি না যে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে যদি ঝুঁকি সৃষ্টি হয় তাহলে এশিয়া তার থেকে মুক্ত থাকতে পারবে।"

তিনি বলেন, ইউরোপের আর্থিক সংকট গভীর হওয়ার প্রেক্ষাপটে গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে এশিয়া জুড়ে আতঙ্ক-তাড়িত শেয়ার বিক্রি সবাইকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে, উন্নত বিশ্বের অর্থনীতি যখন চাপের মধ্যে পড়ে, তখন অন্যদের পালানোর জায়গা থাকে না।

তবে নিম্নগতির প্রাক্কলন সত্ত্বেও আইএমএফ বলেছে, অভ্যন্তরীণ ভোগ এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির কারণে এশিয়ার প্রবৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের চেয়ে শক্তিশালী থাকবে।

চীন ভারত ও জাপান থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত মোট ২০ দেশের অর্থনীতির ওপর বিশেষভাবে আলোকপাত করা হয় এ প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনের রপ্তানি সেপ্টেম্বরে কমে যাওয়ার পরিসংখ্যান প্রকাশের পরই আইএমএফের এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। চীনের ব্যাপারেও আইএমএফ প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস কমিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০১১ সালে চীন ৯.৫ শতাংশ এবং ২০১২ সালে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে, যেখানে এপ্রিলে প্রাক্কলিত প্রবৃদ্ধি ছিল এ বছর ৯.৬ শতাংশ ও ২০১২ সালে ৯.৫ শতাংশ। তবে জাপানের প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন বাড়ানো হয়েছে। বলা হয়েছে, ভূমিকম্প ও সুনামি-আক্রান্ত দেশটির শিল্পখাতের উত্পাদন আবার পুরোমাত্রায় শুরু হওয়ায় তার অর্থনীতিতে আগামী বছর ২.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে।

যে ঝুঁকির আশংকা এশিয়ার অর্থনীতি নিয়ে করা হচ্ছে, তা এড়ানোর পথও বাতলে দিয়েছে আইএমএফ। সংস্থা বলেছে, এসব ঝুঁকি বাস্তবে পরিণত হওয়ার আগেই এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনৈতিক সংস্কার করতে হবে।

এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে অর্থনৈতিক সংস্কার একটি বহুল-আলোচিত বিষয়। কিন্তু অনেক দেশই যথোপযুক্ত সংস্কার করতে সক্ষম হয়নি বলে তাদের অর্থনীতি এখনও ঝুঁকির কাছে বেশ নাজুক রয়েছে। এসব দেশ যদি সংস্কারে আরও আন্তরিক না হয়, তাহলে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে মস্ত বিপদ। (এসআর)

সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন
মন্তব্যের পাতা
ভিডিও চিত্র
সাক্ষাত্কার
চিঠিপত্র
Play Stop
© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040