|
অভীন্ন মুদ্রা ব্যবহারকারী ইউরো অঞ্চলের দেশগুলো একটার পর একটা সমস্যায় নিপতিত হচ্ছে। গ্রিস দিয়ে অঞ্চলের আর্থিক সমস্যা শুরু হলেও এখন বেশ কয়েকটি দেশে তা ছড়িয়ে পড়েছে। সংকট মোকাবিলায় দেশগুলোকে নিতে হয়েছে ব্যয় সংকোচন পদক্ষেপ। কিন্তু এমন পদক্ষেপ স্বল্প মেয়াদে অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখলেও, দীর্ঘ মেয়াদে তার চেয়ে বেশি ফেলছে নেতিবাচক প্রভাব।
এমন পরিস্থিতিতে অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ যোশেফ স্টিগলিজ মন্তব্য করেছেন, গ্রিসের মতো চরম আর্থিক সমস্যায় থাকা দেশগুলো যদি প্রয়োজনীয় সহায়তা না পায় তাহলে প্রায় নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে, ১৭টি ইউরো ব্যবহারকারী দেশের জোট ইউরোজোন ভেঙে যাবে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক নিবন্ধে ইউরোপের বর্তমান ব্যয় সংকোচন নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি।
স্টিগলিজের মতে, গ্রিসকে সহায়তা দেওয়ার জন্য গত জুলাইতে ইউরোপের দেশগুলো যে চুক্তি করেছিল তা ছিল ভালো উদ্যোগ। এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে তারা স্বীকার করেছিল যে, সামনের দিকে এগোতে হলে গ্রিসের সহায়তা দরকার। তবে চুক্তির অঙ্গীকার অনুযায়ী দেশগুলো অর্থ ছাড় না দেওয়ায় এবং এই চুক্তির অনুমোদনে দীর্ঘ সময় নেওয়ায় দেশগুলোর সমালোচনা করেন তিনি।
স্টিগলিজ অবশ্য এ সমস্যা সমাধানে বেশ কিছু প্রাতিষ্ঠানিক উপায়ের কথা বলেন জোর দিয়ে। তার মতে, ইউরোপীয় আর্থিক স্থায়িত্ব সহায়তা কর্মসূচি আরও বড় হওয়ার এবং উদ্দেশ্য সাধনের জন্য এর সক্ষমতাও আরও বাড়ানো দরকার। তার মতে, ইউরোজোনের সমস্যা হলো, তারা ভেবেছিল তাদের রাজস্ব ঘাটতি কমাতে হবে এবং এটিই ছিল ভুল বিশ্লেষণ। সংকটের আগে আয়ারল্যান্ড ও স্পেনের রাজস্ব উদ্বৃত্ত ছিল। কিন্তু তারা ভেবেছিল কম রাজস্ব ঘাটতি দরকার এবং অর্থনৈতিক কাঠামো রক্ষায় তা পর্যাপ্ত। এটিই ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। স্টিগলিজ বলেন, অঞ্চলের দেশগুলোকে বুঝতে হবে যে, ব্যয় সংকোচন সমস্যা সমাধানের সঠিক পথ নয়।
স্টিগলিজের মতে, গ্রিসের সমস্যা সমাধানে অঞ্চলের দেশগুলো যদি অর্থ নিয়ে এগিয়ে আসে তাহলেই কেবল দেশটির অর্থনীতি টিকে থাকেত পারবে, অন্তত কিছু দিনের জন্য হলেও। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক একমাত্র প্রতিষ্ঠান যার নমনীয়তা রয়েছে এবং সংকট সমাধানের জন্য সেটিই দরকার। তবে বর্তমানে আরেকটি সমস্যা হলো, জার্মানি ও অন্য কয়েকটি দেশ বলছে যে, ইতালিয়ীয় ও স্প্যানিস বন্ড কেনা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত হবে না। তাদের কথা আমলে নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি সত্যিই বন্ড কেনা থেকে বিরত থাকে তাহলে ইউরোজোনের ভবিষ্যত্ খুবই অন্ধকারাচ্ছন্ন। কেননা কেবল অন্যরা পর্যাপ্ত সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এলেই গ্রিসকে খেলাপি হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা যেতে পারে।
গ্রিসের অর্থনীতিকে রক্ষায় অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর সহায়তার প্রয়োজনীয়তা স্টিগলিজের মতো সবাই স্বীকার করেন। কিন্তু এটিও মনে রাখতে হবে যে, এটা কিছুটা সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। অঞ্চলের দেশগুলোতে গণতান্ত্রিক সরকার। গ্রিসকে সাহায্যের ব্যাপারে দেশগুলোর মধ্যে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে তা পার্লামেন্টে অনুমোদিত হতে আলাপ-আলাপ আলোচনার প্রয়োজন হচ্ছে। তবে ওই দেশগুলোকে এটাও মনে রাখা দরকার, অযথা যেন কালক্ষেপণ না হয়; সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই যেন তারা চুক্তি বাস্তবায়ন করতে পারে। (এসআর)
![]() |
© China Radio International.CRI. All Rights Reserved. 16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040 |