|
২০১০ সালের শাংহাই বিশ্বমেলা পয়লা মে থেকে শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ব্যবসায়ীরা যার যার নিজস্ব পদ্ধতিতে বিশ্বমেলার সুযোগকে কাজে লাগাতে শুরু করেছে। আজকের চীনের অর্থনীতি অনুষ্ঠানে এ সম্পর্কে কিছু কথা বলবো।
বিশ্বমেলার স্পেনের মাদ্রিদ ভবনের একটি দোকানে রিয়াল মাদ্রিদ ফুটবল দলের বিশ্বখ্যাত খেলোয়াড় রোনালদো'র বড় বড় ছবি রয়েছে। তা এখানকার অনেকপর্যটকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। মাদ্রিদ ভবনের একজন কর্মী আমাদের সংবাদদাতাকে বলেছেন, (১)
আপনি যদি মাদ্রিদ ভ্রমণ করেন তাহলে আপনি রোনালদো'র সংগে ছবি তোলার সুযোগ পাবেন। ভ্রমণকারীদের এ সুযোগ দেয়ার জন্য তারা সরকারের কাছ থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়েছেন। খ্যাতিমান ফুটবল খেলোয়াড়দের প্রভাব পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণের পর মাদ্রিদ ভবনের কর্মী পর্যটকদের কাছে মাদ্রিদের বিশেষ স্মারকবস্তু সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, (২)
শিশুদের কাপড়, অলংকার ও ব্যাগ হচ্ছে মাদ্রিদের স্থানীয় ডিজাইনারদের ডিজাইনে তৈরি করা। শিগগিরই চীনে তাদের এসব পণ্যের দোকান খোলা হবে।
১৮৪ দিনব্যাপী বিশ্বমেলায় পর্যটকের সংখ্যা কয়েক কোটি হবে। ইতোমধ্যেই চীনা পর্যটকের সংখ্যা প্রায় ৯০ শতাংশ। সুতরাং বিশ্বমেলার মাধ্যমে চীনা ভোক্তাদের কাছে পণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে ব্যবসায়ীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
অষ্ট্রেলিয়া ভবনের বাণিজ্য কেন্দ্রে দু'টি পণ্য রয়েছে। একটি হল স্মারকবস্তু। যেমন আলপিন, ব্রোচ ও টি-শার্ট। অন্য একটি হল অষ্ট্রেলিয়ার বিশেষ পণ্য, যেমন স্বাস্থ্য সম্মত খাবার, অলংকার ও উলের সব পোষাক। অষ্ট্রেলিয়ার একজন কর্মী আমাদের সংবাদদাতাকে বলেছেন, আমরা আশা করি, ভোক্তারা আরো ভালোভাবে অষ্ট্রেলিয়াকে অনুভব করতে পারবে। তিনি বলেন,(৩)
আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্থ উপার্জন নয়। যদিও আমরা বাণিজ্যিক বিষয়টিকে কখনো সখনো বিবেচনা করি, তবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য হল ভোক্তাদের অষ্ট্রেলিয়া সম্পর্কে বাস্তব অনুভূতি দেয়া।
অষ্ট্রেলিয়া ভবন দেখার পর বেশির ভাগ পর্যটক আমাদের সংবাদদাতাকে বলেছেন, তারা অষ্ট্রেলিয়া ভ্রমণ করতে চায়।
জিংআন রুটির দোকানের ২৫ বছরের ইতিহাস রয়েছে। এ দোকান হচ্ছে চীন ও ফ্রান্সের যৌথ মালিকানার ফরাসী রুটির দোকান। বর্তমানে শাংহাইয়ে তাদের ৭০টিরও বেশি রুটির দোকান রয়েছে। বিশ্বমেলা অনুষ্ঠানকালে বিশ্বমেলা অঞ্চলে গড়ে তোলা জিংআন রুটির দোকান ও বাইরের দোকানের খুচরা-বিক্রি মূল্য একই। জিংআন রুটির দোকানের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা স্যু ইয়ুন বলেছেন, আমরা বিশ্বমেলার সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছি। এটি কেবল আমাদের রুটির দোকানের সাংগঠনিক কমিটির স্বীকৃতি পাওয়ার প্রতীক তাই নয়, বরং আমাদের রুটির দোকানের মার্কা উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও বটে। তিনি বলেন,(৪)
আগে আমি ফুতোং অঞ্চলের একটি দোকানে কাজ করতাম। বর্তমানে বিশ্বমেলা অঞ্চলের রুটির দোকানের ব্যবসায় খুব ব্যস্ত। আমাকে এ দোকানে বদলি করা হয়েছে। আমাদের একটি দোকানের রুটি প্রতিদিন বিক্রি হয় প্রায় দশ হাজার ইউয়ান। ফ্রান্স ও জার্মানী ভবনের মাঝখানে আমাদের আরেকটি রুটির দোকানও রয়েছে। এ দোকানের বিক্রি আরও ভাল হচ্ছে।
কোকা কোলা একটি বিখ্যাত আন্তর্জাতিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান। জিংআন রুটির দোকান তার মত নয়। এ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মার্কার উন্নয়নের প্রয়োজন নেই। বিশ্বমেলা অনুষ্ঠানকালে কোকা কোলা বিশ্বমেলায় নিজের প্রসঙ্গ ভবন নির্মাণ করেছে। এ নাম হল সুখ স্টুডিও। কোকা কোলা কোম্পানির প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা ড্যাভিড লু বলেছেন, (৫)
সুখ স্টুডিও'র সামনে একটি বড় পর্দা রয়েছে। এটিতে বৈচিত্র্যপূর্ণ বিষয়বস্তু প্রদর্শন করা হচ্ছে। বিশ্বমেলায় সুখ স্টুডিও দেখার সময় আপনি কোকা কোলার একজন শ্রমিকে পরিণত হতে পারেন এবং কোকা কোলা তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে পারেন।
২০০৭ সালে শাংহাই বিশ্বমেলার সহযোগিতামূলক অংশীদারে পরিণত হবার পর কোকা কোলা কোম্পানি বাজারজাত করার ক্ষেত্রে বিশ্বমেলার আনুষঙ্গিক ব্যবস্থার জন্য বিরাট অর্থ দিয়েছে। জানা গেছে, বাজারজাতের ক্ষেত্রে অর্থ দেয়ার পরিমাণ তিন বিলিয়ন ইউয়ানেরও বেশি। সংশ্লিষ্ট চুক্তি অনুযায়ী, কোকা কোলা কোম্পানি বিশ্বমেলা অনুষ্ঠানকালে সবাইকে পানি, রস, সফট ড্রিন্কস ও চা পরবেশন করে। এর আগে কোকাকোলা পরিবেশ সুরক্ষা প্রসঙ্গে কয়েকটি কর্মসূচীরও আয়োজন করে। তার লক্ষ্য হল তার মার্কাকে ভোক্তাদের মনে আর গভীরভাবে রেখাপাত করা। বিশ্বমেলা তাদের জন্য অব্যশই একটি শ্রেষ্ঠ প্ল্যাটফর্ম।
![]() |
© China Radio International.CRI. All Rights Reserved. 16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040 |