|
||||||||||||||||||||||||||||
এ সপ্তাহের গোড়ার দিকে গ্রিস সরকারের সঙ্গে এক বৈঠকে ঋণ সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশটির বাজেটের আকার কমিয়ে আনার শর্ত বেঁধে দেয় ইইউ ও আইএমএফ। চলমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার জন্য ঋণ সহায়তার বিকল্প নেই বলে সেই কঠিন শর্ত মেনে নেয় গ্রিস। বৈঠক পরবর্তী এক টেলিভিশন ভাষণে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জ পাপানদ্রো বাজেটের আকার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকারি কর্মচারীদের পেনশন ভাতা ও বার্ষিক বোনাস বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণাও দেন। এ ঘোষণায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে দেশটির সরকারি কর্মচারীরা। এই সিদ্ধান্তকে সমাজবিরোধী আখ্যায়িত করে দেশটির সরকারি কর্মচারি ইউনিয়ন, সুপ্রিম এডমিন্সট্রেশন অব গ্রিক সিভিল সার্ভেন্টস ট্রেড ইউনিয়ন, বুধবার থেকে রাজধানী এথেন্সে ২৪ ঘন্টার ধর্মঘট শুরু করে।
ইউনিয়নের নেতা পাপাসপাইরস সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "ব্যয় কমানোর জন্য অনেক কাজই আছে যা সরকার করতে পারে। সেগুলো না করে সরকার আগেই অবসরপ্রাপ্তদের পকেটে হাত দিচ্ছে, যারা প্রত্যেকে মাসে মাত্র ৫০০ ইউরো পান।"
ধর্মঘটিরা বলছেন, আগামী দিনগুলোতে প্রতিবাদ আরো জোরালো হবে।
এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারি স্পাইরস এ্যান্টোনোপুলাস বলেন, "সরকারি সিদ্ধান্তে জনগণ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। তবে এথেন্সের বাইরের অনেকেই এখনো ব্যাপারটা বুঝতে পারেননি। কিন্তু তারা যখন পরবর্তী মাসের চেক পাবেন, তখন প্রতিবাদ করতে সন্তান, নাতি-নাতনি নিয়ে চলে আসবেন এথেন্সে।
আসলে নাগরিকরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন যাতে সরকার ঋণ পাওয়ার জন্য দেশের জন্য ক্ষতিকর কোনো শর্ত মেনে না নেয়। কিন্তু বিপুল পরিমাণ সরকারি দেনার ভারে দিগ্বিদিকজ্ঞানশূন্য পাপানদ্রো সরকারের জনগণের সে আহ্বানে সাড়া দিতে পারেনি। এর আগে গত মার্চ মাসেও সরকারের ব্যয় কমিয়ে আনার লক্ষে কর্মচারীদের বেতন কমিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেয় গ্রিস সরকার। এবার সরকারি কর্মচারীদের পেনশন ভাতা ও বোনাস বন্ধ করে দেয়ার মাধ্যমে আগামী তিন বছরে তিন হাজার কোটি ইউরো বাঁচানোর পরিকল্পনা নেয় সরকার।
সরকারি কর্মচারিদের ভাতা-বোনাস কমানোর ঘোষণা দিয়ে কর্মচারিদের আন্দোলনের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিরোধের মুখেও পড়েছে গ্রিক সরকার। এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে দেশটির বিরোধী দল নিউ ডেমোক্র্যাসি এক বিবৃতিতে বলেছে, সরকার এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর করলে গ্রিসের অর্থনৈতিক সংকট শেষ পর্যন্ত একটা দুষ্টচক্রের মধ্যে পড়বে।
অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় অবসর ভাতা ও বোনাস কমানোর সিদ্ধান্তে আখেরে কি ফল হবে তা এখনই বলা মুশকিল। তবে এ উভয় সংকটের হাত থেকে গ্রিসের মুক্তি যে সহজ হবেনা সেটা বেশ আন্দাজ করা যাচ্ছে।


| © China Radio International.CRI. All Rights Reserved. 16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040 |