|
২০১০ সালের পেইচিং আন্তর্জাতিক গাড়ি মেলা পেইচিংয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্বের আর্থিক সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত দু'টি প্রসঙ্গকে গুরুত্ব দেয়ার পাশাপাশি এ মেলায় বিভিন্ন গাড়ি শিল্পপ্রতিষ্ঠান জ্বালানি সম্পদ সাশ্রয় ও দূষিত পদার্থের নির্গমন কমানো এবং সবুজ পরিবেশ সুরক্ষাকারী নতুন জ্বালানি সম্পদ চালিত গাড়ি প্রদর্শন করেছে। এ পটভূমিতে চীনের গাড়ি শিল্পপ্রতিষ্ঠান নতুন জ্বালানি সম্পদ চালিত গাড়ি উত্পাদনের ইতিবাচক অংশগ্রহণকারীতে পরিণত হয়েছে। এবারের গাড়ি মেলায় বিওআইডি, গিলি ও চেরিসহ চীনের স্বতন্ত্র ট্রেডমার্কভূক্ত গাড়ি শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিজেদের নতুন জ্বালানি সম্পদ চালিত গাড়ি প্রদর্শন করেছে। আজকের চীনের অর্থনীতি অনুষ্ঠানে চীনের গাড়ি শিল্পপ্রতিষ্ঠান নতুন জ্বালানি সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনা আপনাদের কাছে ব্যাখ্যা করছি।
এবারের পেইচিং আন্তর্জাতিক গাড়ি মেলায় চীনের বিখ্যাত গাড়ি শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিওআইডি কোম্পানি বিদ্যুত চালিত গাড়িসহ বহু নতুন জ্বালানি সম্পদ চালিত গাড়ি প্রদর্শন করেছে। ইতোমধ্যেই বিদ্যুত চালিত গাড়ির ব্যাটারি চার্জ দেয়ার পর প্রতিবার তিন কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। জানা গেছে এ গাড়ি হচ্ছে বর্তমানে বিশ্বের একমাত্র বিদ্যুত্ চালিত গাড়ির মধ্যে চলতে পারা সবচেয়ে দূরের গাড়ি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ গাড়ির সামর্থ্য ঐতিহ্যিক জ্বালানি তেল চালিত গাড়ির তুলনায় খারাপ নয়। এ কোম্পানির যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক চাং স্যুয়ান আমাদের সংবাদদাতাকে বলেছেন, বিওআইডি গবেষণায় তৈরি বিদ্যুত চালিত টেক্সি চীনের শেনচেনে ব্যবহৃত হবে। নতুন জ্বালানি সম্পদ চালিত গাড়ির আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাও অব্যাহতভাবে উন্নত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, (১)
আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা উন্নত করার ক্ষেত্রে বিওআইডি কোম্পানি একটি নতুন জ্বালানি সম্পদ চালিত গাড়ি চাংগা করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ পর্যন্ত বিওআইডি কোম্পানির শেনচেনে তিনটি পেশাগত ব্যাটারি চার্জ দেয়ার স্টেশন ও এক শ'রও বেশি ব্যাটারি চার্জ দেয়ার কেন্দ্র রয়েছে। ভবিষ্যতে শেনচেন শহরে ১০ হাজারেরও বেশি ব্যাটারি চার্জ দেয়ার কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।
গিলি কোম্পানি সম্প্রতি ভলভো গাড়ি বিক্রির কাজ সম্পন্ন করেছে। এবারের গাড়ি মেলায় গিলি কোম্পানি দুটি বিদ্যুত্ চালিত গাড়ি ও দুটি মিশ্র জ্বালানি সম্পদ চালিত গাড়ি এবং একটি সৌর শক্তি চালিত গাড়ি প্রদর্শন করেছে। তাছাড়া, জেচিয়াং প্রদেশ থেকে আসা ইয়াংইয়ান গাড়ি কোম্পানি ও হোবেই থেকে আসার শুয়াং হুয়ান গাড়ি কোম্পানিসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানও নতুন জ্বালানি সম্পদ চালিত গাড়ি প্রদর্শন করেছে।
চীনের গাড়ি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন জ্বালানি সম্পদ চালিত গাড়ি নিয়ে গবেষণা ও তৈরির হিড়িক পড়া প্রসঙ্গে ছিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি নিরাপত্তা ও জ্বালানি সম্পদ সাশ্রয় বিষয়ক জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগারের পরিচালক কাও মিং মনে করেন, বর্তমানে জ্বালানি সম্পদ সাশ্রয় ও দূষিত পদার্থ নির্গমন কমানো হচ্ছে মূল প্রবণতা। এ পটভূমিতে চীনের গাড়ি শিল্প প্রতিষ্ঠানের নতুন উন্নয়নের দিক খুঁজে বের করা এবং চীনের গাড়ির জ্বালানি সম্পদ উন্নয়নের কৌশল প্রণয়ন করা উচিত।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিজুন বলেছেন, নতুন জ্বালানি সম্পদ চালিত গাড়ির গবেষণা বিশ্বের গাড়ি উন্নয়নের প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন,(২)
দূষণ-বিহীন গাড়ি সৃষ্টি করার অনেক উপায় রয়েছে। বর্তমানে সাধারণ উপায় হল গাড়ির কমবাশন ইন্জিনের কার্যকারিতা উন্নত করা এবং নতুন জ্বালানি সম্পদ ঐতিহ্যিক জ্বালানি সম্পদের স্থলাভিশিক্ত করা।
বর্তমানে চীন বিশ্বের বৃহত্তম গাড়ি বাজারে পরিণত হয়েছে। ছিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি গবেষণা কেন্দ্রের পরিসংখ্যান সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সাল পর্যন্ত চীনের গাড়ি উত্পাদনের পরিমাণ ২০ কোটি হবে। এর ফলে চীনের ৬০ কোটি টন জ্বালানি তেল দরকার। সুতরাং চীনের গাড়ি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন জ্বালানি সম্পদ খুঁজে বের করা উচিত। চীনের গাড়ি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এ ক্ষেত্রে বহু চেষ্টা করছে। ছাংআন গাড়ি গ্রুপের চেয়ারম্যান স্যু লিউ পিং বলেছেন, (৩)
নতুন জ্বালানি সম্পদ চালিত গাড়ি গবেষণা ক্ষেত্রে আমরা প্রতি বছর ৫০ কোটি ইউয়ান ব্যয় করছি। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে আমাদের একমাত্র বিদ্যুত্ চালিত কয়েকটি গাড়ি তৈরি হয়েছে। চলতি বছর আমরা এ ধরণের গাড়ি বাজারে বিক্রি করতে পারবো।
![]() |
© China Radio International.CRI. All Rights Reserved. 16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040 |