Web bengali.cri.cn   
বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধার
  2010-04-16 20:07:14  cri

বিগত প্রায় দু'বছরের অর্থনৈতিক মন্দার পর বিশ্ব অর্থনীতি সে সংকট কাটিয়ে উঠছে বেশ দ্রুত গতিতে। বিশ্বের শীর্ষ অর্থনৈতিক শক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও একক মুদ্রা ব্যবহারকারী ইউরো অঞ্চলের দেশগুলোসহ সারা বিশ্ব অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় এশিয়ার ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক শক্তি চীন অনেকটা নেতৃত্বের ভূমিকাই পালন করে চলেছে।

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতিতে আশার সঞ্চার করেছে যদিও ইউরো অঞ্চলের দেশগুলোর সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক চিত্র খানিকটা হতাশাব্যঞ্জক। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে নেয়া এ নানামুখী প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া সঠিক পথে চলবে কি না সে প্রশ্ন এখনও থেকেই যাচ্ছে, যদিও বিশ্লেষকরা বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে এ তিন অর্থনৈতিক শক্তির সমন্বয়কে খুবই জরুরি বলে মনে করছেন। কারণ, এ তিন অর্থনৈতিক শক্তির কোন রকমের দ্বন্দ্ব পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে হুমকির মুখে ঠেলে দিতে পারে বলেই তাদের ধারণা।

এই পুনরুদ্ধার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে এশিয়ার বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি চীন।

গত বছরের প্রথম প্রান্তিক, অর্থাত জানুয়ারি-মার্চ সময়, থেকেই উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায়ও নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে দেশটি। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকেও চীনের প্রবৃদ্ধির হার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়বে বলে আশা করছে দেশটির সরকার। শিগগিরই চীন সরকারের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত ঘোষণা আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও বিশ্ব অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। ভয়াবহ মন্দা কাটিয়ে গত বছরের মাঝামাঝি থেকেই দেশটির প্রবৃদ্ধি বাড়তে শুরু করে। সর্বশেষ গত বছরের শেষ প্রান্তিকে অর্থাত অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে দেশটির প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। এটা বিশ্ব অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে ছিল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তবে চলতি বছরের গোড়ার দিক থেকে দেশটির অর্থনীতিতে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। যদিও তারা বলছেন, এই নিম্নমুখী প্রবণতা ভয়াবহ হবে না।

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বেশ দৃঢ় হলেও অবস্থা একটু নাজুক ইউরো অঞ্চলের। সম্মিলিতভাবে বিশ্বের অর্থনীতিতে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এ অঞ্চলে গত বছরের শেষ প্রান্তিক থেকে এখন পর্যন্ত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি খুবই দুর্বল। অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের হারও সামগ্রিকভাবে বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। নতুন করে দেখা দিয়েছে মূদ্রাস্ফীতির হার বাড়ার আশংকা। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরো অঞ্চলে মুদ্রাস্ফীতির হার বেশ খানিকটা বাড়তে পারে। যদি এ আশংকা সত্যি হয়, তাহলে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন করে চাপের মুখে পড়তে যাচ্ছে। এদিকে ইউরো অঞ্চলে মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মত আবার রয়েছে গ্রিসের অর্থনেতিক সংকট। গ্রিসের সংকট সার্বিকভাবে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লাগাম বেশ জোরেসোরেই টেনে ধরেছে। তবে এরই মধ্যে একটা আশার কথা হলো বেশ দেন দরবারের পর ইউরো অঞ্চলের নেতারা সম্প্রতি গ্রিসের সংকট মোকাবিলায় ৩০ বিলিয়ন ইউরো ঋণ দিতে রাজী হয়েছেন। ইউরো অঞ্চলের এ ঋণ দেয়ার ঘোষণায় আন্তর্জাতিক মূদ্রা তহবিল বা আইএমএফ, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাগুলোও সন্তোষ প্রকাশ করেছে। গ্রিস সরকার আশা করছে এই ঋণ দিয়ে তারা চলমান সংকট মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠার ক্ষেত্রে ইউরো অঞ্চল ভালো অবদান রাখতে চাইলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে যথোপযুক্ত নীতি প্রণয়ন করতে হবে। তা নাহলে এ অঞ্চলই শুধু পিছনে পড়ে থাকবে না, সার্বিকভাবে বিশ্ব অর্থনীতিকে পিছন থেকে টানবে পুনরুদ্ধারের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে।

সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন
মন্তব্যের পাতা
ভিডিও চিত্র
সাক্ষাত্কার
চিঠিপত্র
Play Stop
© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040