|
চীনের অর্থনীতি ধারাবাহিকভাবে কয়েক বছরে দ্রুত উন্নতি লাভ করেছে। তবে এই সময়ে দেশের সম্পদ ও পরিবেশের ওপর চাপও বেড়েছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনের অর্থনীতির অবদান বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বাণিজ্য সংরক্ষণবাদসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাপ বেড়েছে।
এসব সমস্যা বর্তমানে চীনের অর্থনৈতিক কাঠামো ও উন্নয়ন পদ্ধতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এবারের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংকট কেবল চীনের উন্নয়ন গতিকেই প্রভাবিত করেনি, চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পদ্ধতির ওপরও প্রভাব ফেলেছে তা।
পেইচিংয়ে অবস্থিত ক্যাপিটাল ইউনির্ভাসিটি'র অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের উপাচার্য জাং লিয়েন ছেং আমাদের সংবাদদাতাকে বলেন, চীনের বর্তমান অর্থনৈতিক উন্নয়ন পদ্ধতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তিনি বলেন, (১)
"চীনের অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের প্রধান উপায় হল শ্রমঘনিষ্ঠ শিল্প ও প্রাকৃতিক জ্বালানি সম্পদ ক্ষেত্রে বেশি বরাদ্দ দেয়া। সুতরাং চীনের এই অর্থনৈতিক সমস্যা দূর করতে চাইলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পদ্ধতি পরিবর্তন করা খুবই জরুরী।"
চীনের প্রধানমন্ত্রী ওয়েন চিয়া পাও বলেছেন, ২০১০ সাল হবে চীনের জন্য আন্তর্জাতিক আর্থিক সংকট মোকাবিলা, অর্থনীতির স্থিতিশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের পদ্ধতি পরিবর্তন দ্রুততর করার গুরুত্বপূর্ণ বছর। কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়নের পদ্ধতি পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক কাঠামো সুবিন্যস্ত করার প্রক্রিয়া দ্রুততর করা এবং সংস্কার, উন্মুক্তকরণ ও নিজস্ব উদ্ভাবন ত্বরান্বিত করার মাধ্যমে চীন গভীর পর্যায়ের অসংগতি দূর করতে, বাইরের পরিবেশের প্রতিকূল প্রভাব প্রতিহত করতে এবং টেকসই উন্নয়নের পথে গতি অব্যাহত রাখতে পারবে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের পদ্ধতি পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মান উন্নত করা গেলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও উন্নতি সাধিত হবে। আর এর ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়নে এসব বিষয়ের অবদান বাড়বে। চলতি বছরের অর্থনৈতিক কর্মসূচীতে প্রধানমন্ত্রী ওয়েন চিয়া পাও কৌশলগত নতুন খাত পরিচর্যার ওপরজোর দেন। তিনি বলেন, (২)
"আমাদের কৌশলগত নতুন খাত, যেমন নতুন জ্বালানি সম্পদ, নতুন উপকরণ, জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশ-বান্ধব প্রযুক্তি, জৈব ওষুধ, তথ্য নেট, উচ্চ উত্পাদনশীল শিল্প ইত্যাদি পরিচর্যা করা প্রয়োজন। আমাদেরকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি-চালিত গাড়ি তৈরি ও চালু করার কর্মসূচী ইতিবাচকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। পরবর্তীতে কৌশলগত নতুন খাতে অর্থ বরাদ্দ দেয়া ও নীতি সমর্থন জোরদার করতে হবে।"
নতুন শিল্পের উন্নয়নে বিশেষ দক্ষ জনবলকে লালন করা দরকার। এর পাশাপাশি চীন শিক্ষা ক্ষেত্রে অর্থ বরাদ্দ ধাপে ধাপে বাড়ানো দরকার, যাতে উত্পাদন, শিক্ষা ও গবেষণার মধ্যে সমন্বয় সাধন করা যায়। তাছাড়া, চীন বর্তমানে কিছু খাতের অযৌক্তিক কাঠামো ক্রমে সুবিন্যস্ত করবে, যাতে বিভিন্ন পর্যায়ের দক্ষ জনশক্তির আরো বড় কর্মসংস্থান প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা যায়।
উল্লেখ্য, অর্থনৈতিক উন্নয়নের পদ্ধতি পরিবর্তন করতে চাইলে অর্থনৈতিক উন্নয়নে পুঁজি বিনিয়োগ এবং রপ্তানির ওপর অধিক নির্ভরশীলতা কমানো দরকার, যাতে পণ্যের স্থানীয় ব্যবহার, পুঁজি বিনিয়োগ ও রপ্তানির সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়। এর ফলে শহর ও গ্রামের নাগরিকদের আয় বাড়বে, তাদের পণ্য-চাহিদা বাড়বে এবং বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষার কাজ সক্রিয় হবে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের পদ্ধতি পরিবর্তনের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সেবা খাতের উন্নত সাধন করা। বর্তমানে চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সেবা খাতের চেয়ে শিল্প খাতের অবদান অনেক বেশি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মর্গান স্টানলির এশিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান স্টিফেন রোশ এ প্রসঙ্গে বলেন, (৩)
"বর্তমানে চীনের জিডিপি'তে সেবা খাতের অবদান মাত্র ৩৫ শতাংশ, যেখানে উন্নত দেশগুলোতে জিডিপিতে সেবা খাতের অবদান ৭০ শতাংশ। চীনে সেবা খাতের উন্নয়নের বিশাল অবকাশ রয়েছে। সেবা খাত উন্নত হতে কেবল জ্বালানি সম্পদ ও পরিবেশসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের ওপর চাপ কমবে তাই নয়, বরং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং আরো বেশি জনগণ অর্থনৈতিক উন্নয়নের ফল ভোগ করতে পারবে।"
![]() |
© China Radio International.CRI. All Rights Reserved. 16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040 |