|
||||||||||||||||||||||||||||

ওয়েন চৌ আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের সংবাদদাতা মঙ্গোলিয়ার একজন যুবকেরর সাক্ষাত্কার নিয়েছেন। এ যুবকের নাম সিচির। সিচির আমাদের সংবাদদাতাকে বলেছেন, তিনি ও তার মা মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটোরে চীনা মাটির তৈরি জিনিসপত্রের ব্যবসা করেন। প্রতি মাসে তিনি এরলিয়েনহাওটের ওয়েন চৌ আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এসব পণ্যদ্রব্য আমদানি করেন। তিনি এখানকার পণ্যদ্রব্যের মানের সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি আমাদের সংবাদদাতাকে বলেছেন, ১০ বছর ধরে তিনি ও তার মায়ের চীনা মাটির জিনিসপত্র বিক্রয়ের দোকানের সব পণ্য এখান থেকে আমদানি করা হয়েছে।
সাক্ষাত্কারের সময় আমাদের সংবাদদাতা জানতে পেরেছেন যে, ৪০ হাজারেরও বেশি বর্গমিটার আয়তনের এ বাজারে যে কেবল চীনের বিভিন্ন জায়গার পাঁচ শতাধিক চীনা ব্যবসায়ী রয়েছেন তাই নয়, বরং মঙ্গোলিয়ারও বেশ কিছু ব্যবসায়ী এখানে ছোটখাটো ব্যবসা করছেন। মঙ্গোলিয়া থেকে আসা নারেনকেরিলে তাদের মধ্যে একজন। ২০০১ সালে তার মা ও একজন চীনা এক সঙ্গে একটি কাপড়ের দোকান খুলেছেন। বর্তমানে আরও নিজের পৃথক দোকান রয়েছে। এর পাশাপাশি তার দোকানের এ বাজারে সুনাম রয়েছে। নারেনকেরিলে বলেছেন,
আগে আমাদের ছোটখাটো ব্যবসা ছিল খুব ভালো। বর্তমানে যদিও আন্তর্জাতিক আর্থিক সংকটের কিছু নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবুও বলবো খারাপ নয়। আমাদের দোকানের সুনাম রয়েছে। বেশ কিছু নিয়মিত ক্রেতাও আমাদের দোকানে জিনিস কিনছেন। আমি এরলিয়েনহাওটেও একটি বাড়ি কিনেছি। আমি কাপড় ও প্রসাধন সামগ্রী বিক্রয় করার পাশাপাশি বিদেশ থেকে প্রেরিত অর্থ বিলি বন্টনের বিভিন্ন কাজও পরিচালনা করছি।

সীমান্ত এলাকার আর্থ-বাণিজ্যিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য চীন কয়েকটি সুবিধাজনক ব্যবস্থা নিয়েছে। যাতে এখানে দেশ ও বিদেশের আরো বেশি ব্যবসায়ীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়। নারেনকেরিলে এরলিয়েনহাওটে ব্যবসার সব কার্যপ্রণালী ও শুল্ক চীনা ব্যবসায়ীদের মত। তিনি মনে করেন, এরলিয়েনহাওটেয় বসবাস করা খুব সুবিধাজনক। তিনি বলেছেন, চীনা ব্যবসায়ীর মত আমরা প্রতি মাসে শুল্ক ও পরিচালনা হওয়ার ফি প্রদান করি। আমাদের ওপর কোন চাপ নেই। আমি এরলিয়েনহাওটেয় নয় বছর বসবাস করছি। আমার মেয়ের বয়স এখন দু বছর । এখন সে মঙ্গোলিয়া জাতির কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষা গ্রহণ করছে। আমি এরলিয়েনহাওটেয় বসতিস্থাপন করতে চাই।
ওয়েন চৌ আন্তর্জাতিক বাজার হচ্ছে এরলিয়েনহাওটেয় প্রথম দফা গড়ে তোলা একটি সীমান্ত বাণিজ্যিক বন্দর। এ বাজার উন্নয়নের গতি খুব দ্রুত। এর ওপর বহু বছর ধরে এ বাজারে ব্যবসা করা "দক্ষিণ চীনের রেশমী জামা পোশাক" নামক দোকানের পরিচালক স্যু শেং ইউয়ে বলেছেন,
আমি এখানে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বসবাস করছি। ১৯৮৫ সালে আমি এখানে আসার সময় তখনো চীনের বৈদেশিক উন্মুক্তকরণ নীতি বাস্তবায়ন শুরু হয় নি। ১৯৯০ সালে এরলিয়েনহাওট প্রথম মঙ্গোলিয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হয়েছে। সে বছর থেকেই আমি তৈরি রেশমী পোশাক ব্যবসা করছি। আগে আমি খড়ি মেরামত করতাম। কারণ মঙ্গোলিয়ার জনগণের জাতীয় পোশাক তৈরীর সময় রেশম ব্যবহার করা দরকার। তাছাড়া, তারাও রেশম খুব পছন্দ করে।
ব্যবসায়ী স্যু শেং ইউয়েন একজন সফল ব্যবসায়ী। তার বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, একজন ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিপত্তি খুব গুরুত্বপূর্ণ। তার ব্যবসার প্রস্তাব মঙ্গোলিয়ার বেশ কিছু ক্রেতার আস্থা অর্জন করেছে। বর্তমানে তার মঙ্গোলিয়ার অনেক বেশি বন্ধু রয়েছে। এক বছরে তার বিক্রির পরিমাণ ৫০ উউয়ানেরও বেশি।
সাক্ষাত্কারে স্যু শেং ইউয়েন আমাদের সংবাদদাতাকে বলেছেন, গত বছর থেকে আন্তর্জাতিক আর্থিক সংকট ওয়েন চৌ আন্তর্জাতিক বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। মঙ্গোলিয়ার ব্যবসায়ীদের কেনাকাটার সামর্থ্য হ্রাস পেয়েছে। এতে এ বাজারের ব্যবসায়ীদের বিক্রির পরিমাণের ক্ষেত্রে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। চলতি বছরের বিক্রির পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮০ শতাংশ কমেছে। তিনি বলেন,

গত বছর পণ্যের দাম ছিল প্রায় ছ রেন মিন পি, তবে চলতি বছর শুধু এক রেন মিন পিতে বিক্রি হতে পারে। এ সংখ্যা ছ'গুণ হ্রাস পেয়েছে। কাঁচামালের দাম তেমন বেশি হ্রাস পায় নি, স্টাফের বেতনও কমে যাবে না। সুতরাং চলতি বছর ব্যবসা করা হবে খুবই কঠিন।
আর্থিক সংকট মোকাবিলার জন্য চীন সরকার সীমান্ত এলাকার বাণিজ্যিক উন্নয়নে বরাদ্দ দেয়ার অর্থ বৃদ্ধি করেছে। যাতে সীমান্ত এলাকার বাণিজ্যিক উন্নয়ন এবং ছোট বাণিজ্যিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সহায়তা দেয়া যায়। আর্থিক সংকটের নেতিবাচক প্রভাবে ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসের জন্য এরলিয়েনহাওটে শহরও সংশ্লিষ্ট কতিপয় নীতি প্রণয়ন করেছে। ওয়েন চৌ আন্তর্জাতিক বাজারের বিষয় পরিচালনা কোম্পানির পরিচালক ওয়াং জি কুও বলেছেন,
পৌর কমিটি ও পৌর সভা জনগণ ও ব্যবসায়ীদের জন্য বেশ কিছু সহায়ক নীতি প্রণয়ন করেছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা। পৌর কমিটি ও পৌর সভা এরলিয়েনহাওটের ছ' হাজার খুচরো বিক্রেতাকে এক শ' ইয়ান করে ভর্তুকি দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের এসব নীতির সহায়তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়ীরা নিজেদের শুভবুদ্ধি ও পরিচালনার প্রস্তাব অনুযায়ী সীমান্ত এলাকার বাণিজ্য সুরক্ষা ও উন্নত করেছে। ব্যবসায়ী স্যু শেং ইউয়েসহ বহু ব্যবসায়ী বলেছেন, তারা আশা করেন, চীন ও মঙ্গোলিয়ার যৌথ প্রচেষ্টায় আর্থিক সংকটের নেতিবাচক প্রভাব থেকে নিজেদের রক্ষা করবেন। তারা ওয়েন চৌ আন্তর্জাতিক বাজার সমৃদ্ধ পুনরুদ্ধারের ব্যাপারে আস্থাবান।
সুপ্রিয় শ্রোতাবন্ধুরা, আজকের অনুষ্ঠান এখানেই শেষ করছি, আমাদের সঙ্গে থেকে অনুষ্ঠানটি শোনার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। শ্রোতাবন্ধুরা অর্থনীতির অগ্রযাত্রা অনুষ্ঠান সম্পর্কে আপনাদের মতামত আমাদের অনুষ্ঠানকে আরো সমৃদ্ধ করবে । আপনারা সবাই সুস্থ থাকুন, সুন্দর থাকুন । পরবর্তী আসরে আবার কথা হবে।


| © China Radio International.CRI. All Rights Reserved. 16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040 |