|
চীনের বিবিধ বাদ্যযন্ত্র সাধারনতঃ বাঁশ , কাঠ , ধাতব দ্রব্য ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে তৈরি করা হয় । 'লুও' অর্থাত্ ঢোল তামা দিয়ে তৈরি করা হয় । ঢোলের আকার বৃত্তাকার । তার কাঠামো সহজ । সংগীতের সুর বাজানোর সময় ঢোলের কেন্দ্রস্থলে কাঠের হাতুড়ি দিয়ে পিটাতে হয় । কেন্দ্রস্থলের দিক থেকে কম্পন সৃষ্টির সংগে সংগে এর চড়া শব্দ শোনা যায় । ঢোলের বিভিন্ন জায়গার ঘনত্বও ভিন্ন । ঢোলের কেন্দ্রস্থলের অদূরে , ঘনত্ব বেশি । এবং ঢোলের কেন্দ্রস্থল থেকে দূরের জায়গায় ঘনত্ব কম । সুতরাং কেন্দ্রস্থল থেকে সংগীতের সুর বাজানো হলে সবচাইতে চড়া শব্দ শোনা যায় । নইলে ঢোলের শব্দ একটু কম হয় ।
চীনের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষের চেয়ে দক্ষিণ পশ্চিম চীনে বসবাসকারী চীনের সংখ্যালঘু জাতিগুলোর মানুষ অনেক আগে থেকেই তামার ঢোল ব্যবহার করতো । খ্রীষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকে বিভিন্ন জাতির মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় বেড়ে যাওয়ার সংগে সংগে তামার ঢোল চীনের অভ্যন্তর বিভাগে প্রচলন শুরু হয় । সেকালে তামার ঢোল যুদ্ধের সময় বেশি ব্যবহার হতো । প্রাচীনকালে সেনানায়করা সাধারণত তামার ঢোল দিয়ে যুদ্ধ পরিচালনা করতেন । এর পর তামার ঢোল তৈরির কৌশল ও তা দিয়ে সংগীতের সুর বাজানোর নৈপুণ্য ক্রমাগতভাবে উন্নত হওয়ার পাশাপাশি লোক সংগীত ও অপেরা পরিবেশনের ব্যাপারে তার ভূমিকা অধিক থেকে অধিকতর হয়ে ওঠে । বিশেষ করে সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতকে সংগীতের সুর বাজানোর একটি বাদ্যযন্ত্র হিসেবে তামার ঢোল ইউরোপ মহাদেশেও ব্যাপকভাবে প্রচলন শুরু হয় । দীর্ঘকাল ধরে বিভিন্ন ক্ষেত্রের ব্যবহারের চাহিদা মোটানোর জন্য ৩০ জাতেরও বেশি তামার ঢোলের আবির্ভাব হয় ।
বড় তামার ঢোলের ব্যাস ৩০ থেকে ১ শ' সেন্টিমিটার পর্যন্ত । তার শব্দ গম্ভীর ও নিবিড় । তা দিয়ে সংগীত বাজালে সুর একটু নরম মনে হয় । বিরাট বাদক দলে তা বাজালে পরিবেশনা আরো প্রানবন্ত করা সম্ভব হয় সম্ভব হবে । নাটক ও অপেরার পরিবেশনের সময় এ ধরনের ঢোল বাজালে পরিবেশ ও চরিত্রের মনোভাব আরো জোরদার হয় । (থান ইয়াও খাং)
![]() |
© China Radio International.CRI. All Rights Reserved. 16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040 |