|
১ অক্টোবর হচ্ছে নয়া চীন প্রতিষ্ঠার ৬০ বছর পূর্তির দিবস। এ দিনে পেইচিংয়ের থিয়েন-আন-মেন মহাচত্বরে আড়ম্বপূর্ণ উদযাপনী অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। কুচকাওয়াজ হচ্ছে উদযাপনী অনুষ্ঠানের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখন কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণকারী সেনাবাহিনী পেইচিংয়ের উপকণ্ঠে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। তারা সারা বিশ্বের কাছে শ্রেষ্ঠ নৈপুন্য দেখাবেন। আজকের অনুষ্ঠানে আপনারা আমাদের সংবাদদাতার সঙ্গে পেইচিংয়ের উপকণ্ঠে অবস্থিত দুটি কুচকাওয়াজ গ্রামে প্রবেশ করেন। আমরা অংশগ্রহণকারী সামরিক অফিসার ও সৈন্যদের সুশৃঙ্খল ও বৈচিত্র্যময় প্রশিক্ষণ ও বিনোদন জীবন দেখবো।
এখন আপনারা কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণকারী সেনাবাহিনীর পেইচিংয়ের উত্তর উপকণ্ঠের শাহো কুচকাওয়াজ গ্রামে প্রশিক্ষণের আওয়াজ শুনছেন। কুচকাওয়াজ গ্রামে প্রবেশের পর দল গঠন প্রশিক্ষণ হচ্ছে তাদের প্রতিদিনের প্রধান বিষয়বস্তু। বিমান বাহিনীর শিক্ষার্থী চিং লি শুয়াই বলেছেন, তাঁদের প্রশিক্ষণ পুরোদমে চলছে। প্রতিটি সৈন্য চীনের ৬০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপনের কুচকাওয়াজে অংশ নেয়ার জন্য গর্ব বোধ করেন।
তিনি বলেন, 'প্রতিটি মানুষ যথাসাধ্য চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রশিক্ষণে কোন সমস্যা হলে আমরা স্বাভাবিক মন দিয়ে মোকাবিলা করতে পারি এবং যথাক্রমে অতিক্রম করেছি। তেমন কঠিন মনে হয় না।'
আসলে প্রশিক্ষণের কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য প্রশিক্ষণে কিছু বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে এবং সৈন্যদের পরিশ্রম ও বিশ্রামের উভয়ের ওপর নজর দেয়া হয়েছে। বাহিনী দল কয়েক ঘন্টা প্রশিক্ষণ নেয়ার পর এক বার বিশ্রাম নেয়। এ ফাঁকে তারা কিছু ছোট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা খেলার আয়োজন করে, যাতে সবার মন একটু হালকা করা যায়।
ম্যারিন বাহিনীর সৈন্যরা বাদ্যযন্ত্র বাজাচ্ছেন
এখন আপনারা ম্যারিন বাহিনীর কয়েক জন সৈন্যর বাজানো বাদ্যযন্ত্রের রেকর্ডিং শুনছেন। এরপর তারা সামরিক গানও গেয়েছেন। তাদের গান শুনে পাশে দাঁড়ানো নৌ বাহিনীর সৈন্যরাও গান গাইতে শুরু করে। পুরুষ সৈন্যদের তুলনায় নারী সৈন্যরা আরো তত্পর। তাঁরা প্রাণবন্ত আধুনিক নৃত্য করেছেন। তাদের নাচ দেখে চীনের আধুনিক মহিলার বিশেষ সৌন্দর্যও প্রকাশিত হয়।
নারী সৈন্যরা নাচ করছেন
সৈন্যদের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য কুচকাওয়াজ গ্রামে সামরিক ডাক্তারও রয়েছেন। প্রতিদিন প্রশিক্ষণের সময় সামরিক ডাক্তার সবসময় পাশে দাঁড়িয়ে দেখেন এবং যে কোন সময় চিকিত্সা সেবা করতে প্রস্তুত। উল্লেখ্য, কুচকাওয়াজ গ্রাম সৈন্যদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নজর দিচ্ছে। থোচৌ কুচকাওয়াজ গ্রাম হচ্ছে জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজের সাজসরঞ্জাম দলের প্রশিক্ষণের কেন্দ্র। এখানে বিশেষ করে মানসিক হস্তক্ষেপ চিকিত্সা কেন্দ্র খুলেছে। সাজসরঞ্জাম দলের নিশ্চয়তা বিভাগের বৈজ্ঞানিক গবেষণা গ্রুপের প্রকৌশলী লু মিং চিং জানিয়েছেন, তারা প্রধানত দুটি উপায়ে মানসিক হস্তক্ষেপ করেন।
মানসিক তত্ত্বাবধান কার্যালয়
তিনি বলেন, 'একটা হচ্ছে মানসিক তত্ত্বাবধান কার্যালয়ের সাজসরঞ্জামের মাধ্যমে সৈন্যদের বাস্তব মানসিক অবস্থা তত্ত্বাবধান করা, তারপর মনস্তত্ত্ববিদ প্রতিটি সৈন্যের নির্দিষ্ট অবস্থা অনুযায়ী তাদের মানসিক হস্তক্ষেপ করেন। তা ছাড়া আমরা কিছু দলগত খেলার আয়োজন করি। বা একসাথে গল্প করার মাধ্যমে সৈন্যদের মন হালকা করার চেষ্টা করি।'
কুচকাওয়াজ গ্রামে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ছাড়া আরো বৈচিত্র্যময় অবসর তত্পরতা আছে। থোচৌ কুচকাওয়াজ গ্রামের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্রামে সাংস্কৃতিক মহাচত্বর আছে। সৈন্যরা প্রতিদিন সেখানে বাস্কেটবল, ব্যাডমিন্টন ও ভলিবলসহ নানা খেলা খেলতে পারেন। প্রতিটি দলে দৈনিক পত্রিকা, টেলিভিশন ও ইন্টারনেট ব্যবস্থা আছে। প্রতি সপ্তাহে এখানে সর্বশেষ চলচ্চিত্র দেখানো হয়। প্রতি মাসে এখানে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখানো হয়। তা ছাড়া কুচকাওয়াজ গ্রাম জাতীয় দিবস কুচকাওয়াজ সম্পর্কিত শ্লোগান, ডায়েরী, গান, কবিতা ও কার্টুন ছবি সংগ্রহ করে।
শাহো কুচকাওয়াজ গ্রামে সৈন্যদের অবসর জীবনও বৈচিত্র্যপূর্ণ। বিমান বাহিনীর চিং লি শুয়াই বলেছেন, প্রশিক্ষণ ছাড়া তিনি বাস্কেটবল খেলতে সবচেয়ে পছন্দ করেন।
তিনি বলেন, 'আমরা টেলিভিশনে সংবাদ দেখতে পারি, বেতার অনুষ্ঠান শুনতে পারি, বিভিন্ন ধরনের পত্রিকা পড়তে পারি, প্রতি সপ্তাহে এক বার চলচ্চিত্র দেখি এবং প্রতি মাসে এক বার বড় আকারের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানএর ব্যবস্থা আছে। আমাদের সময় থাকলে আমরা একসাথে কবিতা আবৃত্তি ও কারা ওকে প্রতিযোগিতার আয়োজন করি। আমি বাস্কেটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছি। আমাদের অবসর জীবন খুব সমৃদ্ধ।'
সৈন্যদের জন্য সুস্বাদু খাবার রান্না করছেন
দৈনন্দিন জীবনে কুচকাওয়াজ গ্রামে নানা ক্ষেত্রে মানুষকে প্রাধান্য দেয়ার মূল নীতি প্রতিফলিত হয়। সৈন্যরা প্রতিদিন সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার খেতে পারেন। চীনের ঐতিহ্যিক খাবার ডাম্প্লিং ও নুডলস ছাড়াও পাশ্চাত্য খাবারও সরবরাহ করা হয়। সৈন্যরা প্রতিদিন গরম পানি দিয়ে গোসল করতে পারেন। তাদের থাকার প্রতিটি ঘরে এয়ার-কন্ডিশনার বসানো আছে। তা ছাড়া তাদের থাকার হলের নিকটে পাবলিক ফোন আছে। সৈন্যরা প্রায়শই আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করতে পারেন।
কুচকাওয়াজ গ্রামের সুপারমার্কেট
উল্লেখ্য যে, কুচকাওয়াজ গ্রামে জীবন সেবা কেন্দ্র খুলেছে। সেখানে ডাকঘর, ব্যাংক, সুপারমার্কেট, নাপিতশালা ও পাব রয়েছে। যাতে সৈন্যরা কুচকাওয়াজ গ্রামে থাকার সময় যেন নিজের বাসায় থাকার মত সুবিধাজনক অবস্থা অনুভব করে।(ইয়ু কুয়াং ইউয়ে)
![]() |
© China Radio International.CRI. All Rights Reserved. 16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040 |