v চীনের বিশ্ব কোষv চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগ
দুধেল গাই পালনে তিব্বতীদের সচ্ছলতা
2009-04-28 20:38:02

ছাং চু থানার সে খাং গ্রামের কৃষক নাওয়াছিরেন এ নীতির ফলে উপকৃত হয়েছেন । গত বছরের মে মাসে তিনি একটি উন্নত মানের দুধেল গাই কিনেছেন । এতে তার পরিবার পরিজনের দুধের চাহিদা পুরোপুরি মিটেছে । এ ছাড়াও বাকী দুধ বিক্রি করে ৩ হাজার ইউয়ানেরও বেশি আয় করতে পারছেন ।

আগে প্রতি দিন একটি সাধারণ দুধেল গাই শুধুমাত্র তিন কিলোগ্রাম দুধ দিতো । এখন একটি উন্নত মানের দুধেল গাই প্রতি দিন ৭.৫ কিলোগ্রাম দুধ দিচ্ছে ।

নাওয়ানছিরেন বলেন , তার রসুন চাষ ও দুধেল গাই পালনের মাধ্যমে বার্ষিক আয় হচ্ছে ৪০ হাজার ইউয়ানেরও বেশি । নাই তুং জেলার কৃষি ও পশুপালন কোম্পানির কর্মকর্তা হো সু পিং বলেন , কৃষকদের দুধ যাতে আরো বেশি ও দ্রুত বিক্রি করা যায় , সেজন্য কোম্পানি বাইরের বিভিন্ন ক্ষেত্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে । এতে কৃষকরা আরো বেশি উপকৃত হবেন ।

২০০৯ সাল থেকে কৃষক ও পশুপালকদের দুধ তাদের কোম্পানির মাধ্যমে বিক্রি করা হয় । কোম্পানির উদ্যোগে এ সব দুধ লাসার বড় দুধ কোম্পানির কাছে পাঠানো হচ্ছে । আগামী ৫ বছরে কোম্পানিটি আশেপাশের ৮ হাজার কৃষক পরিবারের জন্য দুধের ব্যবসার সেবা যোগাবে ।

সান নান অঞ্চলের কৃষি ও পশুপালন শিল্পের উন্নয়নে তিব্বতের ব্যাপক পরিবর্তন ফুটে উঠেছে । এ জেলার একজন কর্মকর্তা বলেন , ২০০০ সালের আগে এ জেলার ঐতিহ্যবাহী কৃষি ও পশুপালন শিল্প অনুন্নত ছিল । শিল্পের বৈশিষ্ট্য ছিল না , শিল্পের কাঠামো যুক্তিযুক্ত নয় । ২০০৪ সাল থেকে এ অঞ্চলে ঐতিহ্যবাহী কৃষি ও পশুপালন শিল্পে রূপান্তরের গতি দ্রুততর হয়েছে , গ্রামাঞ্চলে অবকাঠামো ব্যবস্থার নির্মাণকাজ পূর্ণাঙ্গ করে তোলা হয়েছে এবং জন জীবনের মান অনেক উন্নত হয়েছে । তিনি বলেন ,

এ পর্যন্ত সান নান অঞ্চলের ৬০ শতাংশ কৃষি জমিতে গম ও যব , ২৫ শতাংশ জমিতে অর্থকরী ফসল এবং বাকী ১৫ শতাংশ জমিতে পশুদের খাওয়ার ঘাস চাষ করা হচ্ছে । অর্থকরী ফসলের মধ্যে শরিষা চাষ জনপ্রিয় করে তোলা হচ্ছে । কৃষি কাঠামো পুনর্গঠনের পর বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ফসল উত্পাদনের পরিমাণ আগের চেয়ে তিন থেকে চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে । রসুন চাষের মাধ্যমে দুধেল গাই পাওয়া নীতির উত্সাহে কৃষকদের কাজের আগ্রহ অনেক বেড়েছে । ৩৪ বছর বয়স্ক তিব্বতী যুবতী ইয়েশি জুগার বাড়িতে মুর্গী পালনের একটি খামার রয়েছে । মুর্গী পালনের প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা শিখে নেয়ার জন্য তিনি ও তার স্বামী মধ্য চীনের হুপেই প্রদেশে গিয়েছিলেন । ২০০৩ সালে যখন তাদের মুর্গী খামার গড়ে তোলা হয় , তখন সরকার তাদের বিনা পয়সায় মুর্গীর বাচ্চা ও জায়গা সরবরাহ করে । কয়েক বছরের পর তাদের পরিবারের আয় ১০ লাখ ইউয়ানে দাঁড়িয়েছে ।

সচ্ছল হয়ে উঠার জন্য তিনি আরো বেশি গ্রামবাসীকে সহায়তা করেছেন । বিপুল পরিমাণে মুর্গী পালনের জন্য তিনি ও তার পরিবারের উদ্যোগে গ্রামে একটি বিরাট মুর্গী কোম্পানি গড়ে তোলা হয়েছে । এ কোম্পানির সাহায্যে মুর্গী পালনের জন্য যেমন বাচ্চা মুর্গী ও মুর্গীদের খাবার সমস্যার সমাধান করা হয়েছে , তেমনি মুর্গী বিক্রির সমস্যাও নিষ্পত্তি করা হয়েছে ।

আবহাওয়া ও পরিবেশের কারণে তিব্বতে দূষণমুক্ত কৃষি পণ্য তৈরি করা হয় । এ ধরনের উন্নত মানের খাবার অভ্যন্তর ভাগের জনগণের কাছে দারুণভাবে সমাদৃত হয়েছে ।

(থান ইয়াও খাং)


1 2 3
  • সাক্ষাত্কার
  • সর্বশেষ সংবাদ
  • অন-লাইন জরীপ
     
    © China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
    16A Shijingshan Road, Beijing, China