
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ৪ বছরে এখানকার পর্যটকের সংখ্যা প্রতি বছর ২০ শতাংশ করে বাড়ছে। গত বছর পর্যটকের সংখ্যা ছিল ১৬ লাখ ৫০ হাজার। পর্যটন শিল্প স্থানীয় অর্থনীতির মেরুদণ্ড স্থানীয় শিল্পে পরিণত হয়েছে।
খে শি খে থেং জেলার পর্যটন ব্যুরোর মহাপরিচালক সুন মিং ইয়ু বলেছেন, তুলনামূলকভাবে খে শি খে থেং জেলার প্রাকৃতিক পরিবেশ দুর্বল। ঐতিহ্যবাহী কৃষি ও পশুপালন শিল্প প্রকৃতি নষ্ট হচ্ছে। কিন্তু পর্যটন শিল্প উন্নয়নের প্রক্রিয়ায় সরকার দর্শনীয় স্থানে পশু-পালন নিষিদ্ধ করেছে। ফলে পর্যটন শিল্প অব্যাহতভাবে বেড়ে চলায় পর্যটন সম্পদ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ কার্যকরভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা দৃঢ় হয়েছে। মহাপরিচালক সুন মিং ইয়ু বলেন,
প্রাকৃতিক পর্যটনের উন্নয়ন করা আসলে অন্য দিক থেকে স্থানীয় কৃষি ও পশুপালকদের ধারণায় রূপান্তরিত করা। সবাইকে প্রকৃতি সংরক্ষণের আহ্বান জানানো মানুষের ভাবাদর্শ ও ধারণার অংশ। একই সঙ্গে ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি রূপান্তরিত করা এবং আরো বেশি মানুষের প্রথম শিল্প—কৃষি ও পশুপালন শিল্প থেকে তৃতীয় শিল্পে যোগ দেয়া।

বর্তমানে অনেক পশুপালক পশুপালনের পাশাপাশি নিজেদের চারণভূমিতে পারিবারিক পর্যটন প্রকল্প চালু করেছেন। এ সব বছরগুলোতে পশুপালকদের উত্পাদন ও জীবনযাপনের বিরাট পরিবর্তন হয়েছে। তৃণভূমিতে গিয়ে পশুপালকদের পরিবারকে দেখতে যাওয়া, সেখানকার মানুষের খাওয়া ও থাকাসহ জীবনযাপনের বিভিন্ন দিক এমনকি কাজ করার পদ্ধতি আপনার দৃষ্টির পাল্লাকে সম্প্রসারণ করবে।
মঙ্গোলিয়া জাতির ঐতিহ্যবাহী খাবার যেমন মাংস, দুগ্ধজাত দ্রব্য ব্যবহার এখনও পরিবর্তিত হয়নি। মাংস খাবার পদ্ধতি ছিং রাজবংশ এবং চীন প্রজাতন্ত্রের আগের তুলনায় আরো সমৃদ্ধ হয়েছে। যেমন শুধু মাত্র খাসির মাংসের ভোজসভা। অনেক আগে শুরু রাজপ্রাসাদ বা রাজকীয় পর্যায়ের পরিবারে যখন গুরুত্বপূর্ণ উত্সব বা বিশিষ্ট অতিথিদের অভ্যর্থনা জানানো হত তখন শুধু মাত্র খাসির মাংসের ভোজসভা দেয়া হতো। এখন এ অঞ্চলের উন্মুক্ত বা বাণিজ্যিক যোগাযোগের জন্য শুধু মাত্র খাসির মাংসের ভোজসভা নিয়মিত ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। এছাড়া দুগ্ধজাত দ্রব্যও অতিথিদের অভ্যর্থনা জানানোর শ্রেষ্ঠ খাবারে পরিণত হয়েছে। শহর ও জেলার বিভিন্ন হোটেল বা রেস্তোঁরায় দুগ্ধজাত খাবার এখন নাস্তার প্রধান খাবার। নানা রকমের কেক, ফল বা পনিরের সঙ্গে উত্তর চীনের নাস্তার টেবিলে একটি প্রিয় খাবারে পরিণত হয়েছে।

যানবাহন ক্ষেত্রে ঘোড়ায় চড়া হচ্ছে মঙ্গোলিয়া জাতির একটি নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। ১০ থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত পুরুষ হোক বা নারী হোক পশুচারণে ঘোড়ায় চড়ে বাইরে যাওয়া, আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুদের সঙ্গে মিলিত হওয়া এবং পশুপালন করার পদ্ধতি। তবে এখন পশুচারণে পশুপালকরা মোটর-সাইকেল চড়েও পশুপালন করছেন।
সুন্দর ও অদ্ভূত খে শি খে থেং জেলা একটি বর্ণোজ্জ্বল মুক্তার মতো অন্তর্মঙ্গোলিয়া তৃণভূমিতে জেগে রয়েছে। এর রঙিন ও সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য দেশি-বিদেশি পর্যটকদেরকে আকর্ষণ করছে। শ্রোতাবন্ধুরা, আপনারা কি এখানে এসে দর্শন করার পাশাপাশি সরলমনা লোকজনের রীতিনীতি উপলব্ধি করতে চান? 1 2 |