সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈদেশিক উন্মুক্তকরণের পদক্ষেপ দ্রুত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরো বেশি মানুষ চীনের অন্তর্মঙ্গোলিয়া স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সম্পর্কে জানতে পেরেছে। যখন গ্রীষ্মকাল তৃণভূমির সবচেয়ে সুন্দর ঋতুর সময়, তখন এখানে তৃণভূমি, নীল আকাশ ও সাদা মেঘ দেখতে আসা মানুষের সংখ্যা অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকে। আজকের অনুষ্ঠানে আমি আপনাদেরকে অন্তর্মঙ্গোলিয়া স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের একটি মজার জায়গা—সুন্দর ও অদ্ভূত খে শি খে থেং ছি-এ নিয়ে যাবো। কি যাবেন তো আমার সঙ্গে? তাহলে চলুন যাওয়া যাক।

খে শি খে থেং জেলা পূর্ব অন্তর্মঙ্গোলিয়া স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের ছি ফেং শহরে অবস্থিত এবং রাজধানী পেইচিং থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৬শ' কিলোমিটার। খে শি খে থেং জেলা মূল-ভূভাগের একটি জেলার প্রায় সমান। সারা জেলার লোকসংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার এবং আয়তন ২০ হাজারেরও বেশি বর্গকিলোমিটার। এটা হচ্ছে মঙ্গোলিয়া জাতির লোক প্রধান হিসেবে মঙ্গোলিয়া, হান, হুই ও মানসহ ১০টি জাতি অধ্যূষিত এলাকা। খে শি খে থেং জেলা ইয়ান শান পাহাড়, তা সিং আন লিং পাহাড় এবং হুন শান তা খে বালুভূমিসহ তিন ধরনের ভৌগোলিক এলাকার মধ্যবর্তি স্থানে থাকার কারণে এটি হয়ে উঠেছে বৈশিষ্ট্যময় ভৌগোলিক জায়গা এবং বিশেষ ভূতাত্ত্বিক কাঠামো এখানকার বৈশিষ্ট্যময় প্রাকৃতিক দৃশ্যকে আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলেছে।
খে শি খে থেং জেলা হচ্ছে একটি অবসর বিনোদনের জায়গা। প্রতি বছর এখানে ভ্রমণ করতে আসা পর্যটকের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। সুন্দর ভূমিতে বৈশিষ্ট্যময় পাথরের বন, তৃণভূমি, বালুভূমি, প্রাকৃতিক বন এবং নোনা পানির হ্রদসহ নানা রকমের ভৌগোলিক দৃশ্য এখানে উপভোগ করা যায়। এখানকার পর্যটন সম্পদ খুব সমৃদ্ধ। এই অঞ্চলে বিশ্বের জাতীয় পর্যায়ের কয়েকটি দর্শনীয় স্থান রয়েছে। ২০০৫ সালে খে শি খে থেং জেলা ইউনেস্কোর বিশ্ব ভূতাত্ত্বিক পার্কের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। খে শি খে থেং পর্যটন ব্যুরোর মহাপরিচালক সুন মিং ইয়ু বলেন,
আমাদের পর্যটন সম্পদে খুবই সমৃদ্ধ। অন্তর্মঙ্গোলিয়ার পর্যটন সম্পদের বেশির ভাগই, বলতে গেলে খে শি খে থেং জেলায় রয়েছে। এতো বেশি সম্পদ ২০ হাজার বর্গকিলোমিটার ভূমিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। সুতরাং, আমরা খে শি খে থেং জেলাকে অন্তর্মঙ্গোলিয়ার সূচী বলে গণ্য করি।

এখানে সুন্দর তৃণভূমি, বিরাট বন এবং সবুজ পাখির বাগান আছে। আপনি খে শি খে থেং জেলায় প্রবেশ করার পর, তৃণভূমিতে ঘোড়ায় চড়া, উষ্ণ-প্রস্রবণে গোসল করা, হ্রদে ছিপ দিয়ে মাছ ধরা অথবা বনে শিকার করা বা প্রাচীন নগরে ঘুরে বেড়ানো, আপনি যদি এর মধ্যে থাকেন তাহলে সীমাহীন আনন্দ ও আরাম অনুভব করতে পারবেন। সুতরাং, প্রথম এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পর্যটন বাজারের বার্ষিক সম্মেলনে খে শি খে থেং জেলা 'চীনের শ্রেষ্ঠ পর্যটন স্থান' হিসেবে নির্বাচিত হয়। অন্তর্মঙ্গোলিয়ায় বেড়াতে আসলে আপনাকে খে শি খে থেং জেলায় নিশ্চয়ই যেতে হবে।
খে শি খে থেং জেলা খুব দূরে নয়। পাশাপাশি এখানকার রেল পথও রাজপথসহ ৮ দিক দিয়েই যাওয়া যায়। গত বছর পেইচিং থেকে খে শি খে থেং পর্যন্ত 'খে শি খে থেং'? নম্বর বিশেষ পর্যটন ট্রেন চালু করা হয়েছে। এখানকার পর্যটন সম্পদকে অর্থনৈতিক সুবিধায় রূপান্তরিত করার জন্য সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খে শি খে থেং জেলা বহু ব্যবস্থা নিয়ে সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর নির্মাণ কাজ বাড়ানোর মধ্য দিয়ে পর্যটন সম্পদের ৮টি প্রধান পার্ককে সংযুক্ত করেছে। খে শি খে থেং জেলার পর্যটন ব্যুরোর মহাপরিচালক সুন মিং ইয়ু বলেন,
আগে বিশ্ব ভূতাত্ত্বিক পার্কের ৮টি পার্ক ৫ হাজার বর্গকিলোমিটারের ছিল। একটি পার্ক থেকে অন্য একটি পার্ক ছিল অনেক দূরে। আগে এ সব দর্শনীয় স্থানকে সংযুক্ত করার পথ ছিলো তৃণভূমির পথ। পর্যটকদের অনেক কষ্ট হতো। সুতরাং ২০০৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত পরিবহণ এবং দর্শনীয় স্থানগুলো নির্মাণের ক্ষেত্রে সরকার প্রায় ৭০ কোটি ইউয়ান বরাদ্দ করেছে। পর্যটনের কারণে এখানকার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের মধ্যে পর্যটন রিং গড়ে তোলা হয়েছে।
1 2 |