v চীনের বিশ্ব কোষv চীন আন্তর্জাতিক বেতারv বাংলা বিভাগ
হান জাতির শিক্ষক শাও ছুন লিয়াং ও তার সংখ্যালঘু  জাতির ছাত্রছাত্রী
2009-08-04 20:49:31
৭০ বছরেরও বেশি বয়সী শাও ছুন লিয়াং উত্তর পূর্ব চীনের লিয়াও নিং প্রদেশের তালিয়ান শহরের হান জাতির একজন শিক্ষক । তিনি তালিয়ান শহরের ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ সংখ্যালঘু জাতির ছাত্রছাত্রীদের জন্য প্রতিষ্ঠিত একটি কলেজে পড়ান । আজ এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক শাও ছুন লিয়াং ও তার সংখ্যালঘু জাতির ছাত্রছাত্রী সম্পর্কে আপনাদের কিছু বলছি আমি...

চীন বহুজাতিক একটি দেশ । সংখ্যালঘু জাতির ছাত্রছাত্রী উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতে ভালভাবে শিখতে পারে , সেজন্য বিভিন্ন অঞ্চলের সংখ্যালঘু জাতি বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের জন্য বেশ কিছু বিশেষ কলেজে কোর্স চালু করা হয়েছে । এ ছাড়াও চীনের অন্যান্য সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়েও সংখ্যালঘু জাতির ছাত্রছাত্রীদের কলেজের কোর্স চালু করা হয়েছে । ৭৪ বছর বয়স্ক শিক্ষক শাও ছুন লিয়াং ছিলেন তালিয়ান ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলি-যোগাযোগ ইনস্টিটিউটের একজন প্রফেসর । তিনি অবসর নিয়েছেন দশ বারো বছর হলো । কিন্তু তিনি এখনো সংখ্যালঘু জাতির ছাত্রছাত্রীদের কলেজের কোর্সে পড়াচ্ছেন । তিনি বলেন ,

চীনা জাতি বেশি অগ্রগতি লাভ করতে চাইলে সর্বপ্রথমে শিক্ষার কাজ আরো জোরদার করতে হবে । এর পাশাপাশি সংখ্যালঘু জাতির শিক্ষার ওপর আরো বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে ।

পশ্চিম চীনে অবস্থিত সিনচিয়াং উইগুর স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চলে বিস্তীর্ণ তৃণভূমি ও পশু খামার রয়েছে । জ্ঞান অর্জনের পিপাসা ও বাসনার জন্য কয়েক হাজার কিলোমিটার দূর থেকে সিনচিয়াংয়ের ছাত্রছাত্রীরা উপকূলীয় তালিয়ান শহরে এসেছে । নতুন শহর , নতুন বিশ্ববিদ্যালয় , এসব তাদের জন্য খুবই অজানা । কিন্তু তারা এ অপরিচিত শহরে পরিবার পরিজনের মতো বহু লোকের আদর ও আন্তরিকতা বোধ করেছেন । শিক্ষক শাওয়ের স্নেহ ও ভালবাসায় তারা বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছে । মঙ্গোলীয় জাতির ছাত্র পাই ইয়াং শিক্ষক শাওকে খুব পছন্দ করে । শিক্ষক শাও প্রসঙ্গে সে বলেছে ,

শিক্ষক শাও তাকে মনে হয় আগে থেকেই চেনেন । যখন পাই ইয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছল , তখন শিক্ষক শাও তার নাম বলতে পারলেন । তিনি ছাত্রটির নানা রকম খোঁজ খবর নেন । এতে ছাত্র পাই ইয়াং খুব কৃতজ্ঞ । আসলে ছাত্রছাত্রীরা কলেজে আসার আগেই শিক্ষক শাও তাদের সব তথ্য জেনেছেন । সুতরাং তিনি সব ছাত্রছাত্রীর নাম বলতে পেরেছেন ।

শিক্ষক শাও'র বাড়ি কলেজ থেকে দূরে । প্রতি দিন ভোর হতে না হতেই তার পরিচালনায় ছাত্রছাত্রীরা ঘুম থেকে উঠতো , খেলার মাঠে শরীর চর্চা শুরু করতো । দুপুরে তিনি মুসলমানদের খাওয়ার ঘরে গিয়ে তাদের সঙ্গে এক দিকে বসে খেতেন , অন্য দিকে আলাপ আলোচনা করতেন । রাতে ছাত্রছাত্রীরা ঘুমিয়ে পড়ার পরই তিনি নিজের বাড়িতে ফিরে যেতেন । ছুটির দিনে জন্মভূমিতে ফিরে যাওয়ার জন্য তিনি রেল স্টেশনে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের বিদায় জানাতেন । তালিয়ান থেকে সিনচিয়াংয়ে যাওয়ার জন্য রেল গাড়িতে তিন দিনেরও বেশি সময় লাগতো । পথে খাওয়ার জন্য তিনি ছাত্রছাত্রীদের জন্য কিছু খাবারেরও বন্দোবস্ত করতেন । মঙ্গোলীয় ছাত্র সিয়াং ইউন বলেন ,

ছুটির দিনে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সময় শিক্ষক শাও রেল স্টেশনে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের বিদায় দিতেন । তিনি তাদের জন্য বেশ কিছু খাবারেরও বন্দোবস্ত করতেন ।

শিক্ষক শাও বাবার মতো সংখ্যালঘু জাতির ছাত্রছাত্রীদের আদর ও স্নেহ করতেন । ছাত্রছাত্রীরা তাকে শুধু শিক্ষক নন , বরং নিজেদের পরিবার পরিজনের চোখে দেখতো । তার স্নেহ ও যত্নে ছাত্রছাত্রীরা বেশ উদ্দীপ্ত হয়ে উঠেছে ।


1 2
  • সাক্ষাত্কার
  • সর্বশেষ সংবাদ
  • অন-লাইন জরীপ
     
    © China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
    16A Shijingshan Road, Beijing, China