বাংলাদেশ দুর্যোগের শিকার হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পৃথক পৃথকভাবে তাদের সমাবেদনা জানাচ্ছে। চীনের প্রেসিডেন্ট হু চিনথাও এবং প্রধানমন্ত্রী ওয়েন চিয়াপাও ১৮ নভেম্বর বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ইয়াজুদ্দিন আহমেদ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী ফাখরুদ্দিন আহমেদের কাছে পাঠানো বাণীতে তাদের সমবেদনার কথা জানিয়েছেন। বাংলাদেশ সরকার এবং ৪০টিরও বেশী সাহায্যকারী দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা ১৮ নভেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশকে সাহায্যের বিষয় নিয়ে এক বিশে ষ সম্মেলন আয়োজন করে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কার্যক্রম, জাতিসংঘ শিশু তহবিল সংস্থা, বৃটেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং স্পেনসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশকে ৩ কোটি মার্কিন ডলার সাহায্য দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর আগে জার্মানী এবং ই ইউ'র কমিটি বাংলাদেশকে ৭ লাখ মার্কিন ডলার এবং প্রায় ২১ লাখ মার্কিন ডলার জরুরী সাহায্য দেয়ার কথা ঘোষণা করে।
সংশ্লিস্ট বিশেষজ্ঞ মনে করেন, বাংলাদেশের এবারের ঘূর্ণিঝড় বর্তমান বিশ্বের আবহাওয়ার উষ্ণায়নের সঙ্গে সম্প র্কিত। আবহাওয়ার উষ্ণায়ন হচ্ছে বলে বিশ্বে বিপর্যয়মূলক আবহাওয়াও স্পষ্টভাবেই বেড়ে যাচ্ছে। অসমাপ্ত এক পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, গত তিন মাস ধরে বিশ্বে মোট তিনটি ঘূর্ণিঝড় হয়েছে। এসব ঘূর্ণিঝড় স্থানীয় অর্থনীতি এবং জনগণের জীবনে ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি করেছে। খবরে প্রকাশ, আবহাওয়ার উষ্ণায়ন উপকূলীয় ও দ্বীপ দেশগুলোর জনগণের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিশ্বে আবহাওয়ার উষ্ণায়নের কারণে সৃষ্ট কঠোর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পৃথক পৃথকভাবে নীতিমালা অবলম্বন করেছে। চীনের প্রতিনিধি ইউ ছিংথাই ১৮ নভেম্বর তিউনিসিয়ায় অনুষ্ঠিত আবহাওয়ার পরিবর্তন মোকাবেলায় আফ্রিকা ও ভূমধ্য সাগারীয় অঞ্চলের কৌশল বিষয়ক আন্তর্জাতিক সহযোগিতামূলক সেমিনারে তাঁর ভাষণে বলেছেন, আবহাওয়ার পরিবর্তন বিভিন্ন দেশের উন্নয়ন, মানবজাতির জীবন এবং বিশ্বের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত। এটি হচ্ছে বর্তমান বিশ্বের সম্মুখীন গুরুতর চ্যালেঞ্জ। তিনি বিভিন্ন দেশকে সম্মিলিতভাবে আন্তরিকতার সঙ্গে আবহাওয়া পরিবর্তন মোকাবেলার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন দেশ জ্বালানীসম্পদ ব্যবহারের কার্যকারিতা বাড়ানো, জ্বালানী সাশ্রয় ও দুষণের নিঃসরন কমোনোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আবহাওয়া পরিবর্তনের মোকাবেলা করছে। ফলে বাংলাদেশে সংঘটিত এ ধরণের বিপর্যয় ভবিষ্যতে কমে যাবে (লিলি) 1 2
|