‘ঘুরে বেড়াই’ পর্ব- ৯৫
2024-11-19 18:56:36

এবারের পর্ব সাজানো হয়েছে

১। ঘুরে আসুন মালনীছড়া চা বাগান থেকে

২। বেড়ানোর জন্য সেরা গ্রাম আচ্যখ্য

৩। চীনের প্রাকৃতিক ইতিহাসের জাদুঘরের নতুন সাইট খুলবে ২০২৯ সালে

বিশ্বব্যাপী অপরূপ সৌন্দর্যের চাদর বিছিয়ে রেখেছে বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি। কতো-শতো দেশ, কতো সংস্কৃতি, কতো ভাষা, কতো পেশা,.... কিন্তু আর্থিক অসঙ্গতি কিংবা সময়ের টানাটানিতে দেখা হয় না, ‘ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া’

‘একটি ধানের শিষের উপরে একটি শিশির বিন্দু...’সেই অদেখাকে দেখাতেই আমাদের আয়োজন "ঘুরে বেড়াই"।

দেশ-বিদেশের দর্শনীয় স্থান, সেখানে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা, এবং সেই স্থানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অর্থনীতি নিয়ে আমাদের অনুষ্ঠান ‘ঘুরে বেড়াই’।   

ঘুড়ে বেড়াই অনুষ্ঠানের ৯৫ তম পর্ব আজ। আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি আমি, আফরিন মিম।

১।  ঘুরে আসুন মালনীছড়া চা বাগান থেকে

বাংলাদেশের মোট চায়ের ৯০ শতাংশই উৎপন্ন হয় সিলেটে। এজন্য সিলেটকে দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশও বলা হয়। বিভিন্ন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ হলেও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে অন্য এক ভালোলাগার ধারক হয়ে আছে সিলেটের চা বাগান। তাই ছুটির অবসরে কিংবা বৈকালিক বিনোদনের তৃষ্ণা মেটাতে তারা ছুটে যান চা বাগানের সবুজ অরণ্যে। সারাটা বিকাল চলে সবুজের ভেতর লুকোচুরি, হৈ হুল্লোড় আর আনন্দে অবগাহন।

চারপাশে সবুজের সমারোহ। নীল আকাশের নিচে যেন সবুজ গালিচা পেতে আছে সজীব প্রকৃতি। উঁচু-নিচু টিলা এবং টিলাঘেরা সমতলে সবুজের চাষাবাদ। শুধু সবুজ আর সবুজ। মাঝে মাঝে টিলা বেষ্টিত ছোট ছোট জনপদ। পাহাড়ের কিনার ঘেষে ছুটে গেছে আকাবাঁকা মেঠোপথ। কোন যান্ত্রিক দূষণ নেই। কোথাও আবার ধাবমান পথে ছুটে চলছে রূপালী ঝর্ণাধারা। প্রকৃতির সকল সৌন্দর্যের সম্মিলন যেন এখানে। এমন অন্তহীন সৌন্দর্যে একাকার হয়ে আছে সিলেটের চা বাগান। সিলেটের চা বাগানের খ্যাতি রয়েছে সারা বিশ্বজুড়ে।

 

সিলেট সদর উপজেলায় রয়েছে বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের বৃহত্তম এবং সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠিত চা বাগান। যার নাম ‘মালনীছড়া চা বাগান। বলা হয় এটি উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন চা বাগান। 

ইংরেজ সাহেব হার্ডসনের হাত ধরে ১৮৪৯ সালে ১৫০০ একর জায়গা জুড়ে প্রতিষ্ঠিত হয় উপমহাদেশের প্রথম চা বাগান মালনীছড়া। বাগানটি বর্তমানে পরিচলিত হচ্ছে বেসরকারি তত্ত্বাবধানে। ভ্রমনবিলাসী মানুষের কাছে আনন্দ ভ্রমন কিংবা উচ্ছ্বল সময় কাটানোর প্রথম পছন্দের স্থান হলো মালনীছড়া চা বাগান। সিলেট শহরের একেবারেই অদূরে হওয়ায় চা বাগান দেখতে পর্যটকরা প্রথমেই ছুটে যান মালনীছড়ায়। মালনীছড়া চা বাগানের প্রবেশদ্বার বেশ কয়েকটি।

আপনি চাইলে যে কোন একটি পথ দিয়েই চা বাগান দর্শনের কাজ শুরু করতে পারেন। তবে ঝামেলা এড়াতে বাগানে প্রবেশের আগে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়াই বাঞ্চনীয়। তারপর ঘুরে দেখেন বাগানের এপাশ থেকে ওপাশ। দেখে আসতে পারেন বাগানের বাংলো। মালনীছড়ার পাশেই রয়েছে আলী বাহার চা বাগান। ঘুরে আসতে পারেন ওখান থেকেও। 

সিলেট শহর থেকে রিকশাযোগে অথবা অটোরিকশা বা গাড়িতে বিমানবন্দর রোডে চাবাগানটি পাওয়া যাবে। গাড়িতে যেতে আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে ১০ মিনিট এর পথ।রিকশাযোগে যেতে আধঘন্টা লাগবে। ঢাকা থেকে সিলেট এর উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায় গাবতলী এবং সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে৷বাস গুলো সকাল থেকে রাত ১২.৪৫ পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময় পরপর ছেড়ে যায়৷ঢাকার ফকিরাপুল, সায়দাবাদ ও মহাখালী বাস স্টেশন থেকে সিলেটের বাসগুলো ছাড়ে।

 

এ পথে গ্রীন লাইন পরিবহন, সৌদিয়া এস আলম পরিবহন, শ্যামলি পরিবহন ও এনা পরিবহনের এসি বাস চলাচল করে। ভাড়া ৮শ’ থেকে ১ হাজার ১শ’ টাকা। এছাড়া শ্যামলী পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, ইউনিক সার্ভিস, এনা পরিবহনের পরিবহনের নন এসি বাস সিলেটে যায়। ভাড়া ৪শ’ থেকে সাড়ে ৪শ’ টাকা। এনা পরিবহনের বাসগুলো মহাখালী থেকে ছেড়ে টঙ্গী ঘোড়াশাল হয়ে সিলেট যায়।

 

প্রতিবেদন- আফরিন মিম

সম্পাদনা- ফয়সল আব্দুল্লাহ

 

২। বেড়ানোর জন্য সেরা গ্রাম আচ্যখ্য

চীনের গ্রামে বেড়ানো আজকাল পর্যটকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। চীনের গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে অন্যতম প্রধান উপায় হলো গ্রামীণ পর্যটনকে জনপ্রিয় করা। এখন অনেকেই গ্রামীণ জীবন উপভোগের জন্য গ্রামে থাকেন। এদিক থেকে অন্যতম সেরা গ্রাম হলো হংহ্য এলাকার ইয়ুননান প্রদেশের ইউয়ানইয়াং কাউন্টির হংহ্য হানি অ্যান্ড ই অটোনোমাস প্রিফেচারের সিনচিয়ে টাউনের আচ্যখ্য গ্রাম। এখানে হানি জাতির মানুষদের বসবাস।

হানি জাতির মানুষের বিশেষ ধরনের বাসগৃহ রয়েছে। এই বাসগৃহকে বলা হয় মাশরুম হাউজ। এগুলো দেখতে বেশ সুন্দর। দূর থেকে মনে হয় পাহাড়ের উপর মাশরুম। এই গ্রামে ৬০টির বেশি এমন ঘর রয়েছে।

এটি একটি প্রাচীন গ্রাম। চারপাশে  পাহাড়ের ছোট ছোট আকৃতির খোলা জায়গা রয়েছে। অনেকটা বারান্দার মতো। প্রাকৃতিক দৃশ্য অসাধারণ সুন্দর।

 

এই গ্রামে প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগের পাশাপাশি হানি জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সংস্কৃতি উপভোগ করা যায়। সেইসঙ্গে স্থানীয় মজাদার খাদ্যও খাওয়া যায়। এখানে বেশ কয়েকটি সুভ্যেনিরের দোকান রয়েছে। হানি জাতির মানুষদের কারুশিল্প সামগ্রী বিক্রি হয় এসব দোকানে। পাহাড়ের মধ্যে আঁকাবাঁকা পথে বেড়ানো, পাহাড়ের ধাপে ধাপে ক্ষেত খামার দেখা এবং ঝরনার পানি পানের ব্যবস্থা রয়েছে।

 

হাজার বছর ধরে হানি জাতির মানুষ ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতি মেনে চলছে। এই গ্রামটিকে হাজার বছর আগের অবস্থায় ধরে রাখা হয়েছে পর্যটকদের জন্য। যদিও এর পাশাপাশি আধুনিক সুযোগ সুবিধাও রয়েছে। টেরেস অব হংহ্যকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যার পরিচয় পাওয়া যাবে এই গ্রামের জীবনযাত্রায়।

কুনমিং শহর থেকে বিভিন্ন টুর প্যাকেজের মাধ্যমে এই গ্রামে যাওয়া যায়। আবার হংহ্য থেকে নিজস্বভাবে ট্যাক্সি নিয়েও যাওয়া সম্ভব। পাহাড়ি পথে হেঁটে উঠতে হবে।

গ্রামে প্রবেশের জন্য ৩০ ইউয়ান দিয়ে টিকেট কাটতে হবে। নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এখানে বেড়ানোর সবচেয়ে ভালো সময়। পাহাড়ের উপর কুয়াশার দৃশ্যও দেখা যায় এ সময়। এখানে হালাল খাবারের দোকানও রয়েছে।

প্রতিবেদন- শান্তা মারিয়া

সম্পাদনা- আফরিন মিম

 

৩। চীনের প্রাকৃতিক ইতিহাসের জাদুঘরের নতুন সাইট খুলবে ২০২৯ সালে

২০২৯ সালের অক্টোবর মাসে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করবে চীনের প্রাকৃতিক ইতিহাসের জাদুঘরের নতুন বেইজিং ভেন্যুটি ।রোববার চীনের একমাত্র জাতীয় এবং সমন্বিত প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

 

এরইমধ্যে বেইজিংয়ের কেন্দ্রীয় অক্ষের দক্ষিণে নতুন সাইটের নির্মাণ প্রকল্পের জন্য অনুমোদন দিয়েছে দেশটির সরকার।

 

নতুন এ জাদুঘরে প্রাকৃতিক ইতিহাস, বিজ্ঞান ও শিল্পমূলক প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, গবেষণা বিষয়ক নানা বিষয় প্রাধান্য পাবে।

 

নতুন সাইটটি নির্মাণ হতে সময় লাগবে প্রায় পাঁচ বছর এবং এর আয়তন হবে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৮০০ বর্গমিটার। আর এর নির্মাণ কাজ শেষ হলে এখানে প্রতি বছর ৫ থেকে ৭ মিলিয়ন দর্শনার্থী আসবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

 

জাদুঘর কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন ভেন্যুতে আরও বৈচিত্র্যময় বিজ্ঞান শিক্ষা কার্যক্রম আয়োজন করা হবে। এতে করে শিশু এবং তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রাকৃতিক বিজ্ঞান নিয়ে আরও আগ্রহ বাড়বে।

 

এই জাদুঘরের বর্তমান সাইটটির আয়তন প্রায় ২৩ হাজার বর্গমিটার। এখানে প্রতি বছর প্রায় ১ দশমিক ৮ মিলিয়ন দর্শনার্থী ঘুরতে আসেন। জাদুঘরের সীমিত ধারণক্ষমতার কারণে গ্রীষ্মকালীন ছুটির সময় টিকেট পাওয়া অনেক কঠিন হয়ে পড়ে।

 

প্রতিবেদন- আফরিন মিম

সম্পাদনা- শান্তা মারিয়া

 

 

 

ঘুরে বেড়াই অনুষ্ঠান পরিকল্পনা ও প্রযোজনা - আফরিন মিম

অডিও সম্পাদনা- রফিক বিপুল

সার্বিক তত্ত্বাবধান- ইউ কুয়াং ইউয়ে আনন্দী