১৯ নভেম্বর: চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিওতে স্থানীয় সময় সোমবার সকালে, ১৯তম জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন।
শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম পর্বে, ‘ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই’ শীর্ষক আলোচনায় সি চিন পিং ‘সাধারণ উন্নয়নের ন্যায়সঙ্গত বিশ্ব গড়ে তোলা’ শিরোনামে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন।
ভাষণে সি চিন পিং উল্লেখ করেছেন যে, বিশ্বের পরিবর্তনগুলো দ্রুততর হচ্ছে এবং মানব উন্নয়ন অভূতপূর্ব সুযোগ ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলোর নেতা হিসাবে, আমাদের উচিত একটি অভিন্ন কল্যাণের কমিউনিটির বোধ মনে রাখা এবং ঐতিহাসিক দায়িত্বগুলো গ্রহণ করা।
বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই বিনিয়োগ বাড়িয়ে দিতে হবে। টেকসই উত্পাদন ও জীবনযাপন করতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সমর্থন করতে হবে। আমাদের অবশ্যই একটি উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন আন্তর্জাতিক অর্থনীতি তৈরি করতে হবে। সহযোগিতার পরিবেশ নতুন প্রযুক্তি, নতুন শিল্প এবং নতুন ব্যবসায়িক বিন্যাসগুলোকে টেকসই উন্নয়নকে শক্তিশালী করতে হবে, যাতে উন্নয়নশীল দেশগুলো আরও ভালোভাবে ডিজিটাল, বুদ্ধিমান, এবং সবুজ উন্নয়নের প্রবণতা এবং উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে ব্যবধান কমাতে পারে। আমাদের অবশ্যই বহুপাক্ষিকতাবাদ এবং জাতিসংঘের মূল হিসাবে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা বজায় রাখতে হবে।
সি চিন পিং উল্লেখ করেন যে, চীনের উন্নয়ন হল বৈশ্বিক অভিন্ন উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চীন ৮০০ মিলিয়ন মানুষকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে পেরেছে এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়নের ২০৩০ এজেন্ডা সময়সূচির আগে অর্জন করেছে। চীনের দারিদ্র্য বিমোচন যাত্রা দেখায় যে স্থিতিস্থাপকতা, অধ্যবসায় এবং সংগ্রামের মনোভাব দিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর দারিদ্র্য-সমস্যা সমাধান করা যেতে পারে।
সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেছেন যে, চীন সর্বদা গ্লোবাল সাউথের সদস্য, উন্নয়নশীল দেশগুলোর একটি নির্ভরযোগ্য দীর্ঘমেয়াদী সহযোগী অংশীদার, বিশ্বব্যাপী উন্নয়নের সমর্থনের এক প্রচেষ্টাকারী এবং আধুনিকীকরণ অর্জনের জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর সাথে হাত মেলাতে ইচ্ছুক।
সি চিন পিং বৈশ্বিক উন্নয়নে সহায়তার জন্য চীনের আটটি পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রথমত: ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগের আওতায় উচ্চমানের নির্মাণের জন্য একসঙ্গে কাজ করা হবে। আরও একটি ত্রিমাত্রিক আন্তঃসংযোগ নেটওয়ার্ক তৈরি এবং গ্রিন সিল্ক রোডের নেতৃত্বে, ডিজিটাল সিল্ক রোডকে শক্তিশালী করা।
দ্বিতীয়ত: বিশ্বব্যাপী উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা এবং একটি ‘গ্লোবাল সাউথ’ গবেষণা কেন্দ্র তৈরি করা হবে, যাতে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সমর্থন অব্যাহত রাখা এবং দারিদ্র্য বিমোচন, খাদ্য নিরাপত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে বাস্তব সহযোগিতাকে আরও গভীর করা যায়।
তৃতীয়ত: আফ্রিকার উন্নয়নকে সমর্থন করা। চীন-আফ্রিকা সহযোগিতা ফোরামের বেইজিং শীর্ষ সম্মেলন আগামী তিন বছরে চীন ও আফ্রিকার জন্য আধুনিকীকরণের প্রচারে হাত মিলানোর জন্য দশটি বড় অংশীদারিত্বমূলক পদক্ষেপের ঘোষণা করেছে এবং এর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে।
চতুর্থত: দারিদ্র্য বিমোচন এবং খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করা। চীন ‘ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য গ্লোবাল অ্যালায়েন্সে যোগদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পঞ্চমত: চীন, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং আফ্রিকান ইউনিয়ন যৌথভাবে ‘ওপেন সায়েন্স ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন ইনিশিয়েটিভ’ চালু করেছে, যাতে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর অধিক লাভবান হওয়ার জন্য বৈশ্বিক বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ফলাফল প্রচার করা হয়।
ষষ্ঠত: ‘গ্লোবাল সাউথ’কে উপকৃত করে এমন বাস্তব সহযোগিতা চালানোর জন্য জি-টুয়েন্টিকে সমর্থন করা হবে এবং বেইজিংয়ে জি-২০ উদ্যোক্তা গবেষণা কেন্দ্রের কাজকে সমর্থন করা হবে।
সপ্তমত: জি-২০ ‘দুর্নীতি বিরোধী কর্মপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করা হবে।
অষ্টমত: চীন উচ্চ-স্তরের উন্মুক্তকরণের ব্যবস্থা এবং প্রক্রিয়াগুলোকে উন্নত করবে এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য একতরফা উন্মুক্তকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। চীনের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কযুক্ত সমস্ত স্বল্পোন্নত দেশকে শতভাগ শূন্য-শুল্ক সুবিধা প্রদানের ঘোষণা করেছে চীন।
শীর্ষ সম্মেলনের আগে, সি চিন পিং এবং অংশগ্রহণকারী নেতারা ব্রাজিল কর্তৃক চালু করা ‘ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য বৈশ্বিক জোট’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
(স্বর্ণা/হাশিম/লিলি)