‘তারুণ্যের অগ্রযাত্রা’ পর্ব ৯৫
2024-11-13 20:35:57

 

‘তারুণ্যের অগযাত্রা’ অনুষ্ঠানে স্বাগত জানাচ্ছি আমি রওজায়ে জাবিদা ঐশী। দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়ার প্রধান হাতিয়ার তারুণ্য। তরুণরা চাইলেই পারে সমাজকে বদলে দিতে। এজন্য দরকার তাদের চিন্তা ও মেধার সমন্বয়। চীন ও বাংলাদেশের তরুণদের অফুরান সম্ভাবনার কথা তুলে ধরবো এই অনুষ্ঠানে। তরুণদের সৃজনশীলতার গল্পগাঁথা নিয়েই সাজানো হয়েছে আমাদের তারুণ্যের অগ্রযাত্রা।  

 

৯৫ তম পর্বে যা যা থাকছে:      

১.  শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার

২.  শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও শিক্ষকদের নিয়ে যা বললেন ড. সলিমুল্লাহ খান

৩.  ছিংতাওতে এসসিও সদস্য রাষ্ট্রের তরুণ নেতারা জড়ো হয়েছেন 

 

১.  শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার

 

বিশ্বজুড়ে চলছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দাপট।দিনদিন যেন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে যাচ্ছে এআই। প্রতিদিনই হুহু করে বাড়ছে এর ব্যাবহার। বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাজার বছর প্রতি ১২০ শতাংশ হারে বাড়ছে। ধারণা ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে ১৫.৭ ট্রিলিয়ন অবদান রাখতে পারে এই শিল্প।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারের এই ঝড়ে, বাদ যায়নি চীনও। এআই ব্যবহারে শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে দেশটির নাম। ২০৩০ সালের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাজারে নেতৃত্ব দেয়ার মিশনে এগিয়ে যাচ্ছে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি।   

কৃষিখাত থেকে মহাকাশ অভিযান, সামরিক খাত কিংবা ই-কমার্স। সব ক্ষেত্রেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বেড়েছে চীনে। শিক্ষাক্ষেত্রেও এর গ্রহণযোগ্যতা চোখে পড়ার মতো। তবে এসব ক্ষেত্রে তরুণদের অংশগ্রহণই বেশি। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছেন। ৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর সাক্ষাতকারের ভিত্তিতে সমীক্ষাটি প্রকাশ করে দেশটির সংবাদমাধ্যম 'চায়না ইয়ুথ ডেইলি'।

তাই সম্প্রতি শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে প্রথমবারের মতো নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে চীন। ডিজিটাল শিক্ষার অগ্রগতি নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে এই নির্দেশিকা সামনে আনে বেইজিং মিউনিসিপ্যাল এডুকেশন কমিশন।

 

শিক্ষার ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ২৯টি চর্চার জন্য প্রবিধান নির্ধারণ করেছে তারা। যা প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং শিক্ষার প্রয়োজনের সাথে তাল মিলিয়ে প্রতি বছরই পরিবর্তন করা হবে বলে জানায় সংস্থাটি।

 

বেইজিং একাডেমি অফ এডুকেশনাল সায়েন্সেস বলছে, পাঠ্যক্রম সাজানোর ক্ষেত্রে, স্বতন্ত্র শিক্ষার পদ্ধতি তৈরি করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সাহায্য করবে এই নির্দেশিকা। এবং সামগ্রিক শিক্ষাগত ফলাফল উন্নত করার জন্য ডেটা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরামর্শ দেন বিশ্লেষকরা।

বেসিক এডুকেশন অ্যান্ড টিচিং রিসার্চ সেন্টারের উপ প্রধান চান উয়েইহুয়া বলেন,

‘বাধ্যতামূলক শিক্ষার ক্ষেত্রে, একটি আদর্শ পাঠ্যক্রমে শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ শতাংশ আন্তঃবিষয়ক বিষয়ভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ থাকা উচিত। এই নির্দেশিকার সাহায্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে শিক্ষকরা সেটি করতে পারবেন। এছাড়া আন্তঃবিষয়ক শিক্ষাদানের পদ্ধতিতে শিক্ষকদের সক্ষমতা বাড়াতেও এই নির্দেশিকা কার্যকরি হবে।’

বেইজিং এর এই নির্দেশিকা.. অধ্যয়ন, শারীরিক প্রশিক্ষণ ও চারুকলায় দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। সেইসাথে অনুশীলনের সময় শিক্ষার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক সহায়তায় এআইকে করবে কার্যকরী। এছাড়া ব্যক্তিগত এবং সংবেদনশীল তথ্য কঠোরভাবে রক্ষা করার গুরুত্ব সম্পর্কেও শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে ভূমিকা রাখবে এই প্রবিধান।

 

সম্পাদক : রওজায়ে জাবিদা ঐশী

 

২.  শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও শিক্ষকদের নিয়ে যা বললেন ড. সলিমুল্লাহ খান

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান বলেছেন, দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু এবং বিষয়ভিত্তিক বৈষম্য দূর করতে হবে। সম্প্রতি সিএমজি বাংলাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। এসময় শিক্ষার্থীদের তৈরি করতে শিক্ষকদের পুনর্গঠন সবচেয়ে বেশি জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সবার জন্য উচ্চমানের ও সাম্যমুখী শিক্ষা নিশ্চিতের উদ্দেশ্য নিয়ে গড়ে তোলা শিক্ষাব্যবস্থায় সব শিক্ষকের আর্থসামাজিক মর্যাদা ও দক্ষতা উন্নয়নে সমান গুরুত্ব দেয়া উচিৎ বলে মনে করেন তিনি।

সলিমুল্লাহ খান আরও বলেন, উন্নত বিশ্বে শিক্ষকতা পেশাটিকে সামাজিকভাবে অত্যন্ত সম্মানের চোখে দেখা হয় এবং সেই অনুযায়ী শিক্ষকদের উচ্চ হারে সম্মানী প্রদান করে সরকার। বাংলাদেশের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং জীবনমান উন্নয়নে পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। এমনকি বোর্ড সার্টিফাইড শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বৈষম্যবিরোধী হওয়া উচিৎ বলেও মনে করেন অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান। 

 

 

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : রওজায়ে জাবিদা ঐশী

 

৩. ছিংতাওতে এসসিও সদস্য রাষ্ট্রের তরুণ নেতারা জড়ো হয়েছেন 

শাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন বা এসসিওয়ের সদস্য ও পর্যবেক্ষক দেশ থেকে আসা তরুণ নেতৃত্বদের একত্র করা হয়েছে পূর্ব চীনের শানতোং প্রদেশের ছিংতাও শহরে। ইয়ুথ ক্যাম্পের অংশ হিসেবে এই ইভেন্টের আয়োজন করা হয়।    চীনের আধুনিকায়নের অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ করে দেয় এই বিনিময় ক্যাম্প। 

গত ৮ বছর ধরে যুব বিনিময়ের প্রচারের জন্য সদস্য রাষ্ট্র এবং পর্যবেক্ষক দেশগুলোর যুব নেতাদের সফরের আয়োজন করে আসছে চীন।

 

এসসিও ইয়ুথ ক্যাম্পাস হলো এসসিও ফ্রেমওয়ার্কের অধীনে একটি গুরুত্বপূর্ণ যুব কার্যক্রম, যার লক্ষ্য তরুণদের মধ্যে যোগাযোগ এবং পারস্পরিক বিশ্বাস ও মূল্যবোধ ক্রমাগত প্রচার করা। এই বছর ছিংতাওতে পঞ্চমবারের মতো ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ছিংতাও একটি প্রাণবন্ত সংস্কৃতির শহর এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পরিচিত।    

 

ছিংতাও বন্দর ১৮৯২ সালে চালু হয়। এই বন্দর ১৩০ বছরের বেশি সময়ের পুরানো। বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম বন্দর হিসেবেও এটি পরিচিত। 

এই ক্যাম্পের তরুণ প্রতিনিধিরা বন্দরটি ঘুরে দেখে আধুনিকতার নানা দিক তুলে ধরেন।  উজবেকিস্তানের মেখরোজ রশিদভ বন্দর ব্যবস্থাপনায় অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে বলেন, "আমরা দেখতে পেলাম এই বন্দর ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন পদ্ধতি অনেক কাজ করা হয়। আমরা দেখে খুব আনন্দ পেয়েছি। যারা আমদানি-রপ্তানি করতে চায় এটি সেইসব গ্রুপ এবং উদ্যোক্তাদের জন্যও দারুণ সুযোগ করে তৈরি করে দিয়েছে।’

 

উত্তর চীনের শানসি প্রদেশের একজন অংশগ্রহণকারী শু শুইয়ি কৃষিতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেন, "আমি কৃষিক্ষেত্রে কাজ করি। অনেক এসসিও সদস্য রাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ আবাদযোগ্য জমি রয়েছে, যা স্মার্ট কৃষি বিকাশের জন্য খুবই উপযোগী। আমাদের একসাথে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে"।

 

সাত দিনের কর্মসূচি চলাকালীন, এসসিওভুক্ত ১২টি দেশের ১৭০জন তরুণ নেতা এতে অংশগ্রহণ করেন।  বিভিন্ন সেক্টরে বিনিময় কার্যক্রম ছাড়াও আধুনিকায়নের অভিজ্ঞতা নিতে বিভিন্ন উদ্যোগে যুক্ত হন তারা। 

 

প্রতিবেদক : রওজায়ে জাবিদা ঐশী

 

আমাদের ‘তারুণ্যের অগযাত্রা’ আজ এই পর্যন্তই। পরবর্তী অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ জানিয়ে আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি আমি রওজায়ে জাবিদা ঐশী। শুভকামনা সবার জন্য। আল্লাহ হাফেজ।

 

পরিকল্পনা ,পরিচালনা ও সঞ্চালনা : রওজায়ে জাবিদা ঐশী 

অডিও সম্পাদনা: রফিক বিপুল

 সার্বিক সম্পাদনা: ইয়ু কুয়াং ইউয়ে আনন্দী