‘ঘুরে বেড়াই’ পর্ব- ৯৩
2024-11-05 19:16:17


এবারের পর্ব সাজানো হয়েছে

১। চীনের ঐতিহ্যবাহী রাস্তায় পর্যটকের ভিড়

২। ঘুরে আসুন সুচৌ শহরের বাগানে

৩। তুষারের মোহে উত্তর চীনের মোহ্যতে ছুটছেন পর্যটকরা

বিশ্বব্যাপী অপরূপ সৌন্দর্যের চাদর বিছিয়ে রেখেছে বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি। কতো-শতো দেশ, কতো সংস্কৃতি, কতো ভাষা, কতো পেশা,.... কিন্তু আর্থিক অসঙ্গতি কিংবা সময়ের টানাটানিতে দেখা হয় না, ‘ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া’

‘একটি ধানের শিষের উপরে একটি শিশির বিন্দু...’সেই অদেখাকে দেখাতেই আমাদের আয়োজন "ঘুরে বেড়াই"।

দেশ-বিদেশের দর্শনীয় স্থান, সেখানে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা, এবং সেই স্থানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অর্থনীতি নিয়ে আমাদের অনুষ্ঠান ‘ঘুরে বেড়াই’।  

ঘুড়ে বেড়াই অনুষ্ঠানের ৯৩ তম পর্ব আজ। আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি আমি, আফরিন মিম।

১। চীনের ঐতিহ্যবাহী রাস্তায় পর্যটকের ভিড়

চীনের শানসি প্রদেশের সি’আন শহর। যেখানে গেলে দেখা মেলে আধুনিক স্থাপত্যের নানা ঘরবাড়ির পাশে  পুরোনো স্থাপত্যশৈলীর কিছু স্থাপনা। দুই ধরণের স্থাপত্যশৈলীর আবাসস্থলের সংমিশ্রণে গড়ে উঠেছে একটি আবাসিক এলাকা। বর্তমানে এই আবাসিক এলাকায় স্থানীয় পাশাপাশি পর্যটকদের আনোগোনায় বেশি মুখর থাকে।

এই আবাসিক এলাকায় মূলত শহরটির প্রাচীন দক্ষিণ একটি গেট দিয়ে প্রবেশ করতে হয়। হাজার বছরের পুরনো এই এই গেট দিয়ে ঢুকলেই চোখে পড়ে প্রাচীন একটি রাস্তা। যে রাস্তা পরিচিত সিয়াংচি মিয়াও রাস্তা নামে। 

সিয়াংচি মিয়াও তাওবাদীদের মন্দিরের  নামে  নামকরণ করা হয় এই রাস্তার। সং রাজবংশের(৯৬০-১২৭৯) সময়  নির্মিত মন্দিরটি চীনা তাওবাদীর আটজন অমরদের একজন হান সিয়াংচির পূর্ববর্তী আবাস ছিল। পরবর্তীতে এটি তাওবাদী সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার একটি শাখা হয়ে ওঠে।

এই মন্দিরটির চারপাশে রয়েছে দুইটি রাস্তা।একটি পূর্ব-পশ্চিমে সিয়াংচি মিয়াও স্ট্রিট এবং অন্যটি উত্তর-দক্ষিণে তফু অ্যালি। বিখ্যাত ঘন্টাঘর, ড্রাম টাওয়ার এবং সিটি গড টেম্পল কাছাকাছি হওয়ায় সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয় এই এলাকা। আর দেশ বিদেশের পর্যটকদের জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে পরিচিতি পায় জায়গাটি। 

যে রাস্তার ধারেই রয়েছে দেশটির ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যশৈলীর বেশ কিছু স্থাপনা। পর্যটকরা এখানে গিয়ে অনুভব করতে পারেন প্রাচীন সংস্কৃতির ধারা। কিনতে পারেন ঐতিহ্যবাহী চীনা পোশাক। 

এখানে দেশটির কুয়াংতোং প্রদেশ থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক ওয়াং ওয়েইচিয়ে জানায়,  ‘এখানে এসে আমি অনেক কিছু দেখেছি। এখানকার মানুষের জীবনচিত্র দেখে আমি মুগ্ধ"। 

একসময় তফু অ্যালি জনপ্রিয় ছিল কফিশপের জন্য। কফির স্বাদ নিতে সি’আনবাসী ভিড় করতেন এই জায়গায়।  কিন্তু একসময় হারিয়ে যেতে থাকে এখানকার কফির ঐতিহ্য। পরবর্তীতে এই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার। পাশাপাশি নতুন নানা উদ্যোগ নিয়েও হাজির হয়েছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা।

তরুণরা বিশেষ করে বেশি এগিয়ে এসেছেন এই উদ্যোগে। তারা তাদের দেওয়া নতুন দোকানে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে নতুন ভাবে সাজিয়েছেন। কফির স্বাদ নিতে এসেও যাতে একটু সুন্দর পরিবেশে কিছু সময় অতিবাহিত করতে পারে সেজন্য ঢেলে সাজিয়েছেন নিজেদের কফিশপ, বিভিন্ন পণ্যের দোকান। যার ফলে চীনের এই দুইটি রাস্তা ধীরে ধীরে আরও পর্যটক মুখর হয়ে উঠছে এবং সামনের দিনগুলোতে আরও হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

প্রতিবেদন- আফরিন মিম

সম্পাদনা- শান্তা মারিয়া

 

২। ঘুরে আসুন সুচৌ শহরের বাগানে

চিয়াংসু প্রদেশের সুচৌ শহরের রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্য। সুচৌ শহরে একশর বেশি ক্লাসিকাল গার্ডেন রয়েছে। এর মধ্যে নয়টি ক্ল্যাসিকাল গার্ডেন ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় আছে। এগুলো সুচৌ ইউয়ানলিন বা ক্ল্যাসিকাল গার্ডেন অব সুচৌ নামে পরিচিত।

উত্তর সং রাজবংশ থেকে শুরু করে ছিং রাজবংশের শেষ পর্যন্ত হাজার বছর ধরে বিভিন্ন সময় সুচৌ শহরে ক্ল্যাসিকাল চাইনিজ স্টাইলে অনেক উদ্যান বা বাগান নির্মিত হয়েছে।

ক্ল্যাসিকাল চাইনিজ গার্ডেনের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যেমন জলাশয়, গেট, পাথর, কোরিডর ইত্যাদি। সুচৌর বিখ্যাত ক্লাসিকাল বাগানগুলোর বিখ্যাত স্থপতিদের  মধ্যে রয়েছেন চাং লিয়াং, চি ছ্যং, ক্য ইয়ুলিয়াং  এবং ছেন সংচৌ।

বিখ্যাত বাগানের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো চৌচেং ইউয়ান । এর ইংরেজি নাম হলো হামবল অ্যাডমিনিস্টেটরস গার্ডেন। বাংলায় আমরা একে বিনয়ী প্রশাসকের বাগান বলতে পারি। সুচৌ সিটির কুসু জেলায় ১৭৮ নম্বর তোংপেই স্ট্রিটে এর অবস্থান। ১৩ একর জায়গা নিয়ে গড়ে ওঠা বাগানটি সুচৌ শহরের বৃহত্তম। পুরো দক্ষিণ চীনে এর চেয়ে সুন্দর বাগান আর নেই।

দেড় হাজার বছরের বেশি সময়ের আগে গড়ে ওঠা বাগানটির সঙ্গে বিভিন্ন  রাজবংশের সময়কার অনেক বিখ্যাত কবির স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এটি ছিল থাং রাজবংশের বিখ্যাত পণ্ডিত ও কবি  লু কুইম্যং এর বাসস্থান। ইউয়ান রাজবংশের সময়ে এখানে তাহং মন্দিরের বাগান গড়ে ওঠে। ১৫১৩ সালে মিং রাজবংশের কবি ওয়াং সিয়ানছেন বাগান তৈরি করেন তিনি চেচিয়াং প্রদেশের ইয়ংচিয়া কাউন্টির প্রশাসক ছিলেন। বাগানের নামকরণ করা হয় চিন রাজবংশের সময়কার বিখ্যাত কবি পান ইয়ুয়ের রচনার উদ্ধৃতি ব্যবহার করে।

বাগানের তিনটি অংশ রয়েছে। এখানে বড় লেক, ছোট ছোট পুকুর, কারুকার্য করা পাথরের সেতু এবং দৃষ্টিনন্দন ভবন, ছাউনি ও বসার জায়গা রয়েছে। বড় জলাশয়ের মধ্যে ছোট ছোট দ্বীপ আছে। এগুলোতে  সেতু দিয়ে যাওয়া যায়। নৌকায় চড়ার ব্যবস্থাও আছে। বাগানে দারুণ সুন্দর ফুল এবং ছায়াময় গাছ আছে। বসন্তে পিওনি, গ্রীষ্মে পদ্ম, শীতে ওসমানথাস এবং শীতের শেষে প্লাম ব্লজম প্রস্ফুটিত হয়।

ছোট ছোট সবুজ টিলা বাগানটিকে আরও সুন্দর করে তুলেছে। টিলার ওপর রয়েছে কারুকার্য করা ছাউনি। যেখানে বসে দর্শকরা পুরো পার্কের দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন। পাথর, জলাশয়, ভবন এবং গাছের নান্দনিক অবস্থান চীনা ক্ল্যাসিকাল গার্ডেনের অনন্য বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছে। ব্যস্ত সুচৌ শহরের মধ্যেই এর অবস্থান। কাছেই রয়েছে রেস্টুরেন্ট পাড়া।

৩। তুষারের মোহে উত্তর চীনের মোহ্যতে ছুটছেন পর্যটকরা

শরতের শুরু থেকেই তুষারপাত শুরু হয় উত্তর-পূর্ব চীনের হেইলংচিয়াং প্রদেশের মোহ্য শহরে। আর তাই শীতের সঙ্গে আগাম আলিঙ্গন করতে  প্রদেশের উত্তরের শহর মোহ্যতে ছুটে যাচ্ছেন শত শত পর্যটক। তুষার নিয়ে নানা খেলায় মেতে উঠেছেন তারা।

শুক্রবার মোহ্যর একটি স্কি রিসোর্টে এসেছিলেন পাঁচ শতাধিক দর্শক। এ মৌসুমের প্রথম স্কিইং করেছেন তারা।

স্কিইং করতে এখানে শিশুদের নিয়েও আসছেন অনেকে। বরফ নিয়ে নানা খেলায় মেতেছে তারা।

চীনের সবচেয়ে উত্তরের শহর মোহ্যর স্কি মৌসুম অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয়ে এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত চলে। শহরটি বরাবরই চীনের শীতকালীন খেলাধুলার সবচেয়ে বড় গন্তব্য।

হেইলংচিয়াংয়ের তুষার পর্যটনও এবার জমে উঠতে চলেছে। প্রাদেশিক রাজধানী হারবিন সিটিতে আগামী বছরের ৭ -১৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নবম এশিয়ান শীতকালীন গেমস।

প্রতিবেদন- ফয়সল আব্দুল্লাহ

সম্পাদনা- আফরিন মিম

 

 

 

ঘুরে বেড়াই অনুষ্ঠান পরিকল্পনা ও প্রযোজনা - আফরিন মিম

অডিও সম্পাদনা- রফিক বিপুল

সার্বিক তত্ত্বাবধান- ইউ কুয়াং ইউয়ে আনন্দী