আকাশ ছুঁতে চাই ৮৩
2024-08-15 16:43:10


নারী ও শিশু বিষয়ক অনুষ্ঠান আকাশ ছুঁতে চাই থেকে সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি আমি শান্তা মারিয়া। আমাদের অনুষ্ঠানে আমরা কথা বলি নারী ও শিশুর অগ্রযাত্রা, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, সাফল্য, সংকট সম্ভাবনা নিয়ে। আমরা কথা বলি সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের অধিকার নিয়ে।

কী রয়েছে এবারের পর্বে

১. প্যারিস অলিম্পিকে চীনা নারীদের জয়জয়কার

২. মরুভূমির সাহসী কন্যা লি ফাং

 

প্যারিস অলিম্পিকে চীনা নারীদের জয়জয়কার 

 

শেষ হলো অলিম্পিক গেমসের ৩৩তম আসর। প্যারিসে প্রায় তিন সপ্তাহের ৯১টি দেশের অ্যাথলেটরা লড়েছে ১০৪৪টি পদকের জন্য। রোববার দিনের শেষ ইভেন্টে সোনা জিতে সেরার দ্বিতীয় আসনে জায়গা করে নিলো চীন। এবারের আসরে বেশ কয়েকটি ইভেন্টে দেখা যায় নারী খেলোয়াড়দের সাফল্য। বিস্তারিত আফরিন মিমের প্রতিবেদনে।

 

১৭ দিনের উত্তেজনা, উৎকণ্ঠা, প্রত্যাশা আর আনন্দ-হতাশার শেষে বর্ণাঢ্য সমাপনীর মধ্য দিয়ে পর্দা নামল ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকের। পদক জয়ের মিশনে অ্যাথলেটরা মেতে উঠেন রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলায়। প্রজ্বলন করার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হওয়া প্যারিস অলিম্পিকের সমাপ্তি টানা হয় অগ্নিশিখা নিভিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে।এবারের আসরে চীন ৪০ সোনা, ২৭টি রুপা ও ২৪টি ব্রোঞ্জসহ ৯১টি পদক পায়। তিন বছর আগে টোকিওতেও দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল চীন।

ডাইভিং

প্যারিস অলিম্পিকের আসরে চীন সর্বোচ্চ ৮টি সোনা জিতেছে ডাইভিংয়ে। আর অলিম্পিক ২০২৪-এ ডাইভিংয়েও প্রথম স্বর্ণ জিতেছে চীন। নারীদের সিনক্রোনাইজড ৩ মিটার স্প্রিংবোর্ডে ৩৩৭.৬৮ পয়েন্ট পেয়ে চীনকে প্রথম পূর্ণ দিবসের দ্বিতীয় স্বর্ণ এনে দেন চ্যান ইয়ানি ও চেন ইওয়েন।

 

এ চীনা জুটি গত তিনটি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণ জয় করায় এবার প্যারিস অলিম্পিকেও হট ফেভারিট হিসেবে খেলতে নামেন এবং শেষ পর্যন্ত তারাই হেসেছেন স্বর্ণের হাসি। চীনাদের সাফল্যের পেছনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন সমর্থকরা। চীনা পতাকা নিয়ে উচ্ছল সমর্থকরা উল্লাস ধ্বনিতে মুখরিত করে তোলেন ডাইভি সেন্টারটি। চীনা ডাইভাররা যে সময়ই লড়াইয়ে নেমেছেন তখনই তাদের উল্লাস ধ্ববনিতে জুগিয়েছেন চীনা দর্শক।

গত এক দশক ধরে ডাইভিংয়ে রাজত্ব করে চলেছে চীনারা। ২০২১ সালে টোকিও অলিম্পিক গেমসে তারা ডাইভিং থেকে সাতটি স্বর্ণপদক জয় করে। তবে কখনো আটটি স্বর্ণের সবগুলোই জেতা হয়নি। এবার সেই লক্ষ্যে ছুটছে চীনা ডাইভাররা।

 

১৯৮৪ সালের অলিম্পিকে ডাইভিং প্রথম অন্তর্ভুক্ত হয়। প্রথম স্বর্ণটি জিতে নেয় চীন। সেই থেকে এখন পর্যন্ত ৬৪টি স্বর্ণের ৪৭টি গেছে চীনে। এছাড়া ২৩টি রৌপ্য ও ১০টি ব্রোঞ্জও জিতেছেন চীনারা।

 

আর্টিস্টিক  সাঁতার

এদিকে আর্টিস্টিক সাঁতারের ডুয়েট ফ্রি ইভেন্টে চীনকে প্রথমবারের মতো সোনা এনে দেয় জমজ বোন ওয়াং লিউয়ি ও ওয়াং ছিয়ানয়ি। শনিবার ২৭ বছর বয়সী দুই বোন মিলে টেকনিক্যাল রুটিনে তুলেছেন ২৭৬.৭৮৬৭ পয়েন্ট এবং ডুয়েট ফ্রিতে তুলেছেন ২৮৯.৬৯১৬ পয়েন্ট।মোট ৫৬৬.৪৭৮৩ পয়েন্ট তুলে এ জুটিই ছিল বাকিদের চেয়ে এগিয়ে। ৫৫৮.৫৩৬৭ পয়েন্ট তুলে এই ইভেন্টে রুপা জিতে গ্রেট ব্রিটেন। আর নেদারল্যান্ডসকে ব্রোঞ্জ এনে দিয়েছেন ব্রেকিয়া ডি ব্রুভার ও নরকিয়া ডি ব্রুভার।

 

বক্সিং

প্যারিস অলিম্পিকে নারীদের বক্সিংয়েও সোনা জিতেছেন চীনের লি ছিয়ান। পানামার অ্যাথেনা বাইলনকে ৪-১ গোলে হারিয়ে বক্সিংয়ে সোনা জিতেন তিনি। তিনবারের অলিম্পিয়ান লি ছিয়ান। এর আগে টোকিও অলিম্পিকের রৌপ্যপদক জয়ী হয়েছিলেন লি।

 

টেবিল টেনিস

এবারের আসরে রোলাঁ গারোতে ইতিহাস গড়লেন চেং ছিনওয়েন। মেয়েদের একক টেনিসে অলিম্পিক স্বর্ণ পেলেন ২১ বছর বয়সী খেলোয়াড়। ব্রোঞ্জ জিতেছেন পোল্যান্ডের ইগা শিয়াটেক।

 

সেমিফাইনালে ইগা শিয়াটেককে বিদায় করেছিলেন ছিনওয়েন। ফাইনালে উঠে পাত্তা দেননি ক্রোয়েশিয়ার ডোন্না ভেকিচকে। গত জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন দিয়ে প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনাল খেলার পর এবার ইতিহাসের পাতায় ছিনওয়েন। ওইবার হেরে রানারআপ হয়েছিলেন তিনি।

এক ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের লড়াইয়ে ৬-২, ৬-৩ গেমে জিতে সোনা গলায় ঝুলালেন ছিনওয়েন। রৌপ্য পেয়েছেন ভেকিচ। প্রথম ক্রোয়েশিয়ান হিসেবে একক টেনিসে কোনও পদক পেলেন তিনি।

 

ব্যাডমিন্টন

প্যারিস অলিম্পিকের ব্যাডমিন্টন ইভেন্টে প্রথম স্বর্ণও জয় করে চীন। মিক্সড ডাবলসে শীর্ষ বাছাই হুয়াং ইয়া ছিয়ং । চেং সিউই্র সঙ্গে জুটি  হয়ে মাত্র ৪১ মিনিটে দক্ষিণ কোরিয়ান জুটি কিম ওন-হো ও জেয়াং না-ইয়ানকে পরাজিত করে স্বর্ণ পদক জয়  করেন ইয়া ছিয়ং।   

তিন বছর আগে টোকিও গেমসের ফাইনালে পরাজিত চাইনিজ জুটি এবার আর কোন ভুল করেনি। ২১-৮, ২১-১১ পয়েন্টের সরাসরি গেমে দক্ষিণ কোরিয়াকে পরাজিত করে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন হুয়াং-চেং জুটি। 

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে এভাবেই একেক পর এক জয়ে সোনা জিতে চীন। ১৭ দিনের এই যাত্রায় নানা অর্জনের মধ্যদিয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে চীন। আর এই জয়ে বিশেষ অবদান রেখেছেন চীনের নারী খেলোয়াড়রা।

প্রতিবেদন- আফরিন মিম

সম্পাদনা- শান্তা মারিয়া

 

 

মরুভূমির সাহসী কন্যা লি ফাং

উত্তর পশ্চিম চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ইনার মঙ্গোলিয়া। এখানকার দালাদ ব্যানার এলাকার ইয়িনকেনতালা মরুভূমিতে গড়ে তোলা হয়েছে পর্যটন কেন্দ্র। এই পর্যটন কেন্দ্রের অফিসার ইন চার্জ হিসেবে কাজ করছেন সাহসী নারী লি ফাং। শুনবো তার গল্প।

প্যাকেজ: ইনার মঙ্গোলিয়ার দুস্তর মরুভূমি। এখানে চলছে মরুভূমিকে সবুজ করে তোলার কাজ। আর চলছে পরিবেশ সম্মত পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ। দালাদ ব্যানার এলাকায়  ইয়িনকেনতালা মরুভূমি সিনিক স্পট গড়ে তেুলতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন একজন সাহসী নারী। নাম তার লি ফাং। ৩০ বছর বয়সী এই নারী ইয়িনকেনতালা ডেজার্ট সিনিক স্পটের অফিসার ইন চার্জ।

তাকে সাহসী নারী বলা হয় কারণ তিনি প্রথম এই ঊষর মরুভূমিতে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার কথা ভাবেন এবং এ বিষয়ে উদ্যোগী হন। তিনি এখানে একটি ক্যাপসুল ক্যাম্প স্থাপন করেছেন। এই ক্যাপসুল ক্যাম্প দেশ বিদেশের পর্যটকদের কাছে একটি নতুন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

এখানে মরুভূমিতে উটের পিঠে চড়া, মরুভূমির সৌন্দর্য দেখা, রাতের মরুভূমি উপভোগ করাসহ নানা রকম আযোজন রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে ইনার মঙ্গোলিয়ার লোকজ সংস্কৃতির পরিবেশনা।

লি ফাং জানান, এই যে ঝাঁকে ঝাঁকে পর্যটক আসছেন তার ফলে এই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের আয় অনেক বেড়েছে। অনেকে অংশীদারি ভিত্তিতে এই টুরিস্ট স্পট গড়ে তুলতে এগিয়ে এসেছেন । এরা লভ্যাংশ পাচ্ছেন। তারা নিজেদের উদ্যোগে গড়ে তুলছেন বিভিন্ন রকম হোম স্টে।

 

লি ফাং মরুভূমিকে সবুজ করে তোলা এবং পরিবেশ উন্নয়নেরও একজন কর্মী। তিনি বলেন, পর্যটন উন্নয়নে পরিবেশগত সুরক্ষাকেও তুলে ধরা উচিত। লি মনে করেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং প্রাকৃতিক সুরক্ষার মধ্যে একটা ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। লি ফাং জানান মরুভূমিতে আরও বেশি সবুজ শ্যামল  যোগ করা হবে। এখানে আরও বেশি করে বৃক্ষ রোপণ করে সবুজ অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। এই সবুজায়নেরও একজন কারিগর লি ফাং। দালাদ ব্যানার এলাকার পাহাড়ি মরুকে  তিনি সবুজ করে তোলার স্বপ্ন দেখেন।

তিনি মনে করেন পরিবেশবান্ধব পর্যটন গড়ে তোলা দরকার। তিনি এজন্য নিজেই বেশ কিছু বাগান তৈরি ও বৃক্ষরোপণের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। লি ফাং টুর গাইড হিসেবেও কাজ করেন।

তিনি টুরিস্টদের নিয়ে যান বেশ কিছু স্থানে। পাশাপাশি সেখানকার জীববৈচিত্র্য বিষয়েও বর্ণনা করেন তিনি। ফলে পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি হবে।

 

 তিনি দেশ বিদেশের বিভিন্ন পর্যটকের সামনে লোকজ ঐতিহ্যও তুলে ধরেন।

 

প্রতিবেদন: শান্তা মারিয়া

সম্পাদনা: ফয়সল আবদুল্লাহ

 

সুপ্রিয় শ্রোতা। আকাশ ছুঁতে চাই অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে পৌছে গেছি আমরা। সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিদায় নিচ্ছি আমি শান্তা মারিয়া। আবার কথা হবে আগামি সপ্তাহে। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। চাই চিয়েন।

সার্বিক সম্পাদনা : ইয়ু কুয়াং ইউয়ে আনন্দী

লেখা, গ্রন্থনা ও উপস্থাপনা: শান্তা মারিয়া

অডিও সম্পাদনা: হোসনে মোবারক সৌরভ