উগান্ডার রাজধানি কাম্পালার একটি বিপণীবিতানের যন্ত্রপাতির অংশের আধুনিক ও সহজ আলংকারিক বিন্যাস সহজে ক্রেতাদের সৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। দু’তলার দোকানটির আয়তন কয়েক হাজার বর্গমিটার। টিভি, রেফ্রিজারেটর, কাপড় ধোয়ার যন্ত্র থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক রাইস-কুকার, মাইক্রোওয়েভ ওভেন ও জুসার পর্যন্ত, সবকিছুই আছে এখানে। এমনকি, এখানে বুদ্ধিমান সুইপিং রোবটের মতো নতুন পণ্যও আছে।
‘ইউহোম’ নামের দোকানের দেয়ালে একটি পোস্টার নজরকাড়া। এতে জাতীয় পাখি ধূসর মুকুটযুক্ত ক্রেনের ছবি ছাড়াও আছে ইংরেজি লেখা ‘বুবু’। এটি “Buy Uganda, Build Uganda”র সংক্ষিপ্ত রূপ। উগান্ডার সরকার এর উদ্যোক্তা। এর লক্ষ্য হলো অভ্যন্তরীণ নির্মাণ শিল্পের উন্নয়ন এবং স্থানীয় পণ্যের ভোগ বাড়ানো। “ইউহোম’-এর বিক্রয় ব্যবস্থাপক আব্দুল সেকাবিলা’র ব্যাখ্যা অনুসারে, এখানকার অধিকাংশ ঘরোয়া বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, চীন-উগান্ডা ‘এমবালে’ শিল্প পার্কে উত্পাদিত হবার পর, সরাসরি দোকানে পাঠানো হয়। স্ব-উত্পাদন ও স্ব-বিপণন অপারেশন মোড কার্যকরভাবে, উত্পাদন থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত, ব্যাপকভাবে মূল্য হ্রাস করে।
চীন-উগান্ডা এমবালে শিল্প পার্ক কাম্পালা থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এর আশপাশে তিনটি জাতীয় সড়ক আছে। শিল্প পার্কটি অবস্থিত এমবালে শহরে, যেটি কেনিয়ার মোম্বাসা বন্দরে যাওয়ার সময় অতিক্রম করতে হয়। দেশটির জাতীয় পর্যায়ের শিল্প পার্ক ‘ইউহোম’-এর মতো চীনা ব্যক্তি-উদ্যোগ থিয়ানথাং গ্রুপের বিনিয়োগ ও অপারেশনও আছে। ২০১৮ সালের মার্চ থেকে ৪০টির বেশি প্রতিষ্ঠান আকর্ষণ করেছে এই পার্ক। এখানে ৫ সহস্রাধিক স্থানীয় কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে।
ঘরে ব্যবহার্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, দৈনন্দিন ব্যবহারের রাসায়নিক, হোম টেক্সটাইল, নির্মাণ-সামগ্রী, চিকিত্সা ও ওষুধ এবং গাড়ি উত্পাদন হচ্ছে এই পার্কে, যেগুলোর সাথে উগান্ডার জনসাধারণের জীবন জড়িত। থিয়ানথাং গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক ওয়াং ওয়েনথোং বলেন, শিল্প পার্ক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ছিল, এসব গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দেশটির শূন্যস্থান পূরণ করে, এ রকম পণ্যের খরচ কমানো এবং নির্মাণ শিল্পের মাধ্যমে স্থানীয় শিল্পায়ন বেগবান করা এবং কর্মসংস্থান ও জীবিকা উন্নত করা।
দীর্ঘকাল ধরে, আফ্রিকার শিল্প উত্পাদন ও প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা দূর্বল ছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, উগান্ডান সরকার ব্যাপকভাবে সংস্কারকাজ চালায়, শিল্পায়নকে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে চিহ্নিত করে, শুল্ক-মুক্ত ও শুল্ক হ্রাসসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে বৈদেশিক পুঁজি আকর্ষণের চেষ্টা করে, এবং শিল্প সহযোগিতা পার্ক প্রতিষ্ঠা করে।
ওয়াং ওয়েনথোং জানান, শিল্প পার্কে ‘ওয়ান-স্টপ পরিষেবা কেন্দ্র’ ছাড়াও, লুবান কর্মশালার প্রশিক্ষণ ঘাঁটি আছে। চলতি বছর আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহৃত হওয়ার পর, স্থানীয় কর্মীদের জন্য ফিটার কৌশল ও বৈদ্যুতিক অটোমেশন প্রযুক্তির মতো বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এখানে, যাতে বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানের উত্পাদন-চাহিদা পূরণ করা যায়।
ওয়াং আরও জানান, বর্তমানে শিল্প পার্কে বেশ কয়েকটি স্থানীয় টিভি ও স্মার্টফোন ব্র্যান্ড ইনকিউবেট রয়েছে। ভবিষ্যতে ‘ইউহোম’-এর মতো যৌথ প্রকল্পের মাধ্যমে, অনলাইন-অফলাইন চ্যানেল কাজে লাগিয়ে, একটি স্থানীয় ডিজিটাল বুদ্ধিমান শিল্প পরিবেশ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হবে।
উগান্ডার বাণিজ্য, শিল্প ও সহযোগিতা মন্ত্রণালয়ের শিল্প প্রতিমন্ত্রী ডেভিড বাহাতি বলেন, চীনা প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীরা উগান্ডার শিল্প পার্কে স্থানীয় সম্পদ দিয়ে নির্মাণ শিল্প উন্নয়ন করার মাধ্যমে, আফ্রিকা-চীন শিল্পায়ন সহযোগিতা অব্যাহতভাবে নতুন পর্যায়ে এগিয়ে নিতে সহায়তা দিচ্ছে। তিনি এসব শিল্প পার্ক, আরও বেশি স্থানীয় আফ্রিকান ব্র্যান্ড লালন করে, ‘মেড ইন আফ্রিকা’-কে বিশ্বের বাজারে নিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। (প্রেমা/আলিম)