‘আমি’
2024-03-28 10:00:03



আজকের অনুষ্ঠানে চীনের হংকংয়ের একজন অসাধারণ গায়ক ও অভিনেতার সঙ্গে আপনাদেরকে পরিচয় করিয়ে দেবো, তার নাম চাং কুও রং। তিনি চীনা সংগীত মহলের প্রতিনিধিত্বকারী একজন শিল্পী। সংগীত ও চলচ্চিত্র খাতে তিনি অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন। চীনের পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরেও তিনি বেশ জনপ্রিয়। বন্ধুরা, আজকের অনুষ্ঠানে আমরা একসঙ্গে তার কিছু সুন্দর গান শুনবো। অনুষ্ঠানের শুরুতে শুনুন চাং কুও রংয়ের একটি সুন্দর গান ‘আমি’।গান ১

 

চাও কুও রং ১৯৫৬ সালে হংকংয়ে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৭ সালে তিনি এশিয়ান সংগীত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন এবং হংকং এলাকার রানার আপ হন। এর মাধ্যমে তিনি সংগীত মহলে প্রবেশ করেন। ১৯৭৮ সালে তিনি তার প্রথম ইংরেজি অ্যালবাম ‘Day Dreaming’ প্রকাশ করেন। পরে তিনি ক্যান্টনিজ অ্যালবাম ‘প্রেমিকের তীর’ প্রকাশ করেন। এ দুটি অ্যালবাম ভালো সাড়া পায়নি। এ অবস্থা ১৯৮৩ সালে পরিবর্তন হয়। সে বছর চাও কুও রং নতুন অ্যালবাম ‘বাতাস বইছে’ প্রকাশ করে। এই অ্যালবাম সফল হয়।  অ্যালবামের প্রধান গান ‘বাতাস বইছে’ মুক্তির পরই জনপ্রিয় হয়, চাং কুও রংও হংকংয়ে পরিচিত হয়ে ওঠেন। বন্ধুরা, এখন শুনুন তার এই সুন্দর গান ‘বাতাস বইছে’।গান ২


 

১৯৮৪ সালে চাং কুও রং অ্যালবাম ‘Leslie’ প্রকাশ করেন। এই অ্যালবামের গান ‘Monica’ মুক্তির পরই বেশ জনপ্রিয় হয়। গানে প্রেম থেকে বিচ্যুত হওয়ার অবস্থা লেখা হলেও এর সুর প্রফুল্ল, মনোভাবও ইতিবাচক ও মুক্ত, যে আগের প্রেমের গানের তুলনায় একেবারে ভিন্ন। এই গান হংকংয়ের প্রায় সব সংগীত পুরস্কার জয় করে। এই গানের জন্য চাও কুও রং সবার কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন। তার সংগীত জীবনও নতুন অধ্যায় শুরু হয়। বন্ধুরা, এখন শুনুন চাং কুও রংয়ের এই জনপ্রিয় গান ‘Monica’।গান ৩

 

গত শতাব্দীর ৮০’র দশকে চাং কুও রং হংকংয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় গায়ক ছিলেন। তিনি হংকংয়ের বিখ্যাত হংখান স্টেডিয়ামে টানা ১০টি কনসার্ট আয়োজন করেন এবং প্রতিটি কনসার্ট ছিল পরিপূর্ণ, যা হংকংয়ে কনসার্ট আয়োজনের রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। বন্ধুরা, এখন শুনুন চাং কুও রং ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় গান ‘শুধু তোমাকে ভালোবাসি’।গান ৪

 

চাং কুও রং চীনের পাশাপাশি বিদেশেও বেশ জনপ্রিয়। ১৯৮৬ সালে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় অ্যালবাম প্রকাশ ও বিক্রির রেকর্ড সৃষ্টি করা প্রথম চীনা গায়ক হন। পরে তার গানগুলো জাপান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরে অনেক জনপ্রিয় হয়। ১৯৮৭ সাল থেকে চাং কুও রং যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, সিঙ্গাপুর, জাপানসহ অনেক দেশে কনসার্ট ট্যুর আয়োজন করেন। বিশ্বে চীনা পপ সংগীতের প্রভাব বৃদ্ধিতে তিনি অনেক অবদান রেখেছেন। বন্ধুরা, এখন শুনুন চাং কুও রংয়ের ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত একটি সুন্দর গান ‘নীরবতা’।গান ৫

 

গত শতাব্দীর ৮০’র দশকের শেষ দিকে চাং কুও রং কাজের কেন্দ্র সংগীত থেকে চলচ্চিত্রে স্থানান্তর করেন। পরে তিনি অনেক ক্লাসিক ও জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে ১৯৯৩ সালে তিনি যে চলচ্চিত্র ‘Farewell My Concubine’ অভিনয় করেন, সেটা চীনা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ফ্রান্সের কান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে পালমে ডি’আর অর্জন করার প্রথম চলচ্চিত্র হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে চীনা চলচ্চিত্রের বক্স-অফিসের রেকর্ড সৃষ্টি করে। অভিনেতা হিসেবে চাং কুও রং চীন, জাপান, জার্মানিতে অনেক পুরস্কার পান। বলা যায়, তিনি চীনা চলচ্চিত্র মহলে সবচেয়ে প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় একজন অভিনেতা। বন্ধুরা, এখন শুনুন চাও কুও রংয়ের গাওয়া চলচ্চিত্র ‘Farewell My Concubine’র থিম সোং ‘যখন প্রেম অতীতের কথা হয়েছে’।গান ৬

 

সংগীত ও চলচ্চিত্র খাতে চাং কুও রংয়ের অসাধারণ প্রতিভা দেখা যায় এবং অনেক সাফল্য অর্জন করলেও ২০০৩ সালে তিনি মানসিক অবসাদে আত্মহত্যা করেন। তিনি আর নেই, তবে তার গান ও চলচ্চিত্র অনেকের পছন্দ। বন্ধুরা, অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে আমরা একসঙ্গে চাং কুও রংয়ের আরেকটি সুন্দর গান ‘চারটি ঋতু’ শুনবো। আশা করি, আপনারা তার গানগুলো পছন্দ করবেন।গান ৭

বন্ধুরা, আজকের অনুষ্ঠান তাহলে এখানেই শেষ করছি। আশা করি, আমাদের অনুষ্ঠানে প্রচারিত গানগুলো আপনাদের ভালো লেগেছে।এখন বিদায় নিচ্ছি। সবাই ভালো থাকুন, সুন্দর থাকুন ও সুস্থ থাকুন। আবার কথা হবে। চাই চিয়ান।