‘তারুণ্যের অগ্রযাত্রা’ পর্ব ৫৮
2024-02-21 20:34:43

‘তারুণ্যের অগযাত্রা’ অনুষ্ঠানে স্বাগত জানাচ্ছি আমি রওজায়ে জাবিদা ঐশী।  দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়ার প্রধান হাতিয়ার তারুণ্য। তরুণরা চাইলেই পারে সমাজকে বদলে দিতে। এজন্য দরকার তাদের চিন্তা ও মেধার সমন্বয়। চীন ও বাংলাদেশের তরুণদের অফুরান সম্ভাবনার কথা তুলে ধরবো এই অনুষ্ঠানে। তরুণদের সৃজনশীলতার গল্পগাঁথা নিয়েই সাজানো হয়েছে আমাদের তারুণ্যের অগ্রযাত্রা। 

১. বর্তমান তরুণ প্রজন্ম বইয়ের প্রতি কতটুকু আগ্রহী  

 

 


অমর একুশে বইমেলা ২০২৪।  বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে প্রাণের এই উৎসব। প্রতিবছর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় বাংলা একাডেমির আয়োজনে ফেব্রুয়ারিজুড়ে অনুষ্ঠিত হয় বইমেলা। এবার ইংরেজি ক্যালেন্ডারে চলছে অধিবর্ষ। তাই মেলা চলবে ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। 


বাংলাদেশের বইপ্রেমীরা সারা বছর অপেক্ষা করেন এই মেলার জন্য। কারণ এ সময়টাতেই লেখক, প্রকাশক ও পাঠকদের মিলনমেলা জমে ওঠে। নতুন বইয়ের ঘ্রাণের নেশায় দলে দলে ছুটে আসেন বইপোকারাও।


কিন্তু এই প্রযুক্তির যুগে দাঁড়িয়ে কাগজে ছাপা বইয়ের গুরুত্ব কমছে না তো?


মেলায় তরুণদের আনাগোনা অনেক বেশি থাকলেও প্রকৃত পাঠকের সংখ্যা কম। তবে মোবাইলের স্ক্রিনে ই-বুক পড়ার চেয়ে সরাসরি বই পড়ার আনন্দটাই বেশি বলে জানান তারা। 

 

মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে নানা বয়সী মানুষের দেখা মিলে। বই পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সন্তানদের মেলায় নিয়ে আসেন অভিভাবকরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন তারা।


 



প্রকাশক কিংবা বিক্রেতারা বলছেন, যে পরিমাণ মানুষ মেলায় আসছেন সে তুলনায় ক্রেতা কম। 

 


তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তরুণদের বেশি বেশি বইমুখী করতে হলে ভালো বিষয়বস্তুর ওপর ভালো লেখকদের মানসম্মত বই প্রকাশ করতে হবে। 



প্রতিবেদক : রওজায়ে জাবিদা ঐশী

সম্পাদক: ফয়সল আব্দুল্লাহ 


২. বাংলাভাষার শিক্ষক হতে চান চীনা তরুণ 

 

চীনের তরুণ ইয়াং সিয়ানহাও। তার বাংলা নাম উপল। বাংলা ভাষার একজন শিক্ষার্থী তিনি। বাংলা ভাষায় মেজর নিয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন চীনের ইয়ুননান মিনজু ইউনিভারসিটি থেকে। বর্তমানে ঢাকায় নর্দার্ন ইউনিভারসিটি থেকে বাংলায় মাস্টার্স করছেন। সিএমজি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান বাংলাভাষায় তিনি শিক্ষকতা করতে চান। 


চীনের ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে বাংলাভাষার বিভাগ রয়েছে। তিনি বলেন, প্রথম যখন বাংলাভাষা শেখা শুরু করেন তখন তার কাছে খুব কঠিন বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু এখন তার কাছে বাংলাভাষাকে অত্যন্ত মধুর ভাষা বলে মনে হয়। তিনি বললেন, ‘বাংলাভাষা কবিতার ভাষা’। 

 

এক মাস ধরে বাংলাদেশে আছেন ইয়াং। এর আগেও বাংলাদেশে এসেছিলেন। সুন্দরবন, কক্সবাজারসহ বাংলাদেশের অনেক স্থানে ঘুরেছেন। বাংলাদেশের খাবার খুব ভালো লাগে তার। ভালোবাসেন বাংলা গান ও কবিতা।  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাশ, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, লালন সাঁইসহ অনেকের লেখা পড়েছেন। 


তিনি বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসায় মুগ্ধ। একুশের বইমেলায় তিনি গিয়েছেন। বাংলা বই কিনেছেন। বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্বকে আরও এগিয়ে নিতে চান এই চীনা তরুণ।


সাক্ষাৎকার গ্রহণ : শান্তা মারিয়া 


৩. বসন্ত উৎসবের ছুটি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চীনজুড়ে অনুষ্ঠিত 


 

আট দিনের বসন্ত উৎসবের ছুটি শেষে চীনের বিভিন্ন প্রদেশে হয়েছে চাকরির মেলা। চীনের বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক উদ্যোগের সঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের সেতুবন্ধনের কাজ করেছে এই আয়োজন।


পূর্ব চীনের আনহুই প্রদেশে হয় এমন একটি মেলা। এতে ১২০টিরও বেশি কম্পানি তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়ার কাজ সারতে জড়ো হয় আনহুইতে। ১০ হাজারেরও বেশি ব্যক্তি পেয়েছেন নতুন চাকরি।

 

 

চাকরিপ্রার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে ৬০টিরও বেশি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান নানলিং কাউন্টির উহু শহরে জড়ো হন। সেখানে তারা চাকরি দিয়েছেন ৫ হাজার প্রার্থীকে। 


কুয়াংতোং প্রদেশের লংছুয়ান কাউন্টিতেও চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়। এসময় বিভিন্ন কম্পানি চাকরিপ্রার্থীদের কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্য, বেতন ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়। এতে প্রায় আড়াই হাজার প্রার্থীর নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়। 


প্রতিবেদক : রওজায়ে জাবিদা ঐশী

সম্পাদক: ফয়সল আব্দুল্লাহ 



আমাদের ‘তারুণ্যের অগযাত্রা’ আজ এই পর্যন্তই। পরবর্তী অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ জানিয়ে আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি আমি রওজায়ে জাবিদা ঐশী। শুভকামনা সবার জন্য। আল্লাহ হাফেজ।  



পরিকল্পনা ,পরিচালনা ও সঞ্চালনা : রওজায়ে জাবিদা ঐশী  

অডিও সম্পাদনা: রফিক বিপুল, রওজায়ে জাবিদা ঐশী  

সার্বিক সম্পাদনা: ইয়ু কুয়াং ইউয়ে আনন্দী