‘তারুণ্যের অগ্রযাত্রা’ পর্ব ৫১
2024-01-03 17:26:06

     

               

‘তারুণ্যের অগযাত্রা’ অনুষ্ঠানে স্বাগত জানাচ্ছি আমি রওজায়ে জাবিদা ঐশী।  দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়ার প্রধান হাতিয়ার তারুণ্য। তরুণরা চাইলেই পারে সমাজকে বদলে দিতে। এজন্য দরকার তাদের চিন্তা ও মেধার সমন্বয়। চীন ও বাংলাদেশের তরুণদের অফুরান সম্ভাবনার কথা তুলে ধরবো এই অনুষ্ঠানে। তরুণদের সৃজনশীলতার গল্পগাঁথা নিয়েই সাজানো হয়েছে আমাদের তারুণ্যের অগ্রযাত্রা।

১. অটিজম চু চিংশিউয়ের জন্য কোনো বাধা নয়

 

শিয়াওশিউ নামেই বেশি পরিচিত চু চিংশিউ। এই চীনা শিশুটি একদম সুস্থ স্বাভাবিকভাবে জন্ম নিলেও ৩ বছর বয়সে অটিজমে আক্রান্ত হয়। তবে অটিজমকে জয় করেছে সে, যার জন্য এটা কোনও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি তার জীবনে। চিত্রকলা ও সঙ্গীত উভয় ক্ষেত্রেই তার প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়েছে অসাধারণভাবে।

 

পরিবারের ভালবাসা ও সমর্থন শিশুটিকে কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে অন্যান্য শিশুদের তুলনায়। চু চিংশিউ ছোটবেলা থেকেই অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার উপায় হিসেবে পেইন্টিং ও সঙ্গীতকে বেছে নেয়।

 

অটিজমে আক্রান্ত শিশুরা চীনে ‘তারা থেকে আসা শিশু’ নামে পরিচিত। কারণ তাদের সামাজিক দক্ষতার অভাব থাকতে পারে এবং তারা একাকীত্ব পছন্দ করতে পারে। তাই তাদেরকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ছেলেটির বয়স এখন ১২ বছর। তার প্রতিভা মানুষকে আকৃষ্ট করে। সে বড় হচ্ছে প্রবল আত্মবিশ্বাস নিয়ে; নিজেকে একটু একটু করে গড়ে তুলছে পূর্ণতা দিয়ে।

চু চিংশিউ কাজ করছে অটিজমে আক্রান্ত তরুণদের নিয়ে গঠিত একটি ব্যান্ড ‘হি নট এলোন’-এ। এই দলের সদস্যরা জীবনের চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও সঙ্গীত ও গানের প্রতি তাদের ভালবাসা ভাগ করে নেয়। তারা নিজেদের মধ্যে আশা ও শক্তির সঞ্চার করতে চায়। এই তরুণরা তাদের গানের মাধ্যমে চারপাশের মানুষের মন ছুঁতে চায়।

চু চিংশিউ অল্প বয়সেই তার সুরের মধ্য দিয়ে সুনাম কুড়িয়েছে। অবিশ্বাস্য প্রতিভাবান তরুণদের তালিকায় এই ছেলেটি জায়গা করে নিয়েছে।

 

প্রতিবেদক : রওজায়ে জাবিদা ঐশী 

সম্পাদক : শিহাবুর রহমান

 

২. বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আমির হোসেন

 

বর্তমান প্রযুক্তির যুগে বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে আছে। প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে নিতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষনার পরিবেশ ও কার্যক্রম আরও বাড়ানো দরকার, এ ক্ষেত্রে সরকারের বাজেট আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন এবং যারা দেশে প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে তাদের আরও বেশি সহযোগীতা করা দরকার বলে মনে করেন চীনের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আমির হোসেন।

 

আমির হোসেন, চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে স্নাতকোত্তর করছেন। এর আগে তিনি উত্তর চীনের ইলেক্ট্রিক পাওয়ার ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক শেষ করে আউটস্ট্যান্ডিং গ্র্যাজুয়েট অ্যাওয়ার্ডও লাভ করেন। এছাড়া  তরুণদের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করছেন আমির হোসেন।  

আমির হোসেনকে আমরা তারুণ্যের অগ্রযাত্রার এই পর্বে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তিনি অনলাইনে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।     

     

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : রওজায়ে জাবিদা ঐশী

 

 

৩. শীতকালীন খেলাধুলায় তরুণ স্কি প্রেমীরা এগিয়ে


চীনের শীতকালীন খেলাধুলায় তরুণদের অংশগ্রহণ থাকে উল্লেখযোগ্যহারে। তবে ছোট্ট শিশুদের আগ্রহও অনেক বেড়েছে। শীত আবির্ভুত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অভিভাবকরা তাদের ছোট্ট শিশুদের স্কি রিসোর্টসহ অন্যান্য খেলার স্পটগুলোতে নিয়ে যান।

উত্তর-পশ্চিম চীনের সিনচিয়াং উইগুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের ৭ বছর বয়সী এক ছোট্ট শিশু নিয়েরোং ছান।

 

তাকে বিপুল উৎসাহ নিয়ে স্কি করতে দেখা যায়। শীতকালীন ক্রীড়াগুলোতে তার খুব আগ্রহ। সে তার খেলার আনন্দ ভাগ করে নেয় অন্য শিশুদের সঙ্গে।

সম্প্রতি দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক সিসিটিভিকে নিয়েরোং ছান, ভবিষ্যতে শীতকালীন অলিম্পিকে প্রতিযোগিতা এবং পদক জয়ের স্বপ্নের কথা জানায়।  এসময় নি খুব অল্প বয়স থেকেই তার স্কিইংয়ের আগ্রহের গল্প শেয়ার করে।

"আমি ২ বছর ৭  মাস বয়স থেকে স্কিইং করছি। এটি প্রায় ৫ বছর হয়ে গেছে। আমার প্রিয় স্নোবোর্ডিং। কারণ এতে আমি একটি পাখি হয়ে উড়ে যাওয়ার মতো মুক্ত বোধ করি"

ছুটির দিনে আশেপাশের স্কি রিসোর্টগুলোতে তরুণ স্কিপ্রেমীরা একসাথে হয়। এসময় নি তাদের সঙ্গে খেলায় মেতে উঠে। তার মতো স্কি প্রেমী তরুণ ছুয়ান সিন ই।

"আমি স্কিইং খুব পছন্দ করি কারণ স্কিইং আমাদের আনন্দিত করে।"

 

চীনে শীতকাল শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর পশ্চিম অঞ্চল শীতকালীন খেলাপ্রেমীদের জন্য একটা বিশেষ আকর্ষণ এবং আনন্দের বিষয় হয়ে উঠে। 

 

প্রতিবেদক : রওজায়ে জাবিদা ঐশী 

 

আমাদের ‘তারুণ্যের অগযাত্রা’ আজ এই পর্যন্তই। পরবর্তী অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ জানিয়ে আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি আমি রওজায়ে জাবিদা ঐশী। শুভকামনা সবার জন্য। আল্লাহ হাফেজ।  

 

পরিকল্পনা ,পরিচালনা ও সঞ্চালনা : রওজায়ে জাবিদা ঐশী 

অডিও সম্পাদনা: রফিক বিপুল/ রওজায়ে জাবিদা ঐশী    

সার্বিক সম্পাদনা: ইয়ু কুয়াং ইউয়ে আনন্দী