সিনচিয়াং: নাতিশীতোষ্ণ শুষ্ক জলবায়ু
2023-04-12 16:08:53


 

প্রিয় শ্রোতা, এ অনুষ্ঠানে আমরা পালাক্রমে সিনচিয়াং ও তিব্বতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে থাকি। আশা করি, এর মাধ্যমে শ্রোতারা চীনের সুন্দর সিনচিয়াং ও সুন্দর তিব্বত সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা পাচ্ছেন। তাহলে দেরি না করে শুরু করি আমাদের আজকের অনুষ্ঠান। আজকে আমরা সিনচিয়াং নিয়ে কথা বলব।

  

** নাতিশীতোষ্ণ শুষ্ক জলবায়ু

সিনচিয়াং সমুদ্র থেকে অনেক দূরে অবস্থিত একটি অঞ্চল। ভারতীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস, হিমালয় ও খুন লুন পবর্তসহ বেশকিছু বড় পর্বতমালার বাধা অতিক্রম করে, সিনচিয়াংয়ে আসতে পারে না বললেই চলে। কেবল আর্কটিক মহাসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরের কিছু

ঠাণ্ডা বাতাস সিনচিয়াংয়ের উত্তর-পশ্চিম পর্বতমালা দিয়ে প্রবেশ করে, সিনচিয়াংয়ে সামান্য বৃষ্টিপাতের কারণ হয় এবং শীতকালে ঠাণ্ডা ও শুষ্ক নাতিশীতোষ্ণ মহাদেশীয় জলবায়ু সৃষ্টি করে। ‘থিয়ান শান’-এর উত্তরাঞ্চল হচ্ছে মধ্যম নাতিশীতোষ্ণ, দক্ষিণাঞ্চল হচ্ছে উষ্ণ নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল। শীতকালে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা পড়ে এবং শীতকাল দীর্ঘও বটে। সিনচিয়াংয়ের গ্রীষ্মকাল বেশিদিন স্থায়ী হয় না, যতটুকু সময় থাকে ভীষণ গরমের আমেজ পান বাসিন্দারা।

 

সিনচিয়াংয়ে তাপমাত্রার ব্যবধান চোখে পড়ার মতো। যে কোনো একটি বছরের সবচেয়ে উষ্ণ ও সবচেয়ে শীতল দিনের মধ্যে পার্থক্য অনেক। এখানে বৃষ্টিপাত কম হয়; বাতাস প্রচুর। সিনচিয়াং আলো-বাতাসে সমৃদ্ধ। সিনচিয়াংয়ের ‘তুর্পান’ বেসিনে তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে। এখানে জুলাই মাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে, যা গোটা চীনের সর্বোচ্চ তামপাত্রা। ওদিকে, ‘ফু ইয়ুন’ জেলার ‘খ্য খ্য থুও হাই’ হচ্ছে সিনচিয়াংয়ের সবচেয়ে ঠাণ্ডা জায়গা। জানুয়ারিতে এখানকার সবচেয়ে কম তাপমাত্রা -৫১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে। তবে, চীনের হেইলুংচিয়াং প্রদেশের মোহ্য জেলার তাপমাত্রা এর চেয়েও কম হতে পারে।

 

সিনচিয়াংয়ের অধিকাংশ এলাকায় বসন্তকাল ও গ্রীষ্মকাল এবং শরত্কাল ও শীতকালের মধ্যে দিনের তাপমাত্রার ব্যবধান অনেক বেশি। তাই, প্রাচীনকাল থেকে সিনচিয়াংয়ে এই কথাটি প্রচলিত: ‘সকালে চামড়ার জ্যাকেট ও বিকেলে পাতলা কাপড় পরুন এবং বেশি বেশি তরমুজ খান’।

 

উত্তর সিনচিয়াংয়ে তুলনামূলকভাবে দক্ষিণ সিনচিয়াংয়ের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়। আবার পশ্চিম সিনচিয়াংয়ের বৃষ্টিপাত উত্তর সিনচিয়াংয়ের চেয়ে বেশি; পর্বতময় এলাকায় সমতল অঞ্চলের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় এবং বেসিনের সীমান্ত অঞ্চলে কেন্দ্রস্থলের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়। সিনচিয়াংয়ের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত ‘থিয়ান শান’-কে বলা যেতে পারে এখানকার আবহাওয়ার বিভাজক রেখা। এর উত্তরাঞ্চলে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৫০০ থেকে ৭০০ মিলিমিটার, দক্ষিণাঞ্চলের বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২০০ থেকে ৪০০ মিলিমিটার। সিনচিয়াংয়ে গ্রীষ্মকালে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।

 

আগেই বলেছি, সিনচিয়াং বাতাসসমৃদ্ধ অঞ্চল। বিশেষ করে ‘চুনকার’ পশ্চিমাঞ্চলীয় পর্বত ও ‘থিয়ান শান’-এর উত্তরাঞ্চলের মাঝখানের গিরিখাতে বছরের ১৪৮ দিন প্রচুর বাতাস থাকে। ‘চুনকার’ বেসিন এবং ‘থুলুফান’ বেসিনের মধ্যে রয়েছে ‘তা পান ছেং’ গিরিখাত অঞ্চল। এখানেও বছরে প্রচুর বাতাস পাওয়া যায় প্রায় দেড় শ দিন।

 

প্রিয় শ্রোতা, আমাদের হাতে আর সময় নেই। আজকে এখানেই শেষ করতে হচ্ছে। আজকের ‘সিনচিয়াং থেকে তিব্বত’ এ পর্যন্তই। তবে, আগামী সপ্তাহে আমরা আবার আপনাদের সামনে হাজির হবো সিনচিয়াং ও তিব্বতের কোনো গল্প বা তথ্যভান্ডার নিয়ে। আপনারা আমাদের লিখুন। আমাদের ইমেইল ঠিকানা ben@cri.com.cn  আমাদের ওয়েবসাইটেও আপনারা অনুষ্ঠান শুনতে পারেন। আমাদের ওয়েবসাইটের ঠিকানা:  https://bengali.cri.cn/  সবাই ভাল থাকুন, সুন্দর থাকুন। (উর্মি/আলিম)