ইতিহাসের সুর ও স্মৃতি
2023-03-11 09:51:58

চীনের হ্য চ্য জাতির মানুষ ফলনের জন্য প্রার্থনা করছে।

চীনে ৫৬টি জাতি আছে। হান জাতি ছাড়া আরো ৫৫টি সংখ্যালঘু জাতি আছে। এর মধ্যে হ্য চ্য জাতি হল চীনে সবচেয়ে কম লোকসংখ্যার জাতিগুলোর মধ্যে অন্যতম। তাঁরা বংশপরম্পরায় হেই লুং চিয়াং প্রদেশে, উ সু লি নদী এবং সুং হুয়া চিয়াং নদী অববাহিকায় থাকেন। কারণ, তারা দেশের পূর্বাঞ্চলে থাকেন, তাই হ্য চ্য জাতিকে ‘সূর্য রক্ষাকারী জাতি’ বলা হয়।

 

২০১৬ সালের ৭ মার্চ চীনের দুই অধিবেশনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং- হেই লুং চিয়াং প্রদেশের প্রতিনিধি দলের আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন।

তখন এনপিসির প্রতিনিধি হিসেবে হ্য চ্য জাতির নারী লিউ লেই প্রেসিডেন্ট সিকে হ্য চ্য জাতির উন্নয়নের অবস্থা অবহিত করেন।

তিনি বলেন, তখন ‘উসুরি নৌকার গানের’ মাধ্যমে সবাই আমাদের হ্য চ্য জাতি সম্বন্ধে জানতে পারে।

প্রেসিডেন্ট সি জবাবে বলেন, ছোটবেলা থেকে আমরা সবাই এই গানটি জানি এবং সুরও দিতে পারি। সত্যিই, খুব সুন্দর দৃশ্য বর্ণনা করা হয়েছে।

লিউ লেই বলেন, তাই আমি প্রেসিডেন্টকে আমাদের হ্য চ্য জাতির এলাকায় যাওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমরা সংখ্যালঘু জাতি এবং হেই লুং চিয়াং প্রদেশের বিশেষ জাতি।

 

এই আমন্ত্রণ পাওয়ার দুই মাস পর অর্থাত্ ২০১৬ সালের ২৪ মে, সি চিন পিং শুধুমাত্র ১৯৮টি পরিবারের হ্য চ্য জাতির ছোট জেলে গ্রাম-বা ছা গ্রামে যান। যদিও সেদিন বৃষ্টি ছিল, তবুও সি চিন পিং এই সীমান্তের গ্রামটিতে পৌঁছে যান।

ইমাকান হল হ্য চ্য জাতির ঐতিহাসিক লোকগানের মত সাংস্কৃতিক সম্পদ। স্থানীয় ইমাকান শেখার কেন্দ্র পরিদর্শন করেন সি চিন পিং।

মাননীয় অতিথিকে স্বাগত জানানোর জন্য সবাই স্থানীয় গান ‘উসুরি মাংমু’ গেয়েছেন। গানের কথাগুলো এ রকম, উসুরি নদীর পানি হেনিনা, হেইলুং নদীর পানি হেনিনা। সাহসী এবং পরিশ্রমী হ্য চ্য জাতির মানুষ, তিন নদীর অববাহিকায় থাকে। আগে কিছুই ছিল না, এখন জীবন অনেক সুন্দর হয়েছে। কমিউনিস্ট পার্টি এসে জীবন অনেক ভালো হয়।

 

সি চিন পিং তাঁদের গান শুনে বলেন, স্থানীয় মানুষের উচিত ভালোভাবে জাতীয় সংস্কৃতির উত্তরাধিকার করা, ভালোভাবে জাতি সংস্কৃতি উন্নত করা এবং জনপ্রিয় করা।

হ্য চ্য জাতির নিজস্ব ভাষা আছে, তবে অক্ষর নেই। ইমাকান লোকসঙ্গীত এবং হ্য চ্য ভাষা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছিল। হ্য চ্য জাতির মানুষ ৫ হাজারেরও কিছু বেশি, তবে সি চিন পিং এতে খুব গুরুত্বারোপ করেন।

চীনের অষ্টাদশ জাতীয় কংগ্রেসের পর থেকে উত্তরাঞ্চলের সংখ্যালঘু জাতির সংস্কৃতি সংরক্ষণের কাজ আরো জোরদার করা হয়েছে। হ্য চ্য জাতি অধ্যুষিত এলাকা ব্যাপকভাবে ইমাকান শেখার কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ আছে এবং ছয়-সাত বছরের শিশুও আছে।

ইমাকান শুধু হ্য চ্য জাতির শৈল্পিক সৌন্দর্যের প্রতিফলন ঘটায় নি, পাশাপাশি ঐতিহাসিক স্মৃতিও বহন করছে। সি চিন পিং-এর কাছে পরিচিত এই উসুরি নৌকার গান, ইমাকানের সুর থেকে রচনা হয়েছে।

 

বা ছা গ্রামের সিপিসি’র সম্পাদক ইউ মিং কুও বলেন, এখন চীনের জাতীয় সংস্কৃতি আরো সমৃদ্ধ হয়েছে। এর কারণ দেশ শক্তিশালী হয়েছে, দেশ শক্তিশালী হলে জনগণও শক্তিশালী হতে পারে।

সি চিন পিং বলেন, আমি এই প্রথমবারের মত হ্য চ্য জাতি এলাকায় এসেছি। খুব আন্তরিক মনে হচ্ছে। কারণ, আমি সবসময় আমাদের প্রত্যেক সংখ্যালঘু জাতির কথা মনে রাখি। হ্য চ্য জাতি-সহ। আজ আপনাদের জীবন দেখেছি, আপনাদের দেখেছি, যা আমার কল্পনার চেয়েও অনেক ভালো। হ্য চ্য জাতির উন্নয়ন আমাদের বিভিন্ন জাতির ঐক্যের অগ্রগতির প্রতিফলন।

সি চিন পিং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, চীনের উজ্জ্বল সংস্কৃতি বিভিন্ন জাতি যৌথভাবে রচনা করেছে। ইতিহাসের বিভিন্ন কবিতা ও উপন্যাসের পাশাপাশি, সংখ্যালঘু জাতির সংস্কৃতির মহান গল্পও আছে।