‘সাধারণ সমৃদ্ধি’—চীনা-শৈলীর আধুনিকীকরণ বিশ্বের সমস্যা মোকাবিলার নতুন ধারণা
2023-03-09 14:45:26

‘সাধারণ সমৃদ্ধি’ হল চীনা জাতির ‘বড় স্বপ্ন’, একই সঙ্গে তা প্রত্যেক চীনা পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির বিংশ জাতীয় কংগ্রেস প্রস্তাব দিয়েছে যে, চীন-শৈলীর আধুনিকীকরণ হল সব মানুষের সাধারণ সমৃদ্ধির জন্য একটি উন্নয়ন। উন্নত জীবনের জন্য মানুষের আকাঙ্ক্ষা ক্রমাগত উপলব্ধি করার জন্য চীন আধুনিকীকরণের পথে চলছে। চীনা-শৈলীর আধুনিকীকরণ যা- ‘আধুনিকীকরণের দৃষ্টিকোণ থেকে পশ্চিমীকরণের’ ধারণা ভেঙ্গে দিয়েছে, যা মানবজাতির উন্নয়নে অনেক সমস্যার সমাধান করেছে এবং সারা বিশ্বের দেশে, বিশেষ করে- উন্নয়নশীল দেশগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য যুক্ত করেছে।

জিম্বাবুয়ের একজন আন্তর্জাতিক ছাত্র মিলাই একবার চায়না মিডিয়া গ্রুপের সাংবাদিকের কাছে এ ধরনের বিষয়ে আলোচনা করেন।

“চীনের গ্রামীণ পুনরুজ্জীবন কীভাবে সাধারণ মানুষকে দরিদ্রতা থেকে সাধারণ সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যায়?”

বেইজিংয়ে চতুর্দশ জাতীয় গণ-কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনে যোগদানকারী জাতীয় গণ-কংগ্রেসের অনেক প্রতিনিধির অভিজ্ঞতা থেকে এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর পাওয়া যায়।

জাতীয় গণ-কংগ্রেসের প্রতিনিধি লি শি ইউয়াও চীনের কুইচৌ প্রদেশের লিউভানসুই শহরের চুংজিং গ্রামের একজন অধিবাসী। গত কয়েক বছর ধরে, তিনি প্রবাসীদের স্থানীয় অবস্থা অনুযায়ী, তরমুজ, ভুট্টা ও অন্যান্য বিশেষ অর্থনৈতিক ফসল ফলানোর জন্য নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং আধুনিক উচ্চ-দক্ষতার রোপণ মডেলগুলির সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী নিম্ন-দক্ষ রোপণ মডেলগুলি প্রতিস্থাপন করেছেন; যা স্থানীয়দের আয় বৃদ্ধিতে সাহায্য করেছে।

 

লি বলেন, “আমি মনে করি, আমাদের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল যে, আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে গ্রামীণ এলাকায় বৈশিষ্ট্যময় শিল্প উন্নত করতে পারি। বৈশিষ্ট্যময় শিল্প উন্নয়নের মাধ্যমে এসব মানুষ তাদের আয় ও কর্মসংস্থান বাড়িয়েছে, যাতে উচ্চ-মানের উন্নয়ন বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ সমৃদ্ধি অর্জিত হবে।”

চ্যচিয়াং প্রদেশের আনজি জেলার ইয়ু গ্রামের আশেপাশের ৩টি কাউন্টির ১৭টি গ্রামের মানুষ ধনী হওয়ার অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেছে। জাতীয় গণ-কংগ্রেসের প্রতিনিধি, চ্যচিয়াং আনজি জেলার ইয়ু গ্রামের পার্টি-সচিব ওয়াং ইয়ু ছেন বলেন,
“বর্তমানে ইয়ু গ্রাম একটি উন্নত গ্রাম; যেখানে গ্রামবাসী ধনী, দৃশ্য সুন্দর এবং মানুষের সম্পর্ক সুরেলা। ২০২২ সালে গ্রামের যৌথ অর্থনৈতিক মূল্য ১৩.৫ লাখ ইউয়ানে এসে দাঁড়িয়েছে। ইয়ু গ্রামের সাফল্য থেকে দেখা যায়- একটি সমৃদ্ধ উন্নত চীন।”

চীনা-শৈলীর আধুনিকীকরণ শুধুমাত্র কিছু অংশের মানুষের সমৃদ্ধি নয়; বরং ‘সব মানুষের সাধারণ সমৃদ্ধি’।

 

ব্রিটিশ বিখ্যাত পণ্ডিত মার্টিন জ্যাক একবার বিশ্লেষণ করে বলেন যে, ‘সব মানুষের সাধারণ সমৃদ্ধির’ চীনা-শৈলীর আধুনিকীকরণ কেবল চীনের ভবিষ্যত উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা এনে দেয় নি, বরং- বিশ্বের সমস্যা সমাধানের জন্য নতুন ধারণাও দিয়েছে। তিনি বলেন,

“পশ্চিমের আধুনিকীকরণ অনেক দেশে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। বৈষম্য আমাদের যুগের একটি গুরুতর সমস্যা। চীন যদি বৈষম্য মোকাবিলা এবং চরম দারিদ্র্য মোকাবিলা করতে পারে, তাহলে আরও ন্যায়সঙ্গত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক আধুনিকীকরণ ব্যাপক বৈশ্বিক প্রভাব ফেলবে।”

কেনিয়ার আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশেষজ্ঞ অধীর ক্যাভিনস মনে করেন, চীনা-শৈলীর আধুনিকীকরণ উপলব্ধি করার ধারণা এবং মডেল থেকে আফ্রিকার দেশগুলি শিখতে পারে। তিনি বলেন,

“আমরা চীনের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে চাই। চীনের আধুনিকীকরণের ধারণা হল সবার যত্ন নেওয়া এবং কাউকে পিছনে না রাখা।”

(জিনিয়া/তৌহিদ/আকাশ)