চীন সফরে কম্বোডিয়া প্রধানমন্ত্রী
2023-02-10 11:17:12

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৬ ফেব্রুয়ারি জানিয়েছে যে, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী সামদেচ হুন সেন ৯ থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি চীনে সফর করেছেন। ২০২৩ সালে চীনের ঐতিহ্যিক নববর্ষের পর হুন সেন চীন সফরে আসা প্রথম বিদেশি নেতা এবং তা চীন কম্বোডিয়া উচ্চ মানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রতিফলন।

 

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে, চীনের উহান শহরে কোভিড-১৯ মহামারি শুরু হয় এবং অনেক বিদেশি মানুষ চীন থেকে চলে যায়। তারপর চীনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ করা হয়। ওই সময় দক্ষিণ কোরিয়ায় বিশ্ব শান্তি ইউনিয়ন শীর্ষসম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষ করে কর্মসূচি পরিবর্তন করে একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে চীন সফরে এসেছিলেন কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন। বিশেষ এ সময়ে চীন সফরে আসার মাধ্যমে মহামারি প্রতিরোধে চীন সরকার ও জনগণকে সমর্থন জানায় কম্বোডিয়া সরকার।

 

তিন বছর পর, হুন সেন আবারো চীনে সফরে আসেন। এ প্রসঙ্গে চাইনিজ একাডেমি অফ সোশ্যাল সায়েন্সেসের এশিয়া-প্যাসিফিক ও বৈশ্বিক কৌশল গবেষণালয়ের গবেষক সু লি পিং বলেন, এবার সফরের বিশেষ অর্থ রয়েছে এবং এ সফর তাৎপর্যপূর্ণ। চীনের মহামারি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে এবং এ সময় চীন সফর করছেন কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী; যা বসন্তকালে আশাবাদের একটি সফর। এ সফরের মাধ্যমে দু’দেশ মাঝারি ও দীর্ঘ মেয়াদি উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আলোচনা করবে।

 

চলতি বছর ‘চীন-কম্বোডিয়া কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ৬৫ বছর’ এবং চীন-কম্বোডিয়া বর্ষও উদযাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী হুন সেন বলেছেন, কম্বোডিয়া-চীন সার্বিক কৌশলগত অংশীদারি সম্পর্ক ও অভিন্ন লক্ষ্যের কমিউনিটি, ‘এক অঞ্চল, এক পথ’ উদ্যোগ ও  শক্তিশালী বন্ধুত্ব দু’দেশের সার্বিক ও দীর্ঘসময়ের সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করেছে। তিনি আশা করেন, এবারের চীন সফরের মাধ্যমে কম্বোডিয়ার দ্বিতীয় হাইওয়ে নির্মাণসহ আরও সহযোগিতামূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে।

 

২০২২ সালের পয়লা অক্টোবর চীন-কম্বোডিয়া যৌথভাবে কম্বোডিয়ার প্রথম হাইওয়ে চালু হয়। এ পথ চালু হবার পর নমপেন থেকে সিহানুক বন্দরে যাতায়াতের সময় ৫ থেকে কমে ২ ঘন্টা হয়েছে।

 

সু লি পিং বলেন, অবকাঠামোর আন্তঃযোগাযোগ আসিয়ান জোট এলাকার অর্থনীতি ও সমাজের উন্নয়নের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। চীন-লাওস হাই স্পিড রেল, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা- ব্যাংডং হাই স্পিড রেল দেখে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে কম্বোডিয়াও রেলের উপর গুরুত্ব দিতে শুরু করে। ভবিষ্যতে কম্বোডিয়ার হাই স্পিড রেল যদি চীন-লাওস হাই স্পিড রেলের সঙ্গে সংযুক্ত হয় তাহলে স্থলবেষ্টিত দেশ হিসেবে কম্বোডিয়া নতুন নৌ বন্দর ও বাণিজ্যিক চ্যানেল পাবে।

 

অবকাঠামো ছাড়া কৃষি খাতে দু’দেশের সহযোগিতাও এ সফরের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

 

চীনের লৌহ কঠিন বন্ধু হিসেবে কম্বোডিয়া চীনকে সমর্থন করে আসছে। মহামারি বা চীনের বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশের অযৌক্তিক অভিযোগ বা মার্কিন ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের মুখে কম্বোডিয়া চীনের পাশে দাঁড়িয়েছে। যখন চীন-কম্বোডিয়া সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে পাশ্চাত্য সমাজ, তখন হুন সেন বলেন, যদি আমি চীনের ওপর নির্ভর না-করি তাহলে কার উপর নির্ভর করব? চীন ছাড়া কোন দেশ সেতু ও পথ নির্মাণে কম্বোডিয়াকে সাহায্য করবে?

 

পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে হুন সেনের এ সফর প্রতিবেশী দেশ ও বিশ্বকে স্পষ্ট একটি সংকেত পাঠিয়েছে। তা হলো- কোনো ধরনের বিচ্ছিন্নতা বা জোট করে সংঘর্ষ জনপ্রিয় করা যাবে না এবং তা সফল হবে না।

 

অধিকাংশ দক্ষিণ-পূর্ব দেশের প্রধান কর্তব্য হল অর্থনীতির অধিকার ও জীবিকা উন্নয়ন। চীন-কম্বোডিয়ার সহযোগিতা দু’দেশের মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করে, যা বিদেশি শক্তি দমন ও জোর করে চীন-কম্বোডিয়া সহযোগিতা পরিবর্তন করতে পারবে না।

(শিশির/তৌহিদ/রুবি)