চলতি বছর বৈশ্বিক বাণিজ্যের সরবরাহ-চেইন স্থিতিশীল রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে চীন
2023-02-03 15:25:17


ফেব্রুয়ারি ৩: চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রধান গতকাল (বৃহস্পতিবার) বেইজিংয়ে জাতীয় তথ্য-কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ২০২২ সালে চীন বৈদেশিক বাণিজ্যে যথেষ্ট ভালো করেছে এবং এ খাতে নতুন চালিকাশক্তিও যুক্ত হয়েছে। চলতি বছর চীনের বৈদেশিক বাণিজ্য আরও ভালো করবে বলে আশা করা যায়। ২০২৩ সালে নিজের বিশাল বাজারের সুবিধা কাজে লাগিয়ে, বৈশ্বিক বাণিজ্যের সরবরাহ-চেইন স্থিতিশীল রাখতে বরাবরের মতোই ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে চীন।

২০২২ সালে চীনের বৈদেশিক বাণিজ্য, অপ্রত্যাশিত বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করে, সামনে এগিয়েছে। সেবছর দেশের আমদানি ও রপ্তানির মোট মূল্য প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ইউয়ান ছাড়িয়ে যায়। এ সম্পর্কে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগের মহাপরিচালক লি সিং ছিয়ান বলেন, চীনের বৈদেশিক বাণিজ্য যৌক্তিক পর্যায়ে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর কাঠামোও অব্যাহতভাবে সুবিন্যস্ত হচ্ছে। বিদ্যুত্চালিত গাড়ি, ফটোভোলটাইক পণ্য এবং লিথিয়াম ব্যাটারির মতো উচ্চ প্রযুক্তি, উচ্চ মূল্য সংযোজন এবং সবুজ রূপান্তর পণ্য রপ্তানি ক্ষেত্রে নতুন প্রাণশক্তি যুগিয়েছে। পাশাপাশি, আন্তঃদেশীয় ই-কর্মাস এবং বাজার সংগ্রহসহ বৈদেশিক বাণিজ্যের নতুন রূপও তৈজীয়ান হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন,

“বর্তমানে বৈশ্বিক অর্থনীতির নিম্নমুখী ঝুঁকি বাড়ছে, বাইরের চাহিদার প্রবৃদ্ধি লক্ষণীয়ভাবে ধীর হচ্ছে, আন্তর্জাতিক সরবরাহ-চেইনেও কমবেশি অস্থিতিশীলতা আছে, বৈদেশিক বাণিজ্যের উন্নয়নের পরিবেশও আশানুরূপ নয়। ২০২৩ সালে আমাদের বৈদেশিক বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা ও ব্যাপকতা সুবিন্যস্ত করতে হবে, জাতীয় অর্থনীতিতে রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা স্থিতিশীল করতে হবে।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য মেলা সার্বিকভাবে অফলাইনে আয়োজন করতে হবে। এগুলোর মধ্যে থাকবে আমদানি মেলা, কুয়াংচৌ বাণিজ্য মেলা এবং চীনের আন্তর্জাতিক উচ্চ প্রযুক্তি ফলাফল বাণিজ্য মেলাসহ ধারাবাহিক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন মেলা। ডিজিটাইজিংয়ের মাধ্যমে বাণিজ্যের সুপ্তশক্তি অনুসন্ধান করতে হবে, যাতে মাঝারি ও ক্ষুদ্র আকারের বৈদেশিক বাণিজ্যে নিয়োজিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো রপ্তানিতে ভালো করতে পারে।

পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২২ সালে চীনে বৈদেশিক পুঁজি আকৃষ্ট হওয়ার গতি স্থিতিশীলভাবে বেড়েছে। বৈদেশিক পুঁজির প্রকৃত পরিমাণ প্রথমবারের মতো ১.২ ট্রিলিয়ন ইউয়ান তথা ১৮৯.১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে, যা একটি রেকর্ড। বাস্তবতা থেকে পুনরায় প্রমাণিত হয়েছে যে, চীন বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের জায়গা। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক পুঁজি ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান মেং হুয়া থিং মনে করেন, চীনা অর্থনীতির দৃঢ়তা প্রবল, সুপ্তশক্তি বিশাল, চালিকাশক্তি যথেষ্ট। বিদেশী পুঁজির জন্য বিশাল বাজারের ‘চৌম্বকীয় আকর্ষণ’ আছে চীনের। তিনি বলেন,

“সম্প্রতি একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা চলতি বছর চীনা অর্থনীতিতে ভালো প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।  অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি পুঁজির সঙ্গে জড়িত। সংশ্লিষ্ট সংস্থার সাম্প্রতিক তদন্ত অনুসারে, সংখ্যাগরিষ্ঠ বিদেশী শিল্পপ্রতিষ্ঠান চীনা অর্থনীতির সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী। পুঁজি বিনিয়োগকারীদের আস্থা থাকলে, আমাদের বৈদেশিক বাণিজ্য ভালোভাবে সামনে এগিয়ে যাবে। এ ব্যাপারে আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে। ১৪০ কোটিরও বেশি লোকঅধ্যুষিত দেশ হিসেবে চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ভোক্তা-বাজার। বিদেশী পুঁজি বিনিয়োগকারীরা তাই চীনে বিনিয়োগ করতে সবসময় আগ্রহী।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে চীনে বিদেশি পুঁজি আকৃষ্ট হওয়ার পরিস্থিতি আরও জটিল। বৈশ্বিক অর্থনীতির অবস্থা দুর্বল এবং বিভিন্ন রকমের নেতিবাচক ফ্যাক্টর আরও বাড়ছে। গত জানুয়ারিতে জাতিসংঘ বাণিজ্য উন্নয়ন সম্মেলনে প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়, ২০২৩ সালে বিশ্বে আন্তঃদেশীয় পুঁজি বিশাল নিম্নমুখী চাপের সম্মুখীন হবে। তবে, চীনে পুঁজি বিনিয়োগে বিদেশীদের আগ্রহ কমেনি। (ওয়াং হাইমান/আলিম/ছাই)