চীন বিশ্বের বৃহত্তম প্রবৃদ্ধির দেশ: সিএমজি সম্পাদকীয়
2023-01-18 14:48:38

                        চীনের জিডিপি ১২০ ট্রিলিয়ন ইউয়েন ছাড়িয়ে গেছে ২০২২ সালে

চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো ১৭ জানুয়ারি ২০২২ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, চীনের জিডিপি গত বছর ১২১.০২০৭ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে পৌঁছায়, যা আগের বছরের তুলনায় ৩.০ শতাংশ বেশি। ২০২০ এবং ২০২১ সাল থেকে টানা ১০০ ট্রিলিয়ন ইউয়ান এবং ১১০ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে উন্নীত হবার পর চীনের অর্থনৈতিক সমষ্টি একটি নতুন স্তরে পৌঁছেছে।

ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশ্ব অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান নিম্নমুখী ঝুঁকি এবং মহামারীর প্রাদুর্ভাবসহ একাধিক অপ্রত্যাশিত বিষয়ের চাপ কাটিয়ে একটি নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করা চীনের অর্থনীতির জন্য সহজ নয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পূর্বাভাস অনুসারে ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশ ছাড়াবে না। জার্মানি ১.৯ শতাংশের আনুমানিক বৃদ্ধির হার প্রকাশ করেছে। বৈশ্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, ২০২২ সালে চীনের অর্থনীতির ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে। যা বেশিরভাগ প্রধান অর্থনৈতিক সত্তার তুলনায় বেশি, এতে চীনের অর্থনীতির শক্তিশালী স্থিতিস্থাপকতা এবং প্রাণশক্তি প্রতিফলিত হয়।

সামগ্রিকভাবে দেখা যায়, ২০২২ সালে চীনের অর্থনৈতিক ‘স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি অগ্রগতি অর্জিত হয়। একদিকে, পরিসংখ্যানের যুক্তিসঙ্গত বৃদ্ধির ভিত্তিতে কর্মসংস্থান ও দাম স্থিতিশীল রয়েছে। ২০২২ সালে শহর ও থানায় নতুন করে ১ কোটি ২০ লাখ ৬০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং যা পুরো বছরের প্রত্যাশিত লক্ষ্য পূরণ করেছে। বিশ্বের অধিকাংশ প্রধান অর্থনৈতিক সত্তা মুদ্রাস্ফীতি প্রতিরোধ করার সাথে সাথে চীনের বার্ষিক ভোক্তা মূল্য মাত্র ২ শতাংশ বেড়েছে এবং গণজীবিকার নিশ্চয়তা জোরালো হয়েছে।

অন্যদিকে চীনের উচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন উন্নয়নের যাত্রা বরাবরই এগিয়ে যাচ্ছে। উদ্ভাবন-চালিত উন্নয়ন কৌশলের গভীরভাবে বাস্তবায়নের সাথে সাথে চীনের অর্থনীতিতে নতুন গতিশক্তির অগ্রণী ভূমিকা ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

                                      চীনের বিদেশ-ভ্রমন উষ্ণ হয়ে যাচ্ছে

চীনের মহামারী প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণ একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশের পর আরও বেশি অর্থনৈতিক প্রাণশক্তি প্রকাশ পাচ্ছে। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের পরিমাণ ২০১৯ সালের ৮০ শতাংশেরও বেশি পুনরুদ্ধার হয়েছে। ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ পত্রিকায় বলা হয় যে, ‘ইতিমধ্যেই এমন লক্ষণ রয়েছে যে, চীনের অর্থনীতি সক্রিয় হচ্ছে, বড় শহরগুলোতে সাবওয়েতে লোকদের প্রবাহ দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে এবং যে সমস্ত ভোক্তারা সঞ্চয় করেছেন তারা ব্যয় করবেন।

গত বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক কর্ম সম্মেলনে স্পষ্ট করে বলা হয় যে, ‘অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সামগ্রিক উন্নতি এগিয়ে নেওয়া, স্থিতিশীলতা মেনে চলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার সঙ্গে সঙ্গে অগ্রগতি অর্জন করা উচিত্। যুক্তরাষ্ট্রের বারোনসচিনার লেখক রেশমা কাপাডিয়া মনে করেন, চীন সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতিমালার কারণে ২০২৩ সালে উদ্যোগগুলোর মুনাফা এবং জিডিপিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে চীন সম্ভবত একমাত্র প্রধান অর্থনৈতিক সত্তা হবে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মহাপরিচালক ক্রিস্তালিনা জর্জিয়েভা বলেছেন, ‘চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বিশ্বের জন্য সুখবর।’ চীনের অর্থনীতি ২০২৩ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি এগিয়ে নেওয়ার সবচে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হবে বলে তিনি মনে করেন।

বর্তমানে ব্যাপক বিদেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে চীনের অর্থনীতির প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছে। যেমন, জার্মানির বোস গ্রুপ চীনে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় উৎপাদন প্রযুক্তি প্রয়োগ করার পরিকল্পনা করেছে এবং তারা চীনা বাজারে পুঁজি সম্প্রসারণ করবে।

নতুন বছর আন্তর্জাতিক পরিবেশ এখনও জটিল এবং পরিবর্তনশীল, বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি অপর্যাপ্ত এবং দেশীয় অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের ভিত্তি এখনও যথেষ্ট মজবুত নয়। তবে দীর্ঘমেয়াদী পুঞ্জীভূত শক্ত উপাদানের ভিত্তি, সুপার-বৃহৎ -স্কেল বাজার সুবিধা এবং গভীরতর সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ থেকে লভ্যাংশের ক্রমাগত মুক্তি, ম্যাক্রো-অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণে সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে চীনা অর্থনীতি নতুন বছর সামগ্রিক উন্নতিতে আত্মবিশ্বাসী বলে মনে করে সিএমজি সম্পাদকীয়।

লিলি/তৌহিদ/রুবি