যুক্তরাষ্ট্র মহামারী প্রতিরোধ নিয়ে অপরাজরীতি করছে
2023-01-05 18:40:26

জানুয়ারি ৫: গত ৫ জানুয়ারি থেকে চীন থেকে যাওয়া যাত্রীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র মহামারী প্রতিরোধ-ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দেশটি তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। তারা বলেছে, এর কারণ হলো ‘চীনে নতুন করোনাভাইরাসের উপধরণ দেখা দিতে পারে, তাতে মহামারী আরো ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে’। তবে, বাস্তবতা হলো, চীনে এখন করোনাভাইরাসের যে উপধরণ রয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক মাস আগে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের উপধরণ। তবে, চীনের শাংহাই ও হাংচৌতে সম্প্রতি করোনাভাইরাসের নতুন উপধরণ XBB.1.5 পাওয়া গেছে। যা যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের উপধরণ। এ থেকে বোঝা যায়, চীন হচ্ছে বৈশ্বিক মহামারী সংক্রমণের শিকার। তবে, যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবতা ও বৈজ্ঞানিক চেতনা উপেক্ষা করে আসছে। তাদের আচরণ একেবারে অপরাজনৈতিক অভিনয়। 


মার্কিন সিডিসি’র তথ্যে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের উপধরণগুলো অব্যাহতভাবে পরিবর্তন হচ্ছে। গত বছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত, BA.5 যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে গত বছরের নভেম্বর মাসে তা BQ1ও BQ1.1তে রূপান্তরিত হয়। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে উপধরণ XBB.1.5 ছড়িয়ে পড়ে। তাতে আক্রান্তের সংখ্যা মোট সংখ্যার ৪১ শতাংশে পৌঁছায়। সিডিসি অনুমান করে যে, যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরপূর্বাঞ্চলে XBB.1.5 উপধরণে আক্রান্তের সংখ্যা এ অঞ্চলে নতুন আক্রান্তের ৭৫ শতাংশ হতে পারে। উপধরণ XBB.1.5 ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে পরিণত হয়েছে।


সংশ্লিষ্ট তথ্যে দেখা যায়, বর্তমানে কমপক্ষে ৭৪টি দেশ ও অঞ্চলে উপধরণ XBB.1.5 খুঁজে পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৪৩টি অঙ্গরাজ্যে এই উপধরণ পাওয়া গেছে।


উপধরণ XBB.1.5 যুক্তরাষ্ট্রে যখন পাওয়া যায়, তখন চীনে কঠোর মহামারী প্রতিরোধ নীতি কার্যকর ছিল। এরপর চীন মহামারী প্রতিরোধ ব্যবস্থা উন্নত করে। চীনে পাওয়া করোনাভাইরাসের উপধরণগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও অনেক দেশের চেয়ে তুলনামূলক অনেক পরে দেখা গেছে। 


করোনাভাইরাস এখন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে। তার উপধরণগুলো যে কোনো স্থানে দেখা দিতে পারবে। এজন্য চীনের প্রতি বিশেষ প্রবেশ সীমাবদ্ধ করার ব্যবস্থা নেওয়ার আচরণ বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এটি অপ্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। যুক্তরাষ্ট্রের এহেন আচরণ একেবারে অপরাজনৈতিক কার্যক্রম। 


তিন বছর ধরে চীন ‘জনগণকে শীর্ষস্থানে রাখা, জীবনকে শীর্ষস্থানে রাখার’ নীতিতে অবিচল আছে। যা বিশ্ব মহামারী প্রতিরোধ ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। সেই তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই মহামারী প্রতিরোধ নিয়ে অপরাজনীতি করেছে এবং তার দায় অন্য পক্ষের ওপর ‘চাপিয়ে দেওয়ার’ অপচেষ্টা করেছে। এসব আচরণ বৈশ্বিক মহামারী প্রতিরোধে নেতিবাচক ভূমিকা রাখে। 


তিন বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বার বার প্রমাণিত হয়েছে যে, মহামারী প্রতিরোধ নিয়ে অপরাজনৈতিক আচরণ মহামারী প্রতিরোধে কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ হবে না। শুধু একতা ও সহযোগিতাই হচ্ছে সঠিক পথ। 


তিন বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র মহামারী প্রতিরোধের বিষয়ে রাজনৈতিক আচরণ করেছে। তাতে ১০ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি মার্কিনী তাদের জীবন হারিয়েছে। যা বৈশ্বিক মহামারী প্রতিরোধ ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বড় বাধা সৃষ্টি করেছে। তিন বছরে যুক্তরাষ্ট্র এখনও কোনো শিক্ষা নেয় নি। তাদের ভুল আচরণ ঠিক করা উচিত।

(আকাশ/তৌহিদ/ফেইফেই)