যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়ার সাবমেরিন সহযোগিতা তাদের নিজস্ব ব্যাপার নয়: সিএমজি সম্পাদকীয়
2022-09-14 11:01:05

সেপ্টেম্বর ১৪: যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং অস্ট্রেলিয়া ছোট বৃত্ত তৈরির মাধ্যমে পারমাণবিক সাবমেরিন সহযোগিতাকে ‘ন্যায়সঙ্গত’ করতে চেয়েছিল; তবে, চতুর্থ বারের মতো তারা ব্যর্থ হয়েছে। সোমবার আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিষদের সম্মেলন চতুর্থ বারের মতো উল্লেখিত তিনটি দেশ নিজেদের মাঝে পারমাণবিক সাবমেরিন সহযোগিতা মোকাবেলা করতে পারে না বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছে।

 

গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং অস্ট্রেলিয়া একটি ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব (আউকুস) প্রতিষ্ঠার ঘোষণা করেছিল। তাদের মূল পরিকল্পনা হল: পারমাণবিক শক্তি-চালিত সাবমেরিন নির্মাণে যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেন অস্ট্রেলিয়াকে সহায়তা করবে। এই পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত পারমাণবিক অস্ত্র সামগ্রীর স্থানান্তর মূলত পারমাণবিক বিস্তার। এটি অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করবে এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক

অস্ত্রের বিস্তার রোধ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করবে। তাই এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে উদ্বিগ্ন করে।

 

যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং অস্ট্রেলিয়া পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির স্বাক্ষরকারী দেশ এবং তাদের পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের দায়বদ্ধতা পালন করা উচিৎ। তবে, এ তিনটি দেশ আইএইএ’র সচিবালয়ের সঙ্গে পরমাণু সাবমেরিন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার অপচেষ্টা চালাতে চায়, যাতে তাদের পরমাণু অস্ত্র বিস্তারের আচরণ ঢেকে রাখা যায়।

 

তারা যে কৌশলই খেলুক না কেন, মৌলিক সত্য পরিবর্তন করতে পারবে না। তারা পারমাণবিক সাবমেরিনে তিনটি দেশের সহযোগিতা অস্ত্র তৈরিতে সক্ষম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত এবং এতে পারমাণবিক বিস্তারের গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির উদ্দেশ্যের লঙ্ঘন এবং আইএইএ’র সচিবালয়ের দায়িত্বের আওতা ছাড়িয়ে যায়, তাই সংস্থার সকল সদস্য রাষ্ট্রের সম্মিলিত আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

 

আসলে আউকুসের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো গ্যাং প্রতিষ্ঠা এবং এটি  স্নায়ুযুদ্ধের কৌশল। যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেন উত্তর কোরিয়ার এবং ইরানের পারমাণবিক ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করে, কিন্তু তারাই আবার অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক সাবমেরিন সহযোগিতা বাস্তবায়নের অপচেষ্টা চালায়, এটাই সাধারণ ডাবল স্ট্যান্ডার্ড।

 

গত বছর আউকুস প্রতিষ্ঠিত হলে নভেম্বর মাসে ‘নৌবাহিনীর পারমাণবিক চালিকা শক্তির তথ্য বিনিময় চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়। চলতি বছরের মার্চ মাসে অস্ট্রেলিয়া পূর্ব উপকূলে একটি নতুন সাবমেরিন ঘাঁটি নির্মাণের কথা ঘোষণা করে। এসব ধারাবাহিক পদক্ষেপ এতদঞ্চলের দেশগুলোর মাঝে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

 

তবে, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন এবং অস্ট্রেলিয়া আন্তর্জাতিক সমাজের উদ্বেগের জবাব দেয়নি। পারমাণবিক সাবমেরিন সহযোগিতার খুঁটিনাটি বিষয় ধামাচাপা দিয়ে রাখছে। তারা কি করতে চায়? সবাই স্পষ্টই জানে যে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আঞ্চলিক সংঘর্ষ ও বৈরিতা সৃষ্টি তাদের উদ্দেশ্য।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমানে স্নায়ুযুদ্ধের পর পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি হতে পারে।

 

যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য-অস্ট্রেলিয়ার পারমাণবিক সাবমেরিন সহযোগিতা কোনোভাবেই তাদের ব্যক্তিগত বিষয় নয়, তাই তারা তাদের ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে তাদের দায়বদ্ধতা পূরণ করতে হবে, তিন দেশকে এ বিষয়ে বিশ্বকে ব্যাখ্যা দিতে হবে।

লিলি/এনাম/রুবি