হংকংয়ের চোং হুয়ান বা সেন্ট্রালে ঘুরে বেড়াবো
2022-07-01 10:42:21

চোং হুয়ান হচ্ছে হংকংয়ের আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্রের মূল অঞ্চল। হংকং স্টক এক্সচেঞ্জ, বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ইত্যাদি সবই সেন্ট্রালে অবস্থিত। সেন্ট্রাল থেকে আপনি ভিক্টোরিয়া হারবার স্কাইলাইনের আইকনিক ভবনগুলোকে খুব কাছ থেকে দেখতে পাবেন। যেমন ব্যাংক অফ চায়না টাওয়ার এবং হংকং-এর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উঁচু ভবন, আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্র। প্রতিটি হংকংয়ের প্রতিনিধিত্ব করে।

 

ল্যান্ডমার্ক ভবনগুলোর পাশাপাশি, সেন্ট্রালের বিভিন্ন ধরণের শৈলী রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে, পুরানো হংকংয়ের রাস্তাঘাট, বৈশিষ্ট্যযুক্ত ছোট রাস্তায় অবস্থিত স্থানীয় শতাব্দীর পুরানো ব্র্যান্ডগুলো, কমিউনিটির উষ্ণতা এবং ছোট কারুশিল্প। ইতিহাস, সংস্কৃতি ও শিল্প—সব এখানেই আছে।

সেন্ট্রাল হল গুরমেট খাবারের কেন্দ্রও। হংকং-এর অনেক সময়-সম্মানিত ব্র্যান্ডগুলো সেন্ট্রালে তাদের ব্যবসা শুরু করেছে এবং তারা কয়েক দশক ধরে পরিচালনা করছে। হংকংয়ে বন্ধুরা যখন একে অপরের সঙ্গে দেখা করে এবং আড্ডা দেয়, তখন তারা বলে, সময় থাকলে একসঙ্গে চা পান করো। হংকং-স্টাইলে চা পান, ডিমের আলকাতরা, দুধ চা, রোস্ট হাঁস, ওয়ান্টন নুডলস ইত্যাদি সুস্বাদু খাবার সেন্ট্রালে খুঁজে পাওয়া যায়। খাবার নিয়ে চিন্তা করা দরকার নেই, শুধু কতটা খেতে পারা যাবে—এটাই চিন্তার বিষয়।

 

সেন্ট্রাল হংকংয়ের অনেক সিনেমা এবং টিভি নাটকের জন্য একটি ক্লাসিক চিত্রগ্রহণের স্থানও। ডডেল স্ট্রিট হলো একটি রোমান্টিক রাস্তা। হংকং-এর প্রাচীন পাথরের সিঁড়ি এবং শুধুমাত্র চারটি গ্যাস স্ট্রিট ল্যাম্প এক অনন্য পরিবেশ তৈরি করেছে। এই জায়গা অগণিত চলচ্চিত্রের দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছে। হংকংয়ের বিখ্যাত অভিনেতা ও পরিচালক মি. স্টিফেন চাউয়ের পরিচালিত ‘দ্য কিং অফ কমেডিতে’ নায়িকা প্রথমে এই রাস্তায় উপস্থিত হন। এখন পরিচালক মিস্টার স্টিফেন চাউয়ের দৃষ্টিতে হংকং সম্পর্কে কথা শুনবো।

স্টিফেন চাউ বলেন যে, ‘দ্য কিং অফ কমেডি’ ছবির চিত্রগ্রহণের লোকেশন ছিল সেন্ট্রালের ডাডেল স্ট্রিট। কারণ, এটি একটি ঐতিহাসিক স্থান এবং পুরানো গ্রানাইট সিঁড়িগুলো সুন্দর। পাশাপাশি তিনি এটি খুব পছন্দ করেন।

তিনি বলেন, তিনি তার চলচ্চিত্রে প্রচুর চীনা উপাদান রেখেছেন। ঠিক কারণ তিনি অনুভব করেছেন যে, চীনের একটি গভীর ইতিহাস ও সংস্কৃতি রয়েছে; যা চীনা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় সুবিধা। চীন সম্পর্কে অনেক বিস্ময়কর গল্প রয়েছে এবং আমাদের অবশ্যই ভালো চাইনিজ গল্প বলতে হবে।

 

দেশের চতুর্দশ পাঁচশালা পরিকল্পনাতে হংকংয়ের মর্যাদা প্রসঙ্গে  বলা হয় যে, হংকংকে দেশি-বিদেশি সাংস্কৃতিক এবং শৈল্পিক বিনিময়ের একটি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়। স্টিফেন চাউ বলেন যে, হংকং সবসময়ই এমন একটি জায়গা, যেখানে চীনা ও বিদেশি সংস্কৃতি মিলিত হয়েছে। হংকং চীনকে ভালোভাবে বুঝতে পারে এবং তা বিশ্বমুখীও হচ্ছে। এই বৈশিষ্ট্যময় সুবিধা চীন ও বিদেশের সংস্কৃতি এবং শৈল্পিক বিনিময় কেন্দ্র হিসেবে হংকং গড়ে তোলার সহায়ক হবে।

 

তিনি বলেন, মাতৃভূমিতে হংকংয়ের প্রত্যাবর্তনের ২৫ বছরব্যাপী সময়ের দিকে তাকিয়ে তিনি বলতে চান- মূল ভূখণ্ডের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক সবসময় পারস্পরিক সমর্থনশীল। তারা একে-অপরের কাছ থেকে অনেক শিখেছেন। কারণ হংকং ও মুল ভূভাগের সংস্কৃতি একই এবং একই রক্তের অংশীদার। একজন চীনা হিসাবে, পহেলা জুলাই সর্বদা উদযাপনযোগ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। রাষ্ট্রের সমর্থনে হংকং ভবিষ্যতে আরও বেশি সুযোগের মুখোমুখি হবে। কুয়াংতং-হংকং-ম্যাকাও বৃহত্তর উপসাগরীয় এলাকার উন্নয়ন উভয় জায়গার চলচ্চিত্র নির্মাতাদের আরও সুযোগ দেবে। তিনি আশা করেন যে, হংকংয়ের তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের উচিত কুয়াংতং-হংকং-ম্যাকাও বৃহত্তম উপসাগরীয় এলাকার সুবিধা গ্রহণ করে এই অঞ্চলের উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরো ভালোভাবে চীনা গল্প বলার চেষ্টা করা। সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে তিনি তরুণদের সাথে কাজ করবেন।

লিলি/তৌহিদ