মার্কিন মুদ্রাস্ফীতির নেতিবাচক প্রভাব
2022-06-24 18:09:21

সাম্প্রতিক খবরে দেখা গেছে- চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে মার্কিন মুদ্রাস্ফীতি। বর্তমানে তা সাত শতাংশের বেশি। এ বিষয়ে সতর্ক করেছে দেশটির সর্বোচ্চ ব্যাংক। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতি পাঁচ দশমিক পাঁচ শতাংশ হয়েছিল। এদিকে আর্থিক বিশ্লেণধর্মী প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান শ্যাসে জানায়- মুদ্রাস্ফীতি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি আরও খারাপ হবে। মার্কিন মুদ্রাস্ফীতির এই চাপ বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রভাব ফেলবে।

 

সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আমেরিকায় ভোক্তা মূল্য সূচক গত এক বছরে ৮.৬% বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু, এপ্রিল থেকে মে মাসেই বেড়েছে ১%। এর আগে ১৯৮১ সালের শেষের দিকে এভাবেই মার্কিন অর্থনীতি মুদ্রাস্ফীতির জ্বালায় নাজেহাল হয়েছিল। তবে, এবার বিষয়টিকে প্রথম থেকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি সমস্যার সমাধান করতে পারবেন বলেই মনে করছে মার্কিন অনেক আর্থিক বিশেষজ্ঞরা।

 

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন জনগণকে জানিয়েছিল, অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য তারা সবরকম ব্যবস্থা নেবে। এই ব্যবস্থাপনার আলোকে শিগগিরই মার্কিন অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করা হয়েছিলো। মার্কিন অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত দীর্ঘ সময় ধরে মুদ্রাস্ফীতি সমস্যার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। এদিকে, বিশ্ব ব্যাংক বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসের হার কমিয়ে বলেছে- আরও বহু দেশ অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছে।

জ্যানেট ইয়েলেন জানান, হোয়াইট হাউজ মুদ্রাস্ফীতির বিষয়টি পর্যালোচনা করবে। কারণ, মহামারীর আগের তুলনায় এ বছর দেশে জিনিসপত্রের দাম দ্বিগুণ বেড়েছে। তিনি বলছিলেন, আমার ধারণা, মার্কিন মুদ্রাস্ফীতির হার বেশিই থাকবে। যদিও তাঁর প্রত্যাশা হলো- মুদ্রাস্ফীতি কমে যাক।

 

পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামও বেড়েই চলেছে। এর অন্যতম কারণ হলো- রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ। এ কারণে বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যের দামও বেড়েছে। গ্যাস ও অন্যান্য পেট্রোপণ্যের দাম বাড়ার জন্য সব জিনিসেই তার বহুমাত্রিক প্রভাব পড়েছে। যার মূল ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। আর্থিক বিশেষজ্ঞরা চেয়েছিলেন মুদ্রাস্ফীতিকে ২%-এ আটকে রাখতে। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত দেখা গিয়েছে তা পারা যায়নি।

 

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদহার বৃদ্ধি বাংলাদেশে মুল্যস্ফীতি ডেকে আনতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বাংলাদেশের আর্থিক বিশ্লেষকরা। সাড়ে ৮ শতাংশের বেশি মূল্যস্ফীতিকে ২ শতাংশে নামিয়ে আনার যে চেষ্টা মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক- ফেডারেল রিজার্ভ করছে, তাতে বাজারে ডলারের সরবরাহ কমছে। আর সেই প্রেক্ষাপটেই নীতি সুদের হার বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত মার্চের পর এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো সুদের হার বাড়ালো ফেড। সামনের মাসগুলোতে তা আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে ফেড।

 

ফেডের সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতিতে। ইউক্রেন যুদ্ধ ও ডলার সংকটের কারণে ইতোমধ্যে দেশের পণ্য ও মুদ্রা বাজারে চলছে অস্থিরতা। নতুন করে ফেডের সুদ হার বৃদ্ধি এই অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করেন বাংলাদেশের আর্থিক বিশ্লেষকরা। এ অবস্থায় বাজারে দেখা দেবে দেবে মূল্যস্ফীতি। তখন বাজার থেকে নিত্যপণ্য কিনতে ভোক্তাকে দিতে হবে বাড়তি অর্থ।