প্রসঙ্গ: কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বের সম্পর্ক উন্নয়নে চীন ও শ্রীলংকার সদিচ্ছা
2022-01-10 13:11:17

জানুয়ারি ১০: স্থানীয় সময় গতকাল (রোববার) চীনের রাষ্ট্রীয় কাউন্সিলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই কলম্বোতে শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে, ও প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের সঙ্গে চীন-শ্রীলংকা কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৬৫তম বার্ষিকী এবং ‘চালের বিনিময়ে রবার অর্জনের চুক্তি’ স্বাক্ষরের ৭০তম বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।

 

এতে শ্রীলংকা প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে আবারও চীনের কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠার শততম বার্ষিকীর অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, শ্রীলংকা ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ ইতিহাস সুদীর্ঘকালের। চলতি বছর হল দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৬৫তম বার্ষিকী এবং ‘চালের বিনিময়ে রবার অর্জন চুক্তি’ স্বাক্ষরের ৭০তম বার্ষিকী। যার দ্বিপক্ষীয়  সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তাত্পর্য রয়েছে। চীন হল শ্রীলংকার মহান বন্ধু। শ্রীলংকা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। চীন কখনোই শ্রীলংকার অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করে না, শ্রীলংকা এর প্রশংসা  করে। দেশের অর্থনীতি ও সমাজের উন্নয়নে চীন দীর্ঘকাল ধরে যে সমর্থন দিয়ে আসছে, তাঁর দেশ এ জন্য চীনকে ধন্যবাদ জানায়। চীন সবসময় শ্রীলংকার প্রয়োজনের সময় সাহায্য করে, শ্রীলংকাকে বিপুল পরিমাণে করোনাভাইরাসের টিকা ও মহামারি প্রতিরোধ সামগ্রী দিয়েছে, তিনি চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণ করতে, বাস্তব ভিত্তিক সহযোগিতা ঘনিষ্ঠতর করতে এবং যৌথভাবে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে ইচ্ছুক।

 

ওয়াং ই বলেন, চীন ও শ্রীলংকার মৈত্রী সুদীর্ঘকালের। ফা-হিয়েন এবং চ্য হো’র মতো ব্যক্তিরা দু’দেশের জনগণের বিনিময়ের জন্য সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করেছেন। ‘চালের বিনিময়ে রবার অর্জন চুক্তি’  শক্তির দাপটকে ভয় না-পাওয়ার দৃঢ় সংকল্পের প্রতিফলন। ১৯৫৭ সালে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন থেকে দু’দেশ সবসময় পরস্পরকে সম্মান করে এবং সমর্থন দিয়ে আসছে। ২০১৪ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং শ্রীলংকায় ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় সফর করেছিলেন এবং দু’দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতার নতুন সূচনা করেছিলেন।

 

ওয়াং ই বলেন, চীন ও শ্রীলংকা ভালো বন্ধু। কোভিড-১৯ মহামারি শুরুর পর প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে শ্রীলংকা সরকার ও জগনণের পক্ষ থেকে দুই বার চীনকে সিলন লাল চা প্রদান করেছেন। চীনও শ্রীলংকাকে বিপুল পরিমাণের করোনাভাইরাসের টিকা ও মহামারি প্রতিরোধ সামগ্রী দিয়েছে।

 

চীন ও শ্রীলংকা সহযোগিতার ভালো অংশীদার। শ্রীলংকা হল দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ‘এক অঞ্চল, এক পথ’ উদ্যোগ নির্মাণের গুরুত্বপূর্ণ দিক। বন্দর নগরের প্রথম পর্যায়ের নির্মাণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নতুন প্রকল্প শুরু হতে যাচ্ছে। কলম্বো বন্দর সহযোগিতা পরিচালনার উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। যা শ্রীলংকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ সৃষ্টি করেছে।

 

চীন ও শ্রীলংকা পরস্পরকে সমর্থনকারী ভালো ভাই। শ্রীলংকা সবসময় এক চীন নীতি মেনে চলে, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ব্যাপারে চীনের ন্যায্য অবস্থানকে সমর্থন করে। চীন দৃঢ়ভাবে শ্রীলংকার রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভূখন্ডের অখন্ডতাকে রক্ষার চেষ্টাকে সমর্থন করে।

 

ওয়াং ই জোর দিয়ে বলেন, বর্তমানে বিশ্বের মহামারি অবস্থা গুরুতর হচ্ছে, অর্থনীতির পুনরুদ্ধার কঠিন হচ্ছে। তাই দু’দেশের উচিত আরো ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করা। দু’দেশের উচিত যৌথভাবে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা, সুযোগ শেয়ার করা, উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা, দু’দেশের কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বের সম্পর্ককে সম্প্রসারণ করা, দু’দেশ ও দু’দেশের জনগণের জন্য আরো বেশি কল্যাণ সৃষ্টি করা।

 

ওয়াং ই আরো বলেন, দু’দেশের উচিত হাতে হাত রেখে মহামারি প্রতিরোধ করা। চীন শ্রীলংকার চাহিদা অনুযায়ী, মহামারি প্রতিরোধ সামগ্রী দেবে, শ্রীলংকার সঙ্গে টিকা ও বিশেষ ওষুধের সহযোগিতা করবে, উচ্চ মানের ‘এক অঞ্চল, এক পথ’ নির্মাণ ত্বরান্বিত করবে, এবং বহুপক্ষবাদের সমর্থন করবে।

 

ওয়াং ই দু’দেশের মৈত্রী চিরন্তনের শুভকামনাও করেছেন।

(শুয়েই/এনাম/জিনিয়া)