উন্নয়নশীল দেশের জন্য চীনা বাজার খুলে দিয়েছে সিআইআইই
2021-11-09 15:53:40

 

গত ৬ নভেম্বর রাতের একটি লাইভ অনুষ্ঠান সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। চতুর্থ চীন আন্তর্জাতিক আমাদিন মেলা (সিআইআইই) শাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানকার একটি স্টুডিওতে সিএমজির বিখ্যাত উপস্থাপিকা ওয়াং পিং পিং ও চীনের বৃহত্তম ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম গোল্ড অ্যাঙ্করের লি চিয়া ছি লাইভ অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন। তাতে জাপান, থাইল্যান্ড, আফাগানিস্তানসহ এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশের ২৩টি বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন পণ্যের পরিচয় করিয়ে দেন তাঁরা। অনুষ্ঠানটি নানা  প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত হয় এবং তিন ঘন্টার অনুষ্ঠানটি মোট ৪ কোটি ২০ লাখ বার দেখা হয়। তাতে বিক্রয়ের মোট পরিমাণ ছিল ছয় কোটি ইউয়ানের বেশি। এর মধ্যে আফগানিস্তানের পাইন বাদাম ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয় পণ্যগুলোর অন্যতম। ফলে দুই ঘন্টায় ২৬ টন পাইন বাদাম বিক্রি হয়।

তার মাধ্যমে ১৪০ কোটি মানুষের একটি ভোগ্য বাজারে এই পাইন বাদাম জায়গা করে নিয়েছে। বিশেষ করে আফগানিস্তানের জন্য প্রতিবেশী দেশ চীনে এমন একটি লাইভ অনুষ্ঠান তাদের নতুন আশা প্রদান করেছে।

আসলে আফগান ছাড়াও সিআইআইই বিশ্বের নানা উন্নয়নশীল দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করছে। অধিকাংশ উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল, তবে এখানে তারা উন্নত দেশের সাথে ন্যায্য প্রতিযোগিতা করতে পারছে। শুধু উন্নত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, উচ্চ-মানের নির্মাণ শিল্প বা বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের জন্য চীনা বাজার খুলে দেয়া হয়েছে, তা কিন্তু নয়; বেশির ভাগ উন্নয়নশীল দেশ তাদের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন কৃষি বা হস্তনির্মিত পণ্য এই মেলায় আনতে পারছে। বিশ্বের ১২৭টি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ৩,০০০টি কোম্পানি এবারের মেলায় অংশগ্রহণ করেছে এবং এর মধ্যে বিদেশী মাঝারি ও ছোট আকারের কোম্পানির সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি। এই মেলায় আমরা নানা দেশের বিখ্যাত ব্র্যান্ড ছাড়াও ফিলিপাইনের আম, তুর্কি আইসক্রিম, ও বাংলাদেশের পাটসহ নানা দেশের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন পণ্য দেখেছি।

বাংলাদেশের ব্যবসায়ী মুহাম্মদ জাকির হোসেন খান দেশের ঐতিহ্যিক মেহেদির তৈরি চুলের রঙ এবারের মেলায় নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, সিআইআইই বিদেশী পণ্য ও বিদেশী কোম্পানির জন্য বড় একটি সুযোগ সৃষ্টি করেছে। চীন সরকার এমন একটি প্ল্যাটফর্ম দিয়েছে, যেখানে চীনা বাজারে বিদিশী পণ্য প্রদর্শন করা যাচ্ছে।

 

এই মেলার মাধ্যমে চীনা ভোক্তারা বিদেশী ভাল মানের পণ্য দেখতে ও কিনতে পারছে। বিদেশী ব্যবসায়ীরাও চীনা বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে।

এবারের মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং তাঁর ভাষণে চীনের উন্মুক্তকরণের নানা নতুন ব্যবস্থা উত্থাপন করেন এবং প্রতিবেশী দেশ থেকে আমদানি বাড়ানো এর মধ্যে একটি। প্রেসিডেন্ট সির এ কথা বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশের জন্য একটি প্রতিশ্রুতি এবং উত্সাহ। আমরা আশা করি, অদূর ভবিষ্যতে চীনে আরও বেশি বাংলংদেশী পণ্য পাওয়া যাবে। (শিশির/এনাম/রুবি)