Web bengali.cri.cn   
উত্তর-পশ্চিম চীনের প্রথম জাতীয় পর্যায়ের উন্নয়ন অঞ্চল
  2012-10-05 19:35:27  cri

 চীনের রাষ্ট্রীয় পরিষদের অনুমোদনক্রমে দেশের পঞ্চম জাতীয় উন্নয়ন অঞ্চল -- লানচৌ নয়া অঞ্চল -- সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটা হচ্ছে উত্তর-পশ্চিম চীনের প্রথম জাতীয় পর্যায়ের উন্নয়ন অঞ্চল। এ উন্নয়ন অঞ্চলের প্রতিষ্ঠা হচ্ছে পশ্চিম চীনের মহাউন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা।

১৯৯২ সাল থেকে চীন সরকার পর পর শাংহাইয়ের ফুতুং নয়া অঞ্চল, থিয়েনচিন বিনহাই নয়া অঞ্চল, ছোংছিংয়ের লিয়াংচিয়াং নয়া অঞ্চল আর চেনচিয়াংয়ের চৌশান নয়া অঞ্চল -- এ চারটি জাতীয় পর্যায়ের উন্নয়ন অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করেছে। এ অঞ্চলগুলো আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সম্প্রতি চীনের রাষ্ট্রীয় পরিষদের তথ্য কার্যালয় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সর্বশেষ প্রতিষ্ঠিত লানচৌ নয়া অঞ্চলের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়। লানচৌ নয়া অঞ্চল কানসু প্রদেশের লানচৌ শহরে অবস্থিত। এর পরিকল্পিত নির্মাণ আয়তন ২৪৬ বর্গকিলোমিটার। জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশনের পশ্চিম চীনের উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ছিন ইয়ু ছাই বলেন, পঞ্চম জাতীয় পর্যায়ের উন্নয়ন অঞ্চল লানচৌতে প্রতিষ্ঠার কারণ হচ্ছে তার ভৌগোলিক প্রাধান্য ও কৌশলগত মর্যাদা। তিনি বলেন, "কৌশলগত মর্যাদার দিক থেকে কানসু প্রদেশ চীনের গোটা উন্নয়ন পরিস্থিতিতে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আছে। তার ভৌগোলিক মর্যাদা ও প্রাকৃতিক মর্যাদা উভয় গুরুত্বপূর্ণ। তা ছাড়া কানসু প্রদেশের গোটা আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের দিক থেকে বলতে গেলে লানচৌ নয়া অঞ্চলের প্রতিষ্ঠাও খুব প্রয়োজনীয়।"

জানা গেছে, লানচৌ নয়া অঞ্চল হবে উত্তর-পশ্চিম চীনের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি-স্থান, দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকেন্দ্র, পশ্চিমমুখী উন্মুক্তকরণের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্লাটফর্ম আর শিল্প স্থানান্তরের দৃষ্টান্ত অঞ্চল। প্রেস ব্রিফিংয়ে কানসু প্রদেশের গভর্নর লিউ ওয়েই পিং বলেন, ভবিষ্যতে লানচৌ নয়া অঞ্চল শিল্প যন্ত্রপাতি উত্পাদন শিল্প, তৈলরাসায়নিক শিল্প, জৈব ওষুধ আর উচ্চ ও নতুন প্রযুক্তি ক্ষেত্রের ওপর গুরুত্ব দেবে। তিনি আশা করেন, আরো বেশি শক্তিশালী শিল্পপ্রতিষ্ঠান লানচৌ নয়া অঞ্চলে আসবে। তিনি বলেন, "উত্পাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে পূর্ব চীন ও মধ্য চীনের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতাক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। তবে তাদের উত্পাদন-প্রযুক্তি উন্নত মানের। তারা লানচৌ নয়া অঞ্চলে স্থানান্তরিত হতে পারে। আমাদের লানচৌ নয়া অঞ্চলের ভৌগোলিক প্রাধান্য আছে। পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের তুলনায় এখানকার জমির ব্যয়, বিদ্যুত খরচ ও শ্রমশক্তির ব্যয় অপেক্ষাকৃত কম। ফলে লানচৌ নয়া অঞ্চলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের পরিমাণ আরো বৃদ্ধি হওয়ার ব্যাপারে আমি আস্থাবান।"

কানসু হচ্ছে পশ্চিম চীনের স্বল্পোন্নত অঞ্চল। উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশনের পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ছিন ইয়ু ছাই জানিয়েছেন, লানচৌ নয়া অঞ্চলকে সমর্থন দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার পরবর্তীকালে আরো নতুন ব্যবস্থা চালু করবে। তিনি বলেন, "নতুন অঞ্চলের অবকাঠামো নির্মাণের ওপর আরো বেশি গুরুত্ব এবং সংশ্লিষ্ট কাজকে অগ্রাধিকার ও সহায়তা দেওয়া হবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণদান বাড়াতে উত্সাহ দেওয়া হবে। তা ছাড়া নতুন অঞ্চলে উপযুক্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার-ভিত্তিতে অনুমোদন দেওয়া হবে।"

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১৫ সালে লানচৌ নয়া অঞ্চলের শহুরে কাঠামো, শিল্পব্যবস্থা আর সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে। ২০২০ সাল নাগাদ সেটি মোটামুটি সুসম্পন্ন আধুনিক নতুন অঞ্চল হিসেবে গড়ে উঠবে। তখন সে অঞ্চলের উত্পাদনের মোট পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ইউয়ান রেনমিনপির বেশি হবে।

লানচৌ নয়া অঞ্চলের প্রতিষ্ঠা স্থানীয় জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, বিশেষ করে যাদের জীবনে এ নতুন অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রভাব পড়েছে। যেমন সরকার স্থানীয় অধিবাসী তেং ইয়ু ছাইয়ের বাড়ির জমি অধিগ্রহণ করেছে। এর জন্য সরকার তাঁকে দুটি নতুন বাড়ি দিয়েছে। ভবিষ্যত জীবন সম্পর্কে তিনি বলেন, "সরকার আমাদের জন্য বার্ধক্যবিমার ব্যবস্থা করেছে। পুরুষ ৬০ বছর বয়স আর নারী ৫৫ বছর বয়স হলে বার্ধক্যবিমা পাবেন। এভাবে তারা জীবনের নিশ্চয়তা পেতে পারে। এটা খুব ভালো। ভবিষ্যতে আমাদের বংশধররা আমাদের চেয়েও ভালো জীবন উপভোগ করতে পারবে।" (ইয়ু/এসআর)

মন্তব্য
লিঙ্ক