লিন লিকে ইউয়ুনান উত্পাদন নির্মাণ বাহিনীতে পাঠানো হয়েছে। সেখানে পৌঁছার পর তিনি উপলব্ধি করেছেন যে, গ্রামের বিস্তীর্ণ ভূমিতে কৃষি কাজ করতে চাওয়া সহজ নয়।
তিনি বলেন, 'আমরা যে শস্য খেতাম, সবই ছয় বা আট বছর আগের পুরনো শস্য। ভাত খেতে কাঠের মতো, নেই কোন স্বাদ। আমাদের থাকার ঘর বাঁশ দিয়ে তৈরী। ঘাস দিয়ে ছাদ নির্মিত হয়। একটু অগ্নিকণা থাকলে গোটা অঞ্চলের বাড়িঘর এক মিনিটের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যায়।'
গ্রামের কঠিন অবস্থায় লিন লি ও তার বন্ধুদের জীবনের অবস্থা পরিবর্তনের প্রয়াসের আস্থা কখনো হারায় নি। তিনি বলেন, 'যদিও সঠিক নীতি না থাকলে সেখানকার অবস্থার কোন আমূল পরিবর্তন হবে না। তবুও এ সুযোগে আমরা অন্যজনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারি।'
ফলে পেইচিংয়ে ফিরে আসার সময় লিন লি সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে নির্মাণ বাহিনীর সমস্যা অবহিত করেছেন। এ কারণে পরের বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক আন্দোলনে লিন লির চাকরি ও জীবনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
১৯৭৬ সালে লিন লি তাঁর জীবনের সর্বনিম্ন পর্যায়ে উপনিত হওয়ার সময় গোটা চীনও এক অভূত বিপদজনক যুগে ছিল। মাও ছে তুং, চৌ এন লাই ও চু তে নয়া চীনের এ তিন'জন প্রতিষ্ঠাতা এ বছরেই পর পর মারা যান। ২৮ জুলাই ভোরবেলায় হোপেই প্রদেশের থাংশান শহরে আকস্মিকভাবে রিখটার স্কেলের ৭.৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়। থাংশান শহর এক রাতে ধ্বংস স্তুপে পরিণত হয় এবং ৪ লাখেরও বেশি লোক এতে হতাহত হয়েছে।
একই বছরের অক্টোবর মাসে চীনে ভোরের আলো দেখা দেয়। হুয়া কুও ফাং, ইয়ে চিয়ান ইং ও লি সিয়ান নিয়ানের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় পলিট ব্যুরো দ্ব্যর্থহীনভাবে চালানো দশ বছর স্থায়ী মহা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের অবশান ঘটান। চীনের ইতিহাসের পরিবর্তন তখন থেকেই শুরু হয়।
লিন লি গ্রামে যাওয়ার দশম বছরে তাঁর ভাগ্য বদলে যায়। ১৯৭৭ সালে চীন সরকার ১১ বছর বন্ধ থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়। সে বছরের শীতকালে ৫৭ লাখ ছাত্রছাত্রী এ পরীক্ষায় অংশ নেয়। লিন লি তাঁর স্বামীর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। তিনি বলেন, 'আমরা এ খবর জানার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার কেবল ৪০ দিন বাকি। প্রতিদিন কাজ শেষ করে বাসায় ফিরে গিয়ে রাত ৮টা থেকে ভোর চারটা পর্যন্ত আমি ও আমার স্বামী একসঙ্গে লেখাপড়া করি। আমরা উভয়ে প্রথম ৬০ জনের মধ্যে প্রবেশ করেছি। আমি পেইচিং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি।'
১৯৭৮ সালের শেষ দিকে চীনের ১১তম কেন্দ্রীয় কমিটির তৃতীয় পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন পেইচিংয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এ অধিবেশনে জনগণের মনোযোগ সমাজতন্ত্রের আধুনিক নির্মাণকাজের ওপর হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ অধিবেশন আয়োজনের কয়েক দিন আগে, আনহুই প্রদেশের ফাংইয়াং জেলার সিয়াওকাং গ্রামের ১৮টি কৃষক পরিবার 'জমিকে কৃষক পরিবারের মধ্যে বন্টন ভাগ করার চুক্তিতে' স্বাক্ষর করেছেন।
সিয়াও কাং গ্রামের কৃষকদের সাহসিক আচরণ লি মিং ছাই ও সারা চীনের কৃষকদের জীবনে পরিবর্তন এনেছে।
১৯৭৮ সালের গ্রীষ্মকালে ফাংইয়াংয়ে খরা হলে গ্রীষ্মকালীন ফসল গ্রহণের সময় সিয়াও কাং গ্রামের প্রতিটি কৃষক কেবল চার কেজি গম পেয়েছেন। বেঁচে থাকা ও পেট ভরে খাওয়ার জন্য এ গ্রামের ১৮ জন কৃষক ২৪ নভেম্বর রাতে গোপনে উত্পাদন দলের জমি বিভিন্ন কৃষক পরিবারের মধ্যে বন্টন করার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জমি চাষের পর রাষ্ট্রীয় গুদামে যথাযথ পরিমাণের ফসল জমা দেয়ার পর বাকিগুলো সব নিজেদের কাছে থাকবে।
সিয়াও কাং গ্রামের সংস্কার থেকে চীনের 'পরিবারের যৌথ টিকা দায়িত্বশীল ব্যবস্থায়' পরিণত হয়েছে। তেং সিয়াও পিংসহ চীনের নেতাদের সমর্থনে খুব দ্রুত এ ব্যবস্থা সারা চীনে সম্প্রসারিত হয়েছে। এ সংস্কারের মূল বিষয় হলো কৃষক পরিবারগুলোকে দীর্ঘমেয়াদের জন্য জমি চাষ ও পরিচালনার অধিকার দেয়া। এ সংস্কারের মধ্য দিয়ে চীনের ত্রিশ বছর সংস্কার ও উন্মুক্তকরণের দ্বার খুলেছে। লি মিং ছাইয়ের পরিবার কয়েক মু জমি বন্টন করার পর লাভজনক চেস্টনাট গাছ লাগিয়েছে। লি মিং চাইয়ের মতো গ্রামাঞ্চলের অর্থনৈতিক সংস্কারের সাহায্যে চীনের বিপুল সংখ্যক কৃষকের আয় উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়েছে। (ইয়ু কুয়াং ইউয়ে) |